ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ৯:০৭:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মোমবাতি জ্বেলে কালরাতের শহীদদের স্মরণ সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা আজ ২৫ মার্চের কাল রাত: রক্তে লেখা এক ইতিহাস ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় দিন: প্রধানমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন বাস নদীতে, নারী ও শিশুসহ ১৫ লাশ উদ্ধার মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

শিল্পী সংস্থা সম্মাননা পেলেন মিতা হক

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ১২:০০ পিএম, ১৩ মে ২০১৮ রবিবার

রবীন্দ্রনাথের গানের সুরে সুরে সংস্কৃতির লড়াইকে বেগবান করার প্রত্যয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা আয়োজিত ৩০তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব। সমাপনী আয়োজনের সূচনাতেই রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা সম্মাননা’ প্রদান করা হয় দেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মিতা হককে।

আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার (কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি) শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে সমাপনী আয়োজনে এই গুণী শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও অর্থমূল্য তুলে দেন সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আকবর।

সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে মিতা হক বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমি এই সংগঠনের সদস্য। অনেক দিন গান করলেও, অসুস্থতার কারণে গেলো তিন বছর গান গাইতে পারছি না। আজ এই সংগঠনটি যে সম্মাননা প্রদান করলো, তাতে নতুন করে প্রেরণা পেলাম। মানুষের জীবন চলে যায়, গান থাকে। সঙ্গীতচর্চার মাধ্যমে সমাজকে বদলে দেওয়া যায়। আশা করি, সংগঠনটি সবসময় সেই কাজটিই করে যাবে।’ প্রতি উত্তরে সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ বলেন ‘মিতা হকের মতো গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দিতে পেরে আমরাও গর্বিত’।

পরে সমাপনী সন্ধ্যার প্রাক্কালে স্বদেশের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে সবাই মিলে গাইলেন কবিগুরুর সেই অমর সঙ্গীত। সমবেত কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়েছেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।’ এ সময় শিল্পীদের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে দেশের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করেছেন শ্রোতারাও। জাতীয় সঙ্গীতের পর শিল্পীরা পরপর পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক পর্যায়ের গান ‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’ ও পূজা পর্যায়ের গান ‘তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে’।

সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের পূজা-প্রেম পর্যায়ের গানের পাশাপাশি ভাঙা, বৈচিত্র্য পর্যায় ও নৃত্য নাট্যের গান। একক কণ্ঠে সুফিয়া জাকারিয়া গেয়ে শোনান ‘ভালবেসে যদি সুখ নাহি, অর্পনা খান গাইলেন ‘আমি কেবলই স্বপন’, মিতা দে ‘যে কেবল পালিয়ে বেড়ায়, নুসরাত জাহান রুনা ‘খাঁচার পাখি ছিল সোনার’, রাবিতা সাবাহ শোনালেন ‘সখী ভাবনারে কাহারে বলে, টিপু চৌধুরী ‘ন্যায় অন্যায় জানিনে’, বনানী দত্ত ‘ওই জানালার কাছে’, মাহজাবিন রহিম মৈত্রী ‘তোমার অসীমে প্রাণমন’, খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম ‘গরব মম হয়েছে, প্রভু, দিয়েছ বহু লাজ’, কাজল মুখার্জি ‘ও যে মানে না মানা’, সানজিদা রহমান ‘গোধূলি গগন মেঘে’, তমাল চক্রবর্তী ‘আজ তোমারে দেখতে এলাম’, মাখন হাওলাদার ‘মনে রবে কিনা রবে’, রুমঝুম বিজয়া রিসিল ‘আমি তোমার প্রেমে’, সুরাইয়া ইমাম ‘কে দিল আবার আঘাত’, কাকলী গোস্বামী ‘আধেক ঘুমে নয়ন’, আসিফুল বারী ‘তুমি কি কেবলই ছবি’।
এ ছাড়া আরও একক গান পরিবেশন করেন-তপন মাহমুদ, অনুপম কুমার পাল, খোকন চন্দ্র দাস, খন্দকার আবুল কালাম, মামুন জাহিদ খান, মহাদেব ঘোষ, অনিকেত আচার্য্য, মিজানুর রহমান, নীলুফার রহমান, আহমেদ মায়া আকতারী, ফেরদৌসী কাকলী, কনক খান প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ। এ সময় সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আকবর উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সালমা আকবর ও পীযুষ বড়য়া। এবারকার আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার মাঝে আমার সাথে থাকো,/আমায় সদা তোমার মাঝে ঢাকো,/নিয়ত মোর চেতনা-’পরে রাখো/ আলোকে-ভরা উদার ত্রিভূবন।’

গত ১০ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা শতাধিক শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের মুক্তাঙ্গনে ‘ভুবনেশ্বর হে, মোচন কর’বন্ধন সব মোচন কর হে’ পূজা-প্রার্থনা পর্যায়ের গানের সঙ্গে এক ঝাঁক বর্ণিল বেলুন উঁড়িয়ে তিন দিনের উৎসবের উদ্বোধন করেন কথাশিল্পী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

সমাপনী দিনেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অর্ধশতাধিক শিল্পী পরিবেশন করেন আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত।