ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩১:৪০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দেশে এসেছে ৩ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট আচরণবিধি লঙ্ঘন: চাঁ.গঞ্জে দুইটি তোরণ ভেঙে দিল প্রশাসন ভোটের দিন মেট্রোরেল চলবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব :ডা. জুবাইদা তারেক রহমানের উদ্দেশে বিদিশার খোলা চিঠি

রাস্তায় ময়লার পাহাড়, কোথায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা?

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৩ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানী ঢাকার রাস্তায় বেরোলেই প্রথম যে জিনিসটি চোখে পড়ে, তা হলো যানজট নয়—ময়লার স্তূপ। ফুটপাত, সড়কের পাশ, এমনকি রাস্তার মিডিয়ান পর্যন্ত এখন পরিণত হয়েছে খোলা ভাগাড়ে। প্রশ্ন উঠছে—নগর কর্তৃপক্ষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তাহলে কোথায়?

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় ময়লার স্তূপে নগরবাসীর ভোগান্তি। ঠিকমতো ময়লা না নেয়ার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে বলে বলছেন স্থানীয়রা। রাস্তার পাশে অনেক এলাকায় স্তুপ আকারে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালী ময়লা-অবর্জনা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, অনেক এলাকায় নিজেরাই ময়লা রাস্তার পাশে ফেলে রাখছেন। এতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তার উপর ময়লা রাখার কারণে সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে। ময়লার দুর্ঘন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

ফুটপাত ছিল পথচারীদের চলাচলের জায়গা। অথচ এখন সেখানে জমে আছে পচা খাবার, পলিথিন, পরিত্যক্ত আসবাব ও নির্মাণবর্জ্য। মানুষ বাধ্য হয়ে হাঁটছে মূল সড়কে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখেও যেন দেখার কেউ নেই।

রাস্তার মিডিয়ানগুলোতেও একই অবস্থা। যেখানে গাছ লাগিয়ে শহরকে শীতল ও সবুজ রাখার কথা, সেখানে দিনের পর দিন জমে থাকছে আবর্জনা। বৃষ্টি হলে সেই ময়লার পানি গিয়ে মিশছে সড়কে। সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ ও জলাবদ্ধতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত ময়লা সংগ্রহের ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
এক বাসিন্দা বলেন, “ডাস্টবিন আছে, কিন্তু সপ্তাহে একবারও পরিষ্কার হয় না। তখন আমরা কোথায় ফেলবো? বাধ্য হয়েই রাস্তায় ফেলতে হয়।”

অন্যদিকে দোকানদারদের ভাষ্য, গভীর রাতে ট্রাকভর্তি ময়লা এনে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
এক দোকান কর্মচারী বলেন, “ভোরে দোকান খুলে দেখি সামনে পুরো ময়লার পাহাড়। কে ফেলে গেছে, কেউ জানে না।”

এই ময়লার স্তূপ শুধু দৃষ্টিকটু নয়, এটি এখন জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি। খোলা জায়গায় জমে থাকা বর্জ্যে জন্ম নিচ্ছে মশা ও মাছি। ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগ। আশপাশের স্কুল ও হাসপাতাল এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
তাঁদের মতে, “বর্জ্য সংগ্রহ, আলাদা করা ও নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ—এই তিন ধাপের কোনোটিই ঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।”

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে একই দৃশ্য চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে ‘পরিষ্কার অভিযান’ হয়, ছবি তোলা হয়, তারপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তা।

প্রশ্ন উঠছে—নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার বাজেট কোথায় ব্যয় হচ্ছে? কেন ফুটপাত ও মিডিয়ান রক্ষা করার দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না? ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান থাকলে, তা ব্যবহার হচ্ছে না কেন?

নগরবাসীর মতে, দায় শুধু মানুষের নয়। নিয়মিত সংগ্রহ না হলে এবং নজরদারি না থাকলে মানুষ রাস্তাতেই ময়লা ফেলতে বাধ্য হয়। ফলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও।

শহরকে বসবাসযোগ্য রাখতে হলে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। নিয়মিত ময়লা অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, মিডিয়ান পরিষ্কার রাখা এবং অবৈধভাবে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে জরিমানা—এই পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি বদলাবে না।

নইলে রাস্তাগুলো কেবল যান চলাচলের পথ নয়, স্থায়ী ভাগাড়ে রূপ নেবে। তখন শহর থাকবে নামেমাত্র, বাস্তবে তা হবে আবর্জনার নগরী।