ঢাকা, শুক্রবার ০১, মার্চ ২০২৪ ১৯:০৫:৪১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বেইলি রোডে ভবনের আগুনে দগ্ধ কেউই শঙ্কামুক্ত নন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে স্বামীকে ফোন করে বাঁচার আর্তনাদ, পরে সন্তানসহ মিলল লাশ বেইলি রোডের আগুনে ভিকারুননিসার শিক্ষক ও তার মেয়ের মৃত্যু বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত বেড়ে ৪৫ বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক বেইলি রোডে আগুন : ২৫ মরদেহ হস্তান্তর

মাছ চাষে স্বাবলম্বী দিনাজপুরের গৃহবধূ সাদেকা বানু

ফিচার ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২১ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুর সদর উপজেলার পল্লীতে মাছের পোনা চাষ করে ব্যাপক সাফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা গৃহবধূ  সাদেকা বানু। বর্তমানে তিনি ৩১ একর জমিতে ২২টি পুকুরে জি-থ্রি রুইসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করে  স্বাবলম্বী হয়েছেন।

শনিবার কথা হয় গৃহবধূ সাদিকার সাথে। তিনি তার মাছ চাষের পুকুরগুলো সরজমিনে দেখান। 

তিনি  জানান, তাকে মাছ চাষের কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন তার স্বামী বেলাল হোসেন। প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক তার সাথে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তার পুকুরে মাছ চাষের কাজ করে ২০টি পরিবারে, কর্মসংস্থানের  ব্যবস্থা হয়েছে। সাদেকার সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক মাছ চাষে ঝুঁকছেন। নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানুর এখন বছরে  ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় করেন।

সাদিকা বানু জানান, ২০১৫ সালে দিনাজপুর সদর উপজেলার  মালিগ্রামে দুটি পুকুর লিজ নিয়ে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প, সাদাপুটি, তেলাপিয়া পোনা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথম বছর সফল হতে পারেননি। পরের বছর গ্রামের আরও ৩টি পুকুর লীজ নিয়ে মাছের পোনা উৎপাদন বৃদ্ধি করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে নিজ গ্রামসহ পাশের সদর উপজেলার বড়গ্রাম ও কমলপুরে ৩১ একার জমিতে ২২টি পুকুরে জি-থ্রি রুইসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করছেন।

সাদেকা বানু বলেন, এ মাছের পোনা চাষ ও বিক্রি করে দুই  মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছি। তাকে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন দেখছি। দুটি পুকুর থেকে  ২২টি পুকুরে মাছ চাশ করছি। ৩১ একার জমিতে ২২টি পুকুরের মধ্যে ৩টি পুকুরে গত বছর থেকে জি-থ্রি রুই মাছের পোনা উৎপাদন করছি। 

তিনি  বলেন, জি-থ্রি পোনা মাছের চাহিদা অনেক। আমার সব খরচ বাদ দিয়ে এখন বছরে আয় হয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।আরো কিছু পুকুরে এ জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করবো।

তিনি জানান, তার স্বামী বেলাল হোসেন নিজের পেশা ছেড়ে 
এখন তাকে সহায়তা করছেন। পুকুরগুলো তত্ত্বাবধানে কাজ করেন তিনি। 

তিনি আরও জানান, গত বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩টি পুকুরে ওয়ার্ল্ডফিশ উদ্ভাবিত ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুই মাছের পোনা উৎপাদন শুরু করা হয়েছে । এতেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তিনি। প্রচলিত রুই মাছের চেয়ে শতকরা প্রাায় ৩০ ভাগ বেশি বৃদ্ধি পায় জি-৩ রুই । জি-৩ রুই পোনার ব্যাপক চাহিদা থাকায় পোনা মাছ বিক্রেতারা তার পুকুরে আসে। তার পুকুরের পাছের পোনা জেলা ছাড়িয়ে সারাদেশে সরবরাহ হচ্ছে ।

সাদেকা বানুর খামারে পোনা মাছ কিনতে আসা ব্যবসায়ি নুরুল ইসলামের সাথে  কথা হয়। তিনি  জানান, এখন জি-৩ রুই এর পোনার অনেক চাহিদা। বিত্রি করে লাভ ভালো হয়। সপ্তাহে ৩/৪দিন  পোনা মাছ বাইরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি   করি। এতে যা লাভ পাই,তাদেই সংসার চলে।

জানা গেছে, নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানুকে মাছ চাষ কারার জন্য প্রথম থেকেই সহায়তা করে আসছে ‘মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র’-এমবিএসকে ও ‘পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন’। মাছের পোনা তৈরিতে নারীদের দিয়ে সমিতির মাধ্যমে কাজ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। 

শ্যামলী মহিলা সমিতি নামে এমন একটি সংগঠনের সদস্য সাদেকা বানু। যার সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৯৪০ জন।

মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র-এমবিএসকের মৎস্য কর্মকর্তা রায়হান আলী জানান, সাদেকা বানু তাদের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। দীর্ঘ ৭/৮ বছর ধরে তাকে সহায়তা করছি আমরা। তিনি বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করলেও গত বছরেই প্রথম আমরা তাকে পরীক্ষামূলকভাবে এক কেজি ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুই এর রেনু দেই পোনা উৎপাদনের জন্য। তারপর তিনি আরো ২ কেজি ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুই এর রেনু ক্রয় করে পুকুরে পোনা উৎপাদনে নামে। এতে তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তার পোনা এখন জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে।’তাকে সব রকম সহযোগিতা দিচ্ছে.দিনাজপুর জেলা মৎস্য বিভাগ।

দিনাজপুর জেলা  মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, ওয়ার্ল্ডফিশ উদ্ভাবিত ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুই এর পোনা উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন, নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানু। তার সাফল্যে এখন অনেকে অনুপ্রাণিত। আমরা সবরকম প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছি। অন্যরাও চাইলে এ সহায়তা পাবে। আমরা চাই এ ধরনের কার্যক্রমে নারীরা আরো এগিয়ে আসুক। এসব কাজে তাদের সাফল্য পাবার বেশি সুযোগ থাকে।