ঢাকা, সোমবার ২৩, মার্চ ২০২৬ ০:৫২:১০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
একাত্তরে গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১২ দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সিদ্ধান্ত ফিফার কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা: ২ গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে ৩ কমিটি অনেক নারী এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত: এড. দিলশাদ

ইয়েমেনে অভিনেত্রীকে দিতে হলো কুমারীত্বের পরীক্ষা

বিনোদন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:০২ পিএম, ৪ জুলাই ২০২১ রবিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ইয়েমেনের একজন অভিনেত্রী ও মডেলকে অশালীন আচরণ এবং মাদক রাখার অভিযোগে মামলা দিয়েছে দেশটির হুথি বিদ্রোহীরা। এছাড়া তাকে কুমারীত্ব প্রমাণের পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। ওই মডেলের নাম ইনতিসার আল হাম্মাদি।

তবে ২০ বছর বয়সী এই মডেল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার কারাগারে তাকে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আটক রাখা হয়েছে। সেখানে ওই মডেল আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছেন বিবিসি বাংলা।

এদিকে, ওই মডেলের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, ইনতিসার আল হাম্মাদিকে যারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে, তাকে বাক্যবাণে হয়রানি করেছে, বর্ণবাদী অপমানজনক কথাবার্তা বলেছে এবং চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে একটি নথি সই করতে বাধ্য করেছে। এমনকি, তাকে কুমারীত্ব পরীক্ষা দিতেও বাধ্য করেছে।

আইনজীবী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে আরও বলেছেন, হাম্মাদির মামলার কাগজপত্র দেখতে তাকে বাধা দেয়া হয়েছে এবং এ মাসের গোড়ার দিকে হাম্মাদিকে দুইবার যখন আদালতে হাজিরা দিতে হয়, তখন তার আইনজীবীকে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতেও দেয়া হয়নি।

হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যদিও তারা মডেল হাম্মাদির এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

মডেল হাম্মাদির বাবা ইয়েমেনি এবং মা ইথিওপিয়ান। তিনি চার বছর ধরে ইয়েমেনে মডেল হিসাবে কাজ করছেন। এছাড়া ইয়েমেনের দুটি টেলিভিশন সিরিজেও অভিনয় করেছেন

তার আইনজীবী বলেছেন, হাম্মাদি গত ২০ ফেব্রুয়ারি সানায় আরও তিনজনের সাথে যখন গাড়িতে যাচ্ছিলেন, তখন হুথি বাহিনীর সদস্যরা গাড়িটি থামায় এবং সবাইকে গ্রেপ্তার করে। হাম্মাদিকে চোখ বেঁধে ফৌজদারি তদন্তকারী সংস্থার একটি দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ১০ দিন আটকে রাখা হয়। সে সময় কারো সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি বলে জানান তার আইনজীবী।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মে মাসের শেষ দিকে একদল মানবাধিকার কর্মী ও একজন আইনজীবী যাদের হাম্মাদির সঙ্গে জেলখানায় দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল, তারা বলেন, যারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন, তারা হাম্মাদিকে চোখ বাঁধা আবস্থায় একটি নথিতে সই করতে বাধ্য করেন।

গত মার্চ মাসে হাম্মাদিকে সানার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তার আইনজীবী বলছেন, সেখানে কারারক্ষীরা তাকে ‘বেশ্যা’ এবং ‘ক্রীতদাসী’ বলে ডাকতো। কারণ তার মা ইথিওপিয়ান বলে হাম্মাদির চামড়া কিছুটা কৃষ্ণবর্ণ। তাকে জোর করে ‘কুমারীত্ব পরীক্ষার’ উদ্যোগও নেয়া হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘কুমারীত্ব প্রমাণের পরীক্ষার’ কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটা কোনো নারীকে কুমারী বলে চিকিৎসাগত কোনো ইঙ্গিত দেয় না এবং এটি মানবাধিকারের লংঘন। সূত্র: বিবিসি

-জেডসি