ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ১:৫৬:১৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মোমবাতি জ্বেলে কালরাতের শহীদদের স্মরণ সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা আজ ২৫ মার্চের কাল রাত: রক্তে লেখা এক ইতিহাস ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় দিন: প্রধানমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন বাস নদীতে, নারী ও শিশুসহ ১৫ লাশ উদ্ধার মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

ফিরোজা বেগম : প্রস্থানের চার বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৯:০৩ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার

ফিরোজা বেগম

ফিরোজা বেগম

আজ ৯ সেপ্টেম্বর রোববার উপমহাদেশের প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের প্রথিতযশা এই শিল্পী ভারতীয় উপমহাদেশের আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলা সঙ্গীতের প্রতীকিরূপ। ২০১৪ সালের এই দিনে ৮৪ বছর বয়সে গুণী এই মানুষটি সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

 

তার কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে দুই বাংলাতেই। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছে ফিরোজা বেগমের গানগুলো আজও দারুণ সমাদৃত।

 

ফরিদপুরের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন ফিরোজা বেগম। বাবা খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল ছিলেন বৃটিশ সরকারের প্রথম মুসলমান সরকারি কৌঁসুলি। মাতা বেগম কওকাবুন্নেসা।

 

কলকাতার এইচএমভির রিহার্সেলে নজরুলের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। সেখানকার অডিশনে ফিরোজা বেগম কবিকে তার যদি পরানে না জাগে আকুল পিয়াসা গানটি শুনিয়েছিলেন। তখন ফিরোজার বয়স ১১ বা ১২ বছর। নজরুল খুব প্রশংসা করেছিলেন তার গানের। এভাবেই নজরুলের গান আর ফিরোজা বেগম একার্থক হয়ে উঠেছিল।

 

ফিরোজা বেগম ১৯৪২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত কলকাতায় নিয়মিত গান করেছেন। এইচএমভি থেকে তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে। আধুনিক গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত, গজল, ভজন সব গানই তখন করেছেন। ১৯৫১ সালে কলকাতায় কমল দাশগুপ্তের সুরে বেশকিছু গান করেন। এভাবেই তার সঙ্গীত গুরু হয়ে ওঠেন কমল দাশগুপ্ত। তিনি নজরুলের কথার সুর দিতেন আর ফিরোজা বেগম সেগুলো কণ্ঠে তুলে নিতেন।

 

১৯৫৬ সালে কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন ফিরোজা বেগম। তবে ১৯৭৪ সালে স্বামীর মৃত্যু ও দেশভাগের সময় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরোজা বেগম হয়ে যান নজরুল সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী। ফিরোজা বেগমের তিন সন্তান-তাহসিন, হামীন ও শাফীন। হামিন ও শাফিন উভয়েই দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৩৮০টির বেশি একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত এই সঙ্গীত শিল্পী। নজরুলসঙ্গীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাতসহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন। জীবদ্দশায় তার ১২টি এলপি, ৪টি ইপি, ৬টি সিডি ও ২০টিরও বেশি অডিও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে।

 

শিল্পচর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসাবে পরিচিত স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয় তাকে। এছাড়াও তিনি একুশে পদক, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী স্বর্ণপদক, সেরা নজরুল সঙ্গীতশিল্পী পুরস্কার (একাধিকবার), নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট পান।

 

তিনি জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে গোল্ড ডিস্ক, ২০১১ সালে মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বঙ্গ সম্মান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

 

খ্যাতিমান এই শিল্পীর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার পারিবারিকভাবে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। উপমহাদেশীয় সঙ্গীতের অন্যতম পুরোধা ছিলেন ফিরোজা বেগম। সঙ্গীতের সব শাখাতেই ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা। তবে নজরুলসঙ্গীতে নিজেকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।