ঢাকা, শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬ ১১:৩২:৫৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বাজেটে কমেছে ও বেড়েছে যেসব পণ্যের দাম সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কমছে না আলুর দাম মেঘনায় নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার ১৯ বছর পর বিএনপি সরকারের বাজেট আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকছে ফুটবল বিশ্বকাপ: স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী আজ ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট পেশ যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা আজ বৃহস্পতিবার পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের

বলিউডের দাপুটে নায়িকা মুমতাজ

বিনোদন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সংসারের প্রয়োজনে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে হাতেখড়ি। পরে তিনিই বলিউডের দাপুটে নায়িকা। মুমতাজের জীবনের ওঠাপড়া হার মানাবে যে কোনও ছবির চিত্রনাট্যকে।

বাবা ছিলেন শুকনো ফলের বিক্রেতা। ইরান থেকে এসে বসত গড়েছিলেন বম্বে, আজকের মুম্বই শহরে। কিন্তু মাত্র এক বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ।

মুমতাজের জন্ম ১৯৪৭-এর ৩১ জুলাই। বাবা আব্দুল সালিম আসকারি এবং মা শাদি হাবিব আগা ছিলেন ইরানের মাসহাদ শহরের বাসিন্দা। সেখানকার পাট তুলে মুমতাজের জন্মের বহু আগেই তারা বসত গড়েন সাবেক বম্বে, আজকের মুম্বইয়ে।

শিশুশিল্পী হিসেবে মুমতাজের প্রথম ছবি ‘ইয়াসমিন’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। তিন বছর পরে মুক্তি পায় ‘সোনে কি চিড়িয়া’ এবং ‘লাজবন্তী’। এর পর ছয়ের দশকের গোড়ায়, কৈশোরবেলায় তার ছবি ‘স্ত্রী’ এবং ‘সেহরা’ সফল হয় বক্স অফিসে। সাবালক বয়সে অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম এ গ্রেডের ছবি ‘গেহরা দাগ’।

পরিচিতির সঙ্গে বাড়তে থাকে ছবির সুযোগ। তবে প্রথম দিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ছোট ব্যানারের ছবি নিয়েই। কুস্তিগীর দারা সিংহের সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘ডাকু মঙ্গল সিংহ’-সহ মোট ১৬টি ছবিতে। এর পর তার গায়ে ‘স্টান্টছবির নায়িকা’-র তকমা লেগে গিয়েছিল।

শোনা যায়, সে সময় ছবিতে দারা সিংহের পারিশ্রমিক ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। মুমতাজ পেয়েছিলেন আড়াই লাখ টাকা।

ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে পায়ের তলায় শক্ত জমি দেয় রাজ কাপুরের ‘দো রাস্তে’। রাজেশ খান্না অভিনীত এই ছবিতে মুমতাজ ছোট রোল পেয়েছিলেন। কিন্তু এই ছবিটাই তার কাছে প্রিয়তম। কারণ, জনপ্রিয়তার পথে উত্তরণে সাহায্য করেছিল এই ছবিতে অভিনয়।

রাজেশ খান্নার বিপরীতে ‘দো রাস্তে’-র পরে সফল হয় তার ‘বন্ধন’ ছবিটিও। এর পর ছবিটি পাল্টে যায় অনেক। তিনি রাজেন্দ্র কুমারের ‘টাঙ্গেওয়ালা’ ছবির নায়িকা হন। ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে মুমতাজের দু’টি ছবি ‘লোফার’ এবং ‘ঝিল কে উস পার’-ও হিট হয়।

শোনা যায়, একসময় শশী কাপুর তার সঙ্গে অভিনয় করতে অস্বীকার করেছিলেন। কারণ, তার কাছে তখন মুমতাজ ছিলেন ‘বি গ্রেড ছবির নায়িকা’। পরে শশী তাকেই নায়িকা হিসেবে চান ‘চোর মচায়ে শোর’ ছবিতে।

রাজেশ খন্না-মুমতাজ জুটি ছিল বলিউডের অন্যতম সেরা রোমান্টিক জুটি। ‘আপ কি কসম’ ছবিতে তাদের উপর চিত্রায়িত ‘জয় জয় শিব শঙ্কর’ তো আইকনিক।

মুমতাজের ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য হল ‘খিলোনা’, ‘মেলা’, ‘অপরাধ’, ‘নাগিন’-এর মতো সফল ছবিও। সাতের দশকের শেষ দিকে অভিনয় ছেড়ে দেন। তেরো বছর পরে ফিরে আসেন ‘আঁধিয়াঁ’ ছবিতে, ১৯৯০ সালে।

‘ব্রহ্মচারী’ ছবিতে সুপারহিট শাম্মি কাপুর-মুমতাজ অন স্ক্রিন রসায়ন। শোনা যায়, শাম্মি কাপুর বিয়ে করতে চেয়েছিলেন মুমতাজকে। কিন্তু শর্ত ছিল, অভিনয় ছাড়তে হবে। কেরিয়ার অকালে বিসর্জন দিয়ে কাপুর পরিবারের বধূ হতে চাননি মুমতাজ। এমনকি, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গেও তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায় ইন্ডাস্ট্রিতে।

১৯৭৪ সালে মুমতাজ বিয়ে করেন শিল্পপতি ময়ূর মাধবানিকে। তাদের দুই মেয়ে, তন্যা ও নাতাশা। তাদের মধ্যে নাতাশা বিয়ে করেছেন ফিরোজ খানের ছেলে ফারদিন খানকে।

বিয়ের পর থেকেই মুমতাজ প্রবাসী। ফিরে আসেননি অভিনয়েও। ইন্ডাস্ট্রি থেকে বহু দূরে তিনি দিব্যি আছেন নিজের সংসার নিয়ে। কিছু দিন আগে রটেছিল তার মৃত্যুর গুজব। পরে মেয়ে তন্যা টুইট করে জানান, মুমতাজ তার সঙ্গে লন্ডনে আছেন, ভাল আছেন।

সংসারের হাল ধরতে বি গ্রেড ছবিতে অভিনয় করতেও পিছপা হননি মুমতাজ। সেখান থেকে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন সুপারহিট নায়িকার আসনে। আবার কেরিয়ারের তুঙ্গে থাকতেই স্বেচ্ছায় বিদায় নিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। এই তো জীবন!