ঢাকা, বুধবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৯:৩৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গাজা গণহত্যা: ফ্রান্সে দুই ইসরায়েলি নারীর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আজ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বায়ু ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৪ লাখ শিশুর মৃত্যুঝুঁকি: গবেষণা সতর্কবার্তা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন কারাবন্দিরা চালকদের বদঅভ্যাসেই শব্দদূষণ বাড়ছে: রিজওয়ানা রমজানে কম দামে মাংস, মুরগি, ডিম ও দুধ বিক্রি করবে সরকার

আজ বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ টিউব নির্মাণ সমাপ্তি অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৪১ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০২২ শনিবার

বঙ্গবন্ধু টানেল

বঙ্গবন্ধু টানেল

দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল জানুয়ারিতে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে টানেলের ৯৪ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জমকালো উদ্বোধনের আগে আজ শনিবার সরকার টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মান কাজের সমাপ্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি  উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস চট্টগ্রামে উদযাপনের স্থান পরিদর্শন করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আহমদ কায়কাউস জানান, ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ৯৪ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী জানুয়ারিতে টানেলের সব কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই টানেলটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে।"

এক প্রশ্নের জবাবে কায়কাউস বলেন, টানেলটি জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ০.১৬৬ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, টানেলটি চট্টগ্রামের যানজট পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পদ্মা সেতুর পর আরেকটি মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

সেতু বিভাগের সচিব মো: মনজুর হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেলটি বাংলাদেশের গর্ব, মর্যাদা এবং একটি মেগা কাঠামো সম্পন্ন করার সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, ‘এক নগর, দুই শহর’ নকশার ভিত্তিতে চীনের সাংহাই নগরীর মতো বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে নির্মাণ করার প্রকল্প নিয়েছে সরকার।

মঞ্জুর বলেন, টানেলের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার, বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কর্ণফুলী টানেল দিয়ে আনোয়ারা ক্রসিং হয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে ।

তিনি বলেন, এতে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি চাকায় গতি সঞ্চারিত হবে এবং জীবনযাত্রার মান ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

মঞ্জুর উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উন্নয়নে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, টানেলের ভেতরের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং শুধু বৈদ্যুতিক লাইন ও কিছু কারিগরি কাজ বাকি আছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত দেশী-বিদেশী প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, টানেলটি জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। "ব্যাপক কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং শিল্পায়নের ফলে অর্থনীতি একটি নতুন মাত্রা পাবে।"

হারুনুর রশীদ বলেন, টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম বন্দর এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরের সঙ্গে একটি উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

তিনি আরো বলেন, পূর্বাঞ্চলের শিল্প কারখানা থেকে উৎপাদিত পণ্য ও কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরে নিয়ে যেতে সময় ও খরচ কম লাগবে।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথভাবে কর্ণফুলী টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম টানেল টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন এবং  ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন।

টানেলটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি প্রান্ত থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং আনোয়ারায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মধ্যে নদীর তলদেশে সংযোগ স্থাপন করছে।

মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিমি এবং এতে দুটি টিউব রয়েছে। প্রতিটিতে দুটি লেন রয়েছে। এই দুটি টিউব তিনটি জংশনের (ক্রস প্যাসেজ) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে। এই ক্রস প্যাসেজগুলি জরুরী পরিস্থিতিতে অন্যান্য টিউবগুলিতে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। টানেল টিউবের দৈর্ঘ্য ২.৪৫ কিমি এবং ভিতরের ব্যাস ১০.৮০ মিটার।

মূল টানেলের পশ্চিম এবং পূর্ব দিকে একটি ৫.৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে টানেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ১০,৫৩৭ কোটি টাকা। চীনের এক্সিম ব্যাংক ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এবং বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।