ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩২:৪৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

শেরপুরের বনাঞ্চলে সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে বাহারি রঙের গোলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৩ এএম, ২ অক্টোবর ২০২২ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শেরপুরের বনাঞ্চলে পতিত জমিতে সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে বাহারি রঙের গোলাপ। জেলায় প্রথমবারের মত নানা রঙের গোলাপ চাষ শুরু করেছেন মোহাম্মদ আলী নামে এক যুবক।

স্থানীয়রা বলছেন, গোলাপ চাষ শুরুর পর বেকার যুবকরা পেয়েছেন কর্মসংস্থানের পথ। তেমনি পড়ে থাকা জমি চাষের আওতায় আসায় ভূমি মালিকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

অন্যদিকে উচ্চ মূল্যের ফসল গোলাপ আবাদ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বাগানের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী জানান, জেলার ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া এলাকার সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে ১৫০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের গোলাপ বাগান। গত ১৫ বছর যাবত ঢাকার শাহবাগ, উত্তরা, ধানমন্ডি এবং গুলশানে নানা ধরণের ফুলের ব্যবসা করতেন তিনি। এক সময় চিন্তা করেন নিজ গ্রামের বনাঞ্চলে পড়ে থাকা জমিতে গোলাপ চাষ করবেন।

এই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চুক্তি ভিত্তিতে বাৎসরিক সাড়ে তিন লাখ টাকায় আট বছরের জন্য জমি লিজ নেন। গোলাপ বাগানের নাম রাখেন জননী ফ্লাওয়ারস গার্ডেন। মোহাম্মদ আলী আরও জানান, নিজের পুঁজি এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে এক পরিচিত জনের মাধ্যমে দুই দফা চাইনিজ ও থাই জাতের ১৮ হাজার গোলাপের চারা সংগ্রহ করেন। পরে জমিতে জৈব সার, টিএসপি ও ইউরিয়া ব্যবহার করে চারা রোপণ করেন।

আর চারা রোপণের এক মাস পর থেকে ফুল আসা শুরু করে তবে বিক্রি উপযোগী ফুল পাওয়া যায় চারমাস পর থেকে। প্রায় সাতমাস বয়সী ওই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে সাদা, লাল, হলুদ ও পিংক কালারের বাহারী গোলাপ।

বাগানের শ্রমিক ফজলুর রহমান ও কুসুম আলী জানান, তারা বাগানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন। প্রতিটি গাছের পরিচর্যা ছাড়াও বিক্রির জন্য ফুল কাটিং, পরিস্কার করা এবং পাইকারদের হাতে পোঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এ জন্য তারা মাসিক ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা মজুরি পান।

এছাড়া প্রতিনিয়ত বাগান আগাছা মুক্ত রাখতে আরও বেশ কিছু শ্রমিক দৈনিক চুক্তি ভিত্তিতে শ্রম দেন। তারা মনে করেন গ্রামে গোলাপ বাগান হওয়ায় বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় পাইকার আছর আলী এবং মোকছেদ বলেন, উৎপাদিত গোলাপ স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ১৮০০-২০০০ পিস ফুল সংগ্রহ করা হয়। যার ১শ পিসের ফুলের ঝুড়ি দুই থেকে চার হাজার টাকায় হাত বদল হয়।

ওই জমি লিজদাতা মনজুর মিয়া বলেন, মোহাম্মদ আলীর সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই গোলাপ বাগান তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছেন। তার আরও কিছু পড়ে থাকা জমি অন্য যুবকরা ভাড়া নিয়ে গোলাপ বাগান করতে চাইছে।
স্থানীয় দোকানদার রশীদ জামান ও গেদা মিয়া বলেন, এলাকায় ফুলের রানী গোলাপের দেখা পেতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন। এ কারণে তাদের বিকিকিনিও বেড়েছে। মোহাম্মদ আলী বলেন, বাগান করার মাঝ পথে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়। এ সময় হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে বাগান বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। যে কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হই। পরে আবার ধার দেনা করে বাগানটা দাঁড় করানোর চেষ্টা করি। বাগানটির বয়স এক বছর পূর্ণ হলে আশা করছি আরও ভালো কিছু হবে।

মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, শীত গোলাপের ভরা মৌসুম। আর সেই সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যহাতির আনাগোনাও বেড়ে যায়। ওইসব হাতির দল যে দিক দিয়ে যায়, সেখানকার সকল ধরণের ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে। তাই বন্যহাতি প্রবণ এই এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নজর দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কৃষিকর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এক ইঞ্চি জমিও যেনো পতিত পড়ে না থাকে। আমরা সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ আলী গোলাপ বাগান করেছেন। মাত্র ছয় মাসে তিনি ওই বাগান থেকে চার লাখ টাকা আয় করেছেন।

উচ্চ মূল্যের ফসল গোলাপ আবাদ ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে কৃষিকর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার।