ঢাকা, শুক্রবার ০৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৭:২৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দেশে পৌঁছেছে চার লাখ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি, সরকারি কর্মচারীরা যমুনার দিকে সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও অনুভূত একজনের সংস্থা ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক স্বর্ণ-রুপার দাম পতন, স্বর্ণে ভরিতে কমলো ৭৬৪০ টাকা সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে যেসব এলাকায় নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে নাজেহাল ক্রেতারা

কলা খাওয়ার ফলাফল: ক্ষুদ্র ফসল, বিশাল উপকারিতা

সালমা পারভীন | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১৭ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

প্রতিদিনের খাবারে অনেকেই সহজে বাদ দিয়ে দেন এক সাধারণ ফল—কলা। ছোট, হালকা ও মসৃণ এই ফলটি মনে হয় শুধু ঝটপট ক্ষুধা মেটানোর জন্যই উপযোগী। কিন্তু বাস্তবে কলা শুধু পুষ্টির খনি নয়, বরং আমাদের দেহ, মন ও স্বাস্থ্যের জন্য এক অবিস্মরণীয় উপকারিতার উৎস।

পুষ্টির ভান্ডার: কলার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের সমৃদ্ধ সমন্বয়। এক টুকরো কলার মধ্যে থাকে প্রায় ১০০ ক্যালোরি, যা শরীরের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং পটাসিয়াম—এসব উপাদান কলাকে একটি সুপারফুডে পরিণত করেছে। পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পেশীর কাজকে সহজ করে। ভিটামিন বি৬ মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সেরোটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে—যা মনের সুস্থতা বজায় রাখে।

হজমে সহায়ক: কলায় প্রচুর ফাইবার আছে, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। হজমজনিত সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত সকালের নাশতায় কলা খেলে দিনের বাকি সময় হজমের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে। পাশাপাশি কলা পাকস্থলীর গ্যাস ও অম্লের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন একটি কলা খেলে হার্টের জন্য অনেক উপকার হয়। পটাসিয়াম এবং সোডিয়ামের সঠিক ভারসাম্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কলা খাওয়া রক্তচাপ কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও এনার্জি বুস্ট: কলা হালকা মিষ্টি হলেও স্বাভাবিক চিনি থাকার কারণে এটি শরীরকে দ্রুত এনার্জি দেয়। ব্যায়ামের আগে বা সকালে কলা খেলে শরীরের শক্তি দ্রুত ফিরতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ফাইবার থাকার কারণে দীর্ঘসময় পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়, যা অপ্রয়োজনীয় খাবারের ক্ষুধা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

মানসিক স্বাস্থ্য ও মেজাজ: কলার মধ্যে ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড আছে, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করে। সেরোটোনিন মানসিক চাপ কমাতে, মেজাজ স্থির রাখতে এবং ঘুমের গুণমান উন্নত করতে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে একটি কলা খাওয়ায় মনোরোগের ঝুঁকি কিছুটা কমে।

হাড় ও হাড়ের শক্তি: যদিও কলা ক্যালসিয়ামের উৎস নয়, তবে এটি হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। ভিটামিন কে, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কলা রাখা হাড়ের জন্য উপকারী।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যালের কারণে কলা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ঠান্ডা, কাশি বা সর্দির সময়ে নিয়মিত কলা খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।

সহজ, সাশ্রয়ী ও বহুমুখী: কলা সহজে পাওয়া যায়, কেটে খাওয়া যায়, সঙ্গে বহন করা যায়। স্ন্যাকস, স্মুদি বা নাস্তা হিসেবে কলার ব্যবহার খুবই সুবিধাজনক। শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত সবাই কলা খেতে পারে। এটা সাশ্রয়ীও—বাজারে কম দামে পাওয়া যায় এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

শেষ কথা: ছোট, সোনালী ও মসৃণ এই ফলটি প্রাকৃতিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবৃদ্ধির এক সমৃদ্ধ উৎস। কলা কেবল ক্ষুধা মেটায় না, বরং হৃদয়, হজম, মানসিক স্বাস্থ্য, হাড় ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন একটি কলা খাওয়ার অভ্যাস শুধু স্বাস্থ্যবোধক নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের শক্তির স্রোত বাড়ানোর এক সহজ উপায়।

সুতরাং, আজই কলাকে খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। একটি কলা প্রতিদিন—স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত জীবনের নিশ্চয়তা।