ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১২:০৩:০১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সমালোচনায় গ্রেটা থুনবার্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪০ পিএম, ৮ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

গ্রেটা থুনবার্গ

গ্রেটা থুনবার্গ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিখ্যাত জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া সাম্প্রতিক হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, বর্তমান সময়ে সমাজ যেন গণহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, আর কখনো ফিরে আসবে না।” এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এই প্রেক্ষাপটে থুনবার্গ ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় মানুষের নীরবতার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

থুনবার্গ বলেন, বিশ্বের প্রভাবশালী একজন নেতা যখন প্রকাশ্যে একটি সভ্যতা ধ্বংসের কথা বলেন, তখন বিশ্ববাসীর নীরবতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এমন গুরুতর বক্তব্যের পরও মানুষ তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। তার মতে, এই নীরবতা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের পথ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে গণহত্যা, একটি জাতির ধ্বংস এবং প্রকৃতির বিপর্যয়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিচ্ছি। একই সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বর্ণবাদী যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তি দিয়ে দিচ্ছি।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে এই ধারা পরিবর্তনের এবং শান্তির পথে ফিরে আসার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির তরুণ প্রজন্ম (জেনারেশন জেড) বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধ নিয়ে অনেক বেশি সন্দিহান। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ মনে করেন, এই ধরনের যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেবে। অন্যদিকে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই সমর্থন ৬৭ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা গেছে, তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করে, যুদ্ধের ফলে ইরানি জনগণের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ডেমোক্র্যাট তরুণদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ এই মত পোষণ করেন, যেখানে বয়স্কদের মধ্যে এই হার তুলনামূলকভাবে কম। একইসঙ্গে ৫০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় ৭৫ শতাংশ একটি নতুন বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রজন্মগত বিভাজন নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। বর্তমানে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব আরও জোরদার করেছে। 

তথ্যসূত্র : রয়টার্স