ঢাকা, বুধবার ২৫, মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৮:২৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
চলে গেলেন `সুপারম্যান` সিনেমার অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. জুবাইদা ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন জাবি ছাত্রী শারমীন হত্যা: স্বামী ফাহিম ২ দিনের রিমান্ডে

কলকাতায় বসে `লক্ষ্মীর পাঁচালি` পড়ছেন ইউক্রেনের মেয়ে ইরিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৪৫ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজনৈতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ইউক্রেনে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনারা। যুদ্ধের তৃতীয় দিন (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার সেনাদের সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাদের লড়াই চলছে। ফলে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে কারফিউ জারি হয়েছে।

এদিকে কলকাতায় বসে নিজের দেশ ও পরিবারের চিন্তায় অস্থির সময় পার করছেন ইউক্রেনের মেয়ে ইরিনা। বিবাহসূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইউক্রেন ছেড়ে ভারতে এসেছেন। কিন্তু গত দু’দিনে তার মনের ভেতরটা ওলটপালট হয়ে গেছে। বারবার ফোন করছেন সুদূর ইউক্রেনে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দেশটিতে বেশিরভাগ সময়েই কথা বলা যাচ্ছে না।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার গৃহবধূ ইরিনার পরিবারে রয়েছে বয়স্ক বাবা-মা ও একমাত্র ছোট ভাই সার্গেই। এছাড়াও আছেন শয্যাশায়ী ঠাকুমা। ইরিনার ছোট ভাই গেলো তিন বছর সামরিক বাহিনীতে কাটিয়ে সদ্যই বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশে এখন তাকে যুদ্ধে যেতে হবে। এই মুহূর্তে ছোট ভাইটির কথা খুব মনে পড়ছে ইরিনার। কিন্তু ভাইয়ের কাছে ছুটে যাওয়ার সুযোগ নেই! কলকাতা থেকে প্রায় পৌনে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিজের মাতৃভূমিতে কী হচ্ছে- সংবাদমাধ্যমে তার চিত্র দেখে শিউরে উঠছেন ইরিনা।

তিনি বলেন, 'এত দূরে বলে ঘনঘন যাওয়া হয় না। দুই-তিন বছর পর পর যাই। এখন মনে হচ্ছে, এক ছুটে চলে যাই। কিন্তু উপায় নেই। প্রভু যিশুর কাছে দিন-রাত প্রার্থনা করছি। খ্রিস্টান হলেও আমি বাঙালি ঘরের হিন্দু রীতি রেওয়াজ সব মানি। শাশুড়ি মা আমাকে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়া শিখিয়েছেন। বারবার ঠাকুরের আসনের সামনে পাঁচালি নিয়ে বসে পড়ছি। যিশু বা মা লক্ষ্মী, যেই হোন তিনি যেন আমার পরিবার, আমার দেশকে রক্ষা করেন।'

স্বামী-সন্তানের সঙ্গে ইউক্রেনের মেয়ে ইরিনা

শুধু ইরিনা নন, শ্বশুরবাড়ির দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সমান উদ্বেগে আছেন তার চিকিৎসক স্বামী সৌরভ দে। হাওড়ার আন্দুল থেকে ইউক্রেনের টের্নোপিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে পড়তে গিয়েছিলেন সৌরভ। ২০০৪ সালে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময়েই টের্নোপিল শহরের বাসিন্দা ইরিনা প্রিতলিউকের সঙ্গেপরিচয় হয় তার। এরপর প্রেম ও পরিণয়। ২০০৯ সালে বিয়ের পরে ইরিনা চলে আসেন হাওড়ায়। পরবর্তীতে দমদমে বসবাস শুরু করেন তারা।

সৌরভ বলেন, 'গতকাল সারাদিন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে একবার পেয়েছিলাম। ওখানে বিদ্যুৎ নেই। ফোন, ইন্টারনেট সব পরিসেবাই বিঘ্নিত। যে যেখানে পারছে আশ্রয় নিচ্ছে। আমার শ্বশুরবাড়ির সকলেই এখনও নিজেদের বাড়িতেই রয়েছেন। তবে খাবারের খুবই অভাব। কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। এটিএম-এ টাকা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কেউ কোথাও যেতে পারবেন না। ফলে তাদের যে কলকাতায় নিয়ে আসবো সে উপায়ও নেই।'

বাবা-মা'র উদ্বেগ দেখে ইরিনার আট বছরের মেয়ে অদ্রিজারও মন খারাপ। জন্মের পর মাত্র তিনবার নানাবাড়ি গেলেও নানা-নানী তার খুব পছন্দের মানুষ। তাদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছে ছোট্ট মেয়েটি। সারাদিন টিভির সামনে বসে ইউক্রেনের অবস্থা দেখে অদ্রিজার একই প্রশ্ন- 'সব ঠিক হয়ে যাবে তো!'

সূত্র: আনন্দবাজার