ঢাকা, শুক্রবার ৩০, অক্টোবর ২০২০ ১০:৫৫:৩১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গেজেট প্রকাশ: মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ লিখতে হবে করোনায় আরও ২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮১ করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী এবার নতুন বছরে হচ্ছে না বই উৎসব: শিক্ষামন্ত্রী ৮ ব্যক্তি ১ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জেলা বাজেটে শিশুদের জন্য পৃথক বরাদ্দ : মুখ্য সমন্বয়ক

বাসস | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:২৩ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রতিটি জেলায় শিশুদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘এসডিজিতে শিশুদের জন্য আলাদা কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করা না হলেও এতে যে ১৭টি লক্ষ্য রাখা আছে এর প্রতিটিতেই শিশুদের উন্নয়ন, অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি রয়েছে। আগে শিশুদের জন্য কোন জেলা বাজেট ছিল না। এবার জেলায় জেলায় শিশুদের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ রাখা হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার হলে চিলড্রেন এফেয়ার্স জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক (সিএজেএন) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে শিশু সুরক্ষা :  গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

কর্মশালায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. লেলিন চৌধুরী এবং চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান রনি, ওয়ার্ল্ড ভিশনের উপ-পরিচালক সাবিরা সুলতানা নুপুর এবং মিডিয়া রিলেশন্স স্পেশালিস্ট দেবাশীষ রঞ্জন সরকার। সিএজেএন-এর সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর বিশেষ সংবাদদাতা মাহফুজা জেসমিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সিএজেএন’এর সহ-সভাপতি ও চ্যানেল আই-এর বিশেষ সংবাদদাতা মোস্তফা কামাল মল্লিকের সঞ্চালনায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিচালক চন্দন জেড. গোমেজ এবং সিএজেএন’এর সাধারণ সম্পাদক শিপন হাবীব অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিশু বিষয়ক সাংবাদিকরা অংশ নেন।

মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজির অভীষ্ট বাস্তবায়নে আমাদের প্রতিটি জেলা তাদের পিছিয়ে থাকার বিষয়গুলিকে সনাক্ত করেছে। এর ফলে, সরকার জাতীয় বাজেটে জেলাস্তরে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হবে। এই বাজেটে শিশুদের সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশে এবং দেশের বাইরে এসডিজি বিষয়ে উচচশিক্ষা গ্রহণ ও পিএইচডি ডিগ্রী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, এই প্রথম সরকারি অর্থ ব্যয়ে একটি মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের জন্য ৬০ লাখ টাকা, পিএইচডি’র জন্য ২ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। এটি সরকারি-বেসরকারি সকলের জন্য উন্মুক্ত।

এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অনেকগুলো সভা, সমাবেশ, সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে এসডিজির বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা আছে এবং জনপ্রশাসনে দক্ষতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যাতে সরকারি কর্মচারি ও বেসরকারি ব্যক্তিদের এসডিজি বিষয়ে উচ্চ প্রশিক্ষণ দেয়া যায়।’

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারির বছরে ৬০ ঘন্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে তা ৭০ ঘন্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে সকল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিগত ১০ বছরে দেশে ১৩০টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এদেশের মানুষই চালায়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই এসব সম্ভব হয়েছে।

এসডিজি সমন্বয়ক বলেন, শিশুকে ঠিকমতো গড়ে তোলা না হলে পুরো দেশটাই অকার্যকর হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, মাতৃগর্ভ থেকেই শিশুর স্বাস্থ্য ও মনন বিকাশ ঘটতে থাকে। এসডিজিতে ১৭টি অভিষ্ট, ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ২৩২টি ইন্ডিকেটর রয়েছে। পুরো এসডিজিই শিশুসহ সকলের কথা বলা আছে। এসডিজির ধারাগুলো যদি সবাই মেনে চলে তাহলে এই পৃথিবী সকল শিশুর জন্য বাসযোগ্য হবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসডিজি আমাদের জন্য ফ্যাশন নয়, এটি আমাদের প্রাণের দাবি। সকলকে নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে, তা না হলে এর বাস্তবায়ন সহজ হবে না। ‘সকলকে সাথে নিয়ে কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ এটাই এসডিজির মূল লক্ষ্য।

বাসসে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবার থেকেই শিশুদের মানসিকতা ও মনন তৈরি করতে হবে। তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে নীতি নৈতিকতার মধ্যে থেকে কাজ করা উচিত। গণমাধ্যমকে ইতিবাচক কথাগুলো তুলে ধরতে হবে। শিশুদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এমন সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।