ঢাকা, সোমবার ১৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৩:৫৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আশ্রয়প্রার্থী নারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু গাজীপুরে সুটকেসবন্দী নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে পাকিস্তানের মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারতের মেয়েরাও চীনে চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা কানাডায় আজীবন সম্মাননা পেলেন অভিনেত্রী শান্তা ইসলাম ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমছে না গরম তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে ব্যাংক

আশ্রয়প্রার্থী নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১০ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজন নারী ব্রিটিশ পুরুষদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব ঘটনার পরও অনেক নারী পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে ভয় পেয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, অভিযোগ করলে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ডোভার ও পোর্টসমাউথে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের প্রতিবাদে ডানপন্থী আন্দোলনকারী ড্যানি টমোর নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভেও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়। 

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আশ্রয়প্রার্থী নারীদের কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এক নারী ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্যে যান। তিনি প্রায় দুই বছর একটি আশ্রয় হোটেলে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেখানকার এক কর্মী নিয়মিত তাঁকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতেন।

একপর্যায়ে ওই কর্মী তাঁর কক্ষে যাতায়াত শুরু করেন এবং পানীয় ও বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে হোটেলের তথ্যভান্ডার থেকে তাঁর ফোন নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত নম্বর থেকে বারবার যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাঁকে অন্য একটি হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরান থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়া আরেক নারী জানান, হিথরোর কাছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় থাকা একটি হোটেলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে ধর্ষণ করেন। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও ইরানের পুলিশের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভয় পান। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ধর্ষণের অভিযোগ করলে আশ্রয়ের আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। পরে তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

উগান্ডার এক সমকামী নারীও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। যৌন পরিচয় প্রকাশ পেলে নিজ দেশে কারাবন্দী বা মৃত্যুর আশঙ্কায় তিনি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী না পেয়ে একজন বেসরকারি অভিবাসন আইনজীবীর কাছে যান। তাঁর অভিযোগ, পারিশ্রমিক দেওয়ার অর্থ না থাকায় ওই আইনজীবী তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেন।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তিন নারীই পরে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা বাস্তবের তুলনায় কম নথিভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তেও আশ্রয়কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রস জানিয়েছে, এসব দুর্বলতার কারণে তাদের সামনের সারির কর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। একটি হোটেলে গভীর রাতে এক কর্মী গোসলরত এক নারীর কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়। অন্য একটি হোটেলে ‘ব্যাপক যৌন হয়রানির সংস্কৃতি’ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন বলেছে, নারী ও মেয়েদের ওপর সহিংসতাকে ব্যবহার করে আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। তাদের মতে, যৌন সহিংসতা কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তা বা অভিবাসন অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসও আশ্রয়প্রার্থী নারী ও মেয়েদের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই নারীরা যৌন নির্যাতন ও শোষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকের নিজেদের অধিকার এবং সহায়তা পাওয়ার পথ সম্পর্কেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

অন্যদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে অভিযোগকারীর তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান