ঢাকা, সোমবার ১০, মে ২০২১ ১:৪১:০৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৫৬ মার্কেটে মানুষের ঢল, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়: প্রধানমন্ত্রী ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েনের পরও ঘরমুখো মানুষের ঢল কাবুলে বিস্ফোরণে নিহত ৫৫ জনের অধিকাংশই ছাত্রী আজ মা দিবস, মাগো…ওগো দরদিনী মা

কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘অ্যাডরোসেলেন্ট ক্লাব’

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:০৮ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শারমিন বেগম (১৫) কর্মজীবি শিশু। দুই বছর আগে বাবা-মা শারমিনের বিয়ে ঠিক করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে শারমিন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানায়। তার পর তার মাধ্যমে বিয়ে বন্ধ হয়।

শারমিন বলে, ‘১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে কি কি ক্ষতি হতে পারে তা আমি ক্লাবে শিখেছি। তাই এখনই বিয়ে করতে চাই না। ক্লাবে এসব বিষয় না জানলে এতদিন হয়তো আমি সন্তানের মা হয়ে যেতাম। এজন্য আমি আমার ক্লাব নিয়ে গর্ববোধ করি।’

শারমিনের মতো অনেক কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলোর মাধ্যমে নানাভাবে নিজেদের রক্ষা করছে। সচেতন হচ্ছে। এই ক্লাবগুলো কি বা এগুলো কীভাবে কাজ করে? সরকারের ‘এক্সিডেলিরেশন প্রটেকশন ফর চিলড্রেন (এপিসি)’ নামে একটি প্রকল্প ‘শিশুর সুরক্ষা’ বিষয়ে ইউনিসেফের সাথে সারাদেশে ‘অ্যাডরোসেলেন্ট ক্লাব’ নামে ২১০০ ক্লাব পরিচালনা করছে।

কারা এ ক্লাবের সদস্য হতে পারবে জানতে চাইলে ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনিরা হাসান বলেন, ‘যাদের বয়স ৯ থেকে ১৯ বছর, সুবিধা বঞ্চিত, স্কুল থেকে ড্রপআউট কিংবা কখনোই স্কুলে যায়নি এবং যারা কর্মজীবি শিশু তারা এ ক্লাবের সদস্য হতে পারে। তবে মা চালিত পরিবারের শিশুদের প্রাধান্য দেয়া হয়। একটি ক্লাবে ৩০ থেকে ৩৫ জন কিশোর-কিশোরী থাকে। এর মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ কিশোরী থাকতে হবে। তবে তাদের শর্ত দেয়া হয়, তারা পড়ালেখা ছাড়তে পারবে না এবং ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে তাদের শেখানো হয় কীভাবে এইচআইভি হয়, পিরিয়ডের সময়গুলোতে কীভাবে তারা নিজের যত্ন নেবে, ১৮ বছর আগে বিয়ে করলে তাদের কি ধরণের সমস্যা হতে পারে, কীভাবে রাস্তা পার হতে হয় এবং দোকানে যেতে হয়, বয়সন্ধীকালীন পরিবর্তনগুলো কীভাবে মোকাবেলা করবে কিংবা কোনো সমস্যা হলে বাবা-মা বা আমাদের বলবে, কেউ খারাপভাবে তাকালে তারা কি করবে, ইভটিজিংয়ের বিষয়গুলো এমনকি তাদেরকে সাঁতার, কম্পিউটার ইত্যাদি শেখানো হয়। তাদের সেলাই, বিউটি পারলারসহ সরকারের যে ১৮টি ট্রেড প্রশিক্ষণ আছে সেগুলো শেখানো হয়, যাতে তারা চলার মতো আয় করতে পারে।’

করোনার সময়গুলো তারা কীভাবে মোকাবেলা করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্লাবগুলো বন্ধ থাকলেও অনলাইনে তা সক্রিয় রয়েছে। তাদের হাত ধোয়া বা দুরত্ব মেনে চলা ছাড়াও সার্বিক বিষয়ে সচেতন করে তোলা হচ্ছে। যেমন, তারা যেন বাড়িতে একা না থাকে, এতে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। কেননা শিশুরা বাড়িতে একা থাকলে সমস্যা হতে পারে। নানা কারণে এ সময় তাদের মানসিক স্ট্রেস হতে পারে। এ জন্য ছোটখাট কাজে ব্যস্ত থাকতে বলা হয়। তাদেরকে বাড়ির আশে-পাশে শাক-সবজি লাগাতে বলছি। এমনকি বাড়িতে কেউ অসুস্থ্য হলে কোথায় ফোন করতে হবে ইত্যাদি শেখানো হচ্ছে।’

‘এপিসি’ প্রোগ্রামের মনিটরিং অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এ বয়সের শিশু-কিশোরদের অনেক কথা বলার থাকে। যা নির্ভয়ে নির্ভরযোগ্য কাউকে বলা প্রয়োজন এবং এ বয়সে তাদের শেখার অনেক কিছু রয়েছে। এ ক্লাবের মাধ্যমে তাদের কথা শোনা হয় এবং কোনো সমস্যা হলে বা তারা বুঝতে না পারলে তাদেরকে সেগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়। এখানে লাইফ স্কিল বেসড এডুকেশনের মাধ্যমে জীবন দক্ষতা ও নৈতিকতা তাদের উপযোগী করে শেখানো হয়। এ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ তাদের মাধ্যমে আরো সমৃদ্ধ করে একটি কারিকুলাম যা ‘স্ট্যান্ডারাইজ অ্যাডোলেসেন্ট এম্পাওয়ারমেন্ট প্যাকেজ’ (এসএইপি) নামে পরিচিত সেটা সারা দেশের সকল কিশোর-কিশোরীদের ক্লাবে পড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে।’

এপিসি’র প্রকল্প পরিচালক উপ-সচিব এস এম লতিফ বলেন, ‘ক্লাবের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন বিষয়সহ নিজেদের বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। বিভিন্ন হেল্পলাইন নাম্বারগুলোর বিষয়ে জানছে এবং তা ব্যবহার করছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে উদ্যোগী হচ্ছে। বাড়ির পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।’

এ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ক্লাবগুলোতে যাওয়ায় পরিবার এবং সমাজ সুফল পাচ্ছে। কমিউনিটিগুলোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। তাই সরকার ভাবছে, আগামিতে কমিউনিটিগুলোকে ক্লাবগুলো চালানোর দায়িত্ব দেয়া যায় কিনা।’

‘এপিসি’ প্রকল্পটি সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে কাজ করে। কিন্তু মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় পুরোপুরি সরকারি উদ্যোগে মূলধারায় সারা দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৮০০টি কিশোর-কিশোরীদের ক্লাব (কেকেসি) পরিচালিত হয়।

এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জয়ন্ত কুমার সিকদার বলেন, ‘এটি ২০১৮ সালে শুরু হয়। বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় এবং অন্যান্য কারণে ততটা অগ্রসর না হলেও বেশ জনপ্রিয় হয়। এর লক্ষ্য অনেক ভালো। এখানে শুক্র ও শনিবার দুই ঘণ্টা করে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে তোলা (বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদকাসক্তি, বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা ইত্যাদি) এবং সংগীত ও কারাতে শেখানো হয়। এছাড়া কিশোরীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়ার জন্য স্থানীয় নারীদের মাধ্যমে তা তৈরি করে সরকার সেগুলো কিনে নিয়ে দুঃস্থ নারীদের যেমন সহায়তা করবেন তেমনি কিশোরীদের সেগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করবেন। এ রকম কিছু লক্ষ্য নিয়ে ক্লাবগুলো কাজ করছিল। করোনার কারণে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় ক্লাবগুলোও বন্ধ রয়েছে। করোনার পরে তা অব্যাহত থাকবে।’

সরকার কিশোর-কিশোরীদের বিষয়ে যেভাবে চিন্তা করছেন তা সময়োপযোগী এবং কার্যকর। ইউনিয়ন পর্যায়ে যেভাবে ক্লাবগুলো পরিচালিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদকাসক্তি বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠবে। সারাদেশে এ বিষয়ে নির্ধারিত কারিকুলাম অনুসরণ করার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে অনেকে উপকৃত হবে।