ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩৯:৪৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাল সচিবালয়ে অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিদায় বুধবার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করবো: রুমিন ফারহানা শপথ নিলেন ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন তারেক রহমান

রাজধানীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৯ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও ফুটপাথে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বন্য ও পরিযায়ী পাখি। শীত মৌসুম এলেই হাওর, বিল ও জলাভূমি এলাকা থেকে ধরে আনা পাখি ঢাকার বাজারে তোলা হচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়ছে পরিযায়ী পাখির নিরাপত্তা ও দেশের জীববৈচিত্র্য।

কারওয়ান বাজার, সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে খাঁচায় বন্দি পাখি বিক্রির দৃশ্য দেখা যায় নিয়মিত। কোথাও জীবিত অবস্থায়, কোথাও জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে হাঁসজাতীয় ও ছোট আকারের বন্য পাখি।

ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে হাওর-বিলের পাখি বিক্রেতারা জানান, এসব পাখির বড় অংশ আসে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও গোপালগঞ্জের হাওর ও বিল এলাকা থেকে। শিকারিরা ফাঁদ পেতে পাখি ধরেন, পরে সেগুলো পাইকারের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এক বিক্রেতা বলেন, “শীতে পাখি ধরার কাজ বাড়ে। মানুষ কিনে রান্না করে খায়, তাই বিক্রি ভালো হয়।”

আইনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিক্রি থামছে না
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বন্য পাখি শিকার, হত্যা ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে রাজধানীতে প্রকাশ্যে পাখি বিক্রি চললেও নিয়মিত অভিযান চোখে পড়ে না। পরিবেশবাদীরা বলছেন, মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও তা নিয়মিত না হওয়ায় শিকার ও বেচাকেনা বন্ধ হচ্ছে না।

পরিবেশের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে আসা পরিযায়ী পাখি জলাভূমির কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাখির সংখ্যা কমে গেলে কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।

জীববৈচিত্র্য গবেষকরা বলছেন, “একটি পাখি শিকার মানে শুধু একটি প্রাণী মারা যাওয়া নয়, একটি প্রাকৃতিক চক্রের ক্ষতি।”

সচেতনতার অভাব বড় বাধা
অনেক মানুষ জানেন না যে বন্য পাখি কেনা-বেচা আইনত অপরাধ। আবার কেউ কেউ বিষয়টি জেনেও উপেক্ষা করেন। এতে শিকারিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।

পরিবেশ সংগঠনগুলোর মতে, শীত মৌসুমে ঢাকার বাজারগুলোতে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি হাওর ও বিল এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

করণীয় কী
পরিবেশবিদদের মতে—
– রাজধানীর বাজারে নিয়মিত অভিযান
– হাওর ও জলাভূমিতে শিকার রোধে টহল
– বিক্রেতা ও ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা
– স্কুল-কলেজে পাখি সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা
এসব উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ঢাকার বাজারে পাখি বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিবেশকর্মী আহমেদ জামান রবী বলেন, “পরিযায়ী পাখি প্রকৃতির অতিথি। তাদের হত্যা করা মানে প্রকৃতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”

তিনি আরও বলেন, “এসব পাখিদের বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। তা না হলে অতিথি পাখি বা আমাদের দেশীয় পাখি রক্ষা করা সম্ভব নয় “