ঢাকা, মঙ্গলবার ১৫, জুন ২০২১ ০:৪৭:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ পহেলা আষাঢ়, প্রিয় ঋতু বর্ষা শুরু করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জনের মৃত্যু করোনায় যশোরে নতুন আক্রান্ত ৯০, মৃত্যু ৩ রাজশাহীতে করোনায় আরও ১২ জনের মৃত্যু সারাদেশে তিন দিন গ্যাস সংকট থাকবে

জেনে নিন কাঁঠালের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৫৭ পিএম, ৬ জুন ২০২১ রবিবার

জেনে নিন কাঁঠালের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

জেনে নিন কাঁঠালের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। ফলের রাজা কাঁঠাল বাঙালি জাতির প্রিয় ফলের মধ্যে অন্যতম। গ্রীষ্মের চরম দাবদাহে এই রসালো ফল প্রাণ জুড়িয়ে দেয়, মেটায় পানির অভাব। নানা পুষ্টিগুণে পুরোপুরি ভরপুর কাঁঠাল।

রসালো কাঁঠাল ফলে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকম পুষ্টি ও খনিজ উপাদান।

সাধারণত আলুর চিপস সকলেরই কমবেশি পরিচিত। অনেকেরই জানা নাই, কাঁচা কাঁঠালের কোয়াকে শুকনো করে তেলে ভেজে যে চিপস তৈরি হয়, সেটা কিন্তু পটেটো চিপসের থেকেও অনেক সুস্বাদু হয়। কাঁঠালের রস খেলে শরীরে প্রচুর শক্তি সঞ্চয় হয়।

সাধারণত বাংলাদেশে বসন্ত ও গ্রীস্মের প্রথমে কাঁচা অবস্থায় এবং গ্রীস্ম ও বর্ষায় পাকা অবস্থায় কাঁঠাল পাওয়া যায়। এ ফল আকারে বেশ বড় হয়। 

কাঁঠালের পুষ্টিগুণ:
রসালো কাঁঠাল ফলে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।

এ সব পুষ্টিকর উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি কাঁঠাল ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করে থাকে।

সাধারণত কাঁঠালের বিচিতে ৬.৬ গ্রাম আমিষ আছে ও ২৫.৮ গ্রাম শর্করা আছে। সবার জন্যই আমিষসমৃদ্ধ কাঁঠালের বিচি বেশ উপকারী।

কাঁঠাল ভিটামিন ‘এ’ সমদ্ধ। তাই কাঁঠাল খেয়ে ভিটামিন ‘এ’- এর ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব।

কাঁঠালের হলুদ রঙের কোষ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ সমদ্ধ। ২-৩ কোয়া কাঁঠাল এক দিনের ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ করে।
স্বাভাবিক আকারের কাঁঠালের ৪-৫ কোয়া থেকে ১০০ কিলো ক্যালরি পর্যন্ত খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়।

কাঁঠালের উপকারিতা:

১) কাঁঠাল শক্তির উৎস: কাঁঠালে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, ক্যালোরি, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ রয়েছে, যা আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়ায়।

একই সঙ্গে কাঁঠালে কোন কোলেস্টেরোল জাতীয় উপাদান নেই যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

২) কাঁঠাল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: সর্দি-কাশি, জ্বরের মতো সাধারণ নানা রোগকে প্রতিহত করে কাঁঠাল। সাধারণত ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস কাঁঠাল।

৩) রক্তস্বল্পতা রোধে কাঁঠাল: কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই, কে, নিয়াচিন, ফলেট, এবং ভিটামিন বি-৬। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরণের মিনারেল সমৃদ্ধ উপাদান যেমনঃ কপার, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেসিয়াম যা রক্ত তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই এটি রক্তস্বল্পতা রোধে দারুণ কাজ করে থাকে।  যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্যে এই রসালো ফল কাঁঠাল উপকারি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

৪) গর্ভবতী মায়ের খাবার: চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভের শিশুর প্রায় সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী নারীরা নিয়মিত প্রতিদিন নিদিষ্ট পরিমাণে কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা যদি তাজা পাকা কাঁঠাল খান তাহলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

৫) দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধে: কাঁঠালে বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস- যা কিনা আমাদের শরীরে আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম। কাঁঠালে আছে প্রয়োজনীয় পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির্র‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

৬) চোখ ভাল রাখে: কাঁঠালে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ। যা চোখের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। অনেকেই জানেন না, কাঁঠাল খাওয়ার অভ্যাসে দৃষ্টিশক্তি ভালো হয়। কাঁঠাল ত্বকের বলিরেখা বা ভাঁজ প্রতিহত করতে সক্ষম। রসালো ফল কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, তাই এটি চোখের রেটিনা বা অক্ষিপটের ক্ষতি প্রতিহত করে থাকে।

৭) হাড় মজবুত ও শক্ত করে: আমরা জানি কাঁঠালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। এই ক্যালসিয়ামের আধিক্যের জন্যে এটি হাড়ের গঠন সুদৃঢ় ও মজবুত করে।

এটি অস্টেওপরোসিস (osteoporosis) নামে হাড়ের ক্ষতিকর রোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮) খনিজ উপাদান: কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণে খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে শিশুর প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়ে থাকে।

৯) স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কাঁঠাল: পাকা কাঁঠালে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম, যা আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে যার ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে পায়।

১০) হজমশক্তি বাড়াতে কাঁঠাল: হজমের জন্য উপাদেয় ফল কাঁঠাল। এই ফল কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিহত করে। কারণ, এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমাণে হজমে সহায়ক আঁশ।

১১) পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস: কাঁঠাল হচ্ছে পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট একটি উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। যারা পটাশিয়াম শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্যে কাঁঠালে উচ্চ রক্ত চাপের উপশম হয়ে থাকে।

১২) মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে ও চিকিৎসায়: সাধারণত কাঁঠালে যে ডায়েটারি ফ্যাট উপাদানটি রয়েছে, তা শরীরের মলাশয় থেকে বিষাক্ত উপাদানসমূহ পরিষ্কার করে।

এতে করে মলাশয়ের ওপর বিষাক্ত উপাদানসমূহের ক্ষতিকর প্রভাব শরীরে পড়তে দেয় না। এমনকি মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিহত করে।

কাঁঠালের ঔষধি গুনাগুন:
সাধারণত কাঁঠাল গাছের শেকড় হাঁপানী উপশম করতে অনেকাংশে সক্ষম। শেকড় সেদ্ধ করলে যে উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদান নিষ্কাশিত হয়, তা হাঁপানীর প্রকোম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।

শুধু তাই নয়, টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

শেষকথা:
আয়ুর্বেদিকের ভাষায় কাঁঠালকে সাধারণত রসায়ণ বলে।সাধারণত কাঁঠাল কাঁচা অবস্থায় থাকলে এঁচড় বলে। কাঁঠালের তরকারি বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার। 

কাঁঠালের এঁচড়ে প্রচুর শর্করা থাকে। রান্না করলে এর স্বাদ অনেকটা আলুর মতো মনে হয়। আবার শুকনো হয়ে গেলে স্যাঁকা রুটির মত লাগে। তবে যাদের হজম ক্ষমতা কম, তাদের এঁচড় না খাওয়াই ভাল।

কাঁঠাল শুধু ফলই নয়, পাতা, বীজ, কাঠ সব কিছুই কাজে লেগে যায়।