ঢাকা, রবিবার ২১, জুন ২০২৬ ২১:০৫:২০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ৬৮ বছরে দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা আজ বাবা দিবস: ভালোবাসায় বাবাকে স্মরণের দিন ‘২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে’ বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে দিল জাপান লিবিয়া উপকূলে নারীসহ ১৫ অভিবাসীর লাশ উদ্ধার

সম্মতিপত্রে যা লিখেছিলেন সারার মা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২০ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৩ শুক্রবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মাত্র ২০ বছর বয়সে সারা ইসলাম চলে গেলেন পরপারে। তার দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুই নারীর শরীরে। আর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হবে আরও দুজনের চোখে। অবশ্য মৃত্যুর আগে সারা তার পুরো দেহটাই দান করে দিতে তার মাকে বলে গেছেন।
মেয়ে হারানোর অতল শোক নিয়েও সারা ইসলামের মা শবনম সুলতানা সম্মতি দিলেন তার মেয়ের  দুটি কিডনি ও চোখের কর্নিয়া দান করার বিষয়ে। এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি সম্মতিপত্র লিখেছেন। সে সম্মতিপত্রে তিনি লিখেছেন।

‘আমি রোজিনীর মা শবনম মুলতানা এই মর্মে প্রত্যয়ন করতেছি যে; আমার মেয়ে সারা ইসলাম (২০), (multiple tubular Sclerosis) রোগের অপারেশেন পরবর্তী জটিলতায় ZCU, BSMMU ভর্তি করানো হয়। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে, অত্র ১৮-০১-২০২৩ তারিখে ডাক্তারেরা তাকে (Brain stem Death) ঘোষণা করেন। এমতা অবস্থায় আমি স্বেচ্ছায় প্রনোদিত হয়ে আমার মেয়ের দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া দান করিতে সম্মতি দান করছি। ইহাতে কোন প্রকার ভয় ভীতি বা আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়নি। এই অস্ত্রপ্রচার এবং কিডনি ও কর্নিয়া দান সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা, জটিলতা হলে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সদস্য, অধ্যাপক, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারী দায়ী থাকবে না।’
এর আগে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে কিডনি অপারেশন থিয়েটারে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সার্বিক নির্দেশনায় এ কিডনি ও চোখের কর্নিয়া দান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রথম অঙ্গদাতা সারা ইসলামের নাম বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
কিডনি ও কর্নিয়া দানকারী সারা ইসলামকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঙ্গদানের কাজে উদ্বুদ্ধ করেন বিএসএমএমইউয়ের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে এই কিডনি প্রতিস্থাপনের ফলে এক মৃতদেহে প্রাণে বেঁচে গেল দুইজন।
সারা ইসলামের দান করা একটি কিডনি মিরপুরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী শামীমা আক্তারের দেহে প্রতিস্থাপন হয়েছে। অন্য কিডনি ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে আরেক নারীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সারা ইসলাম তার দুটি কর্নিয়াও দান করেছেন।
বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অঙ্গদাতা সারা ইসলাম ১০ মাস বয়সে দুরারোগ্য টিউমার স্কেলেলিস রোগে আক্রান্ত হন। এ রোগের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করেন তিনি। এই রোগ নিয়ে লড়াই করা অবস্থায় সারা ইসলাম অগ্রণী গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভে (ইউডা) ফাইন আর্টসে ভর্তি হন। সারা ইসলাম ফাইন আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় বিএসএমএমইউয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রয়াত সারা ইসলামের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শরীক হন।