ঢাকা, সোমবার ২৫, জানুয়ারি ২০২১ ১৮:৫১:৪৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
করোনায় আরও ১৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৬০২ যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৫ কোভিড সংক্রান্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করবেন বাইডেন ঢাকায় এসে পৌঁছেছে আরও ৫০ লাখ টিকা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ফের সামিল যুক্তরাষ্ট্র

নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, জড়িতদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৭ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই থেকে চার টাকা। পেঁয়াজ-আলুতে অন্তত ১০-২০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। তেলের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার অজুহাত দেখালেও চাল-আলুর দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এসব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সংকটে পড়েছে ক্রেতারা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে, তাদের বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং করে জরিমানাসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা এ সপ্তাহে আসা শুরু হবে। এ অর্থবছরে তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তেল-পেঁয়াজ ও আলু টিসিবি বিক্রি করছে। এছাড়া অসাধু ধান-চাল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রায়ের বাজারের মুদি দোকানদার হাজী রহমত আলী বলেন, গত ১০ দিন ধরে পাইকারি বাজারে ভোজ্য তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। তিনি বলেন, পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল লিটারে ১০ থেকে ১৬ টাকার বেড়েছে। পাম তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৮থেকে ৯৫ টাকা, সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় (প্রতি কেজি)। এক সপ্তাহ আগে এক ড্রাম পাম অয়েলের দাম ছিল ১২ হাজার টাকা, এখন সেটা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০০ টাকা। এক ড্রাম সয়াবিন তেলের দাম আগে ছিল ১৫ হাজার ৮০০ টাকা, এখন ২১ হাজার ৫০০ টাকা। আর পেঁয়াজ দেশি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বিদেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা।

মালিবাগের মুদি দোকানদার সবুজ হোসেন বলেন, দাম বাড়ার পর এখন সুপার সয়াবিন আর সয়াবিন কেজি সুপার ৯০ থেকে ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানের দিক থেকে সয়াবিনের চেয়ে পিছিয়ে আছে সুপার সয়াবিন।

উত্তর বাড্ডার এক রাইস এজেন্সির মালিক বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পাইজাম চালের দাম মানভেদে ৪৫-৪৯ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৫৫ টাকা হয়েছে। মিনিকেট ৪৯- ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫২-৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৮ ধানের চাল ৪২-৪৩ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৪৮ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, উৎসব, রশিদ, মোজাম্মেল ও বিশ্বাসসহ অন্যান্য নামি ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ২৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০০ টাকা এবং নাজিরশাইল ২৮০০-২৯০০ থেকে বেড়ে ৩০০০-৩১০০ টাকা হয়েছে।

কারওয়ার বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা গোফরান বলেন, চালের দাম মিলাররা বাড়িয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে সব ধরনের চালের দাম বস্তায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করছি। সরকারের উচিত, অসাধু সিন্ডিকেটের বিরেুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

বাজারের একজন ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, বেশকিছু অসাধু ব্যবসায়ী কথায় কথায় চাল-তেলের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছেন। তারা সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। কিন্তু সরকার যে ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নিতে পারছেনা বল্ই এমনটা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ধানের দাম বেশি হলে চালের দাম কিছুটা বাড়ে। এমাসের শেষের দিকে নতুন ধান উঠবে, তখন চালের দাম কমবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, তেল-পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালানোসহ টিসিবি পণ্য বিক্রি করছে। বাজার কারসাজিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ইউসুফ বলেন, পেঁয়াজের ও চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। আলুর দাম কয়েক দিনের মধ্যে স্থিতিশীল হবে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পণ্যের বাজার মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে খুচরা বাজারসহ পাইকারী বাজারেও গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া সব মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হচ্ছে। গত ১৯ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ১৫২ টি প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাাখ ৪৯ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত আছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ধান-চাল মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমদানি করা চাল দ্রুত চলে আসবে, আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে।

-জেডসি