ঢাকা, রবিবার ১১, অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪৫:৪৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সিলেটে জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা বাড়ল তেল ও চালের দাম, দিশেহারা ক্রেতারা কোম্পানীগঞ্জে বাসচাপায় মা-মেয়ে নিহত মমতাকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লির পুলিশ কন্যাশিশু দিবস:প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাল্যবিয়ের শিকার এক কন্যাশিশু জামালপুরে বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা

কন্যাশিশু দিবস:প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাল্যবিয়ের শিকার এক কন্যাশিশু

উইমেননিউজ২৪ ডেস্কঃ | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২৬ এএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বে প্রতি তিন সেকেন্ডে একজন কন্যাশিশুর বিয়ে হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ শিশু। বাল্যবিয়ে বন্ধ করা এবং কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে আজ ১১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস।


জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করি, কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’। কন্যাশিশু, তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


জাতিসংঘ বলছে, প্রতিটি কন্যাশিশুর সুন্দর শৈশব, শিক্ষা গ্রহণ, বেড়ে ওঠা, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। কিন্তু বাল্যবিয়ের কারণে অনেকেই এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলে, যেখানে ৩১ শতাংশ কন্যাশিশুর বিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হয়।


বাল্যবিয়ে কন্যাশিশুর পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে পারে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং তাদের সহিংসতার মুখে ঠেলে দিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বিষণ্নতা ও মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়ে। বিশ্বজুড়ে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণের মধ্যে আত্মক্ষতিও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।


তবে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করে সংস্থাটি। গত ২৫ বছরে কন্যাশিশুর শিক্ষায় বিনিয়োগ, আইন সংস্কার ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ফলে আনুমানিক ৬ কোটি ৮০ লাখ বাল্যবিয়ে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ।


সংস্থাটির মতে, বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি পরিবর্তন, কন্যাশিশুর নেতৃত্বের বিকাশ এবং তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।


জলবায়ু সংকটও কন্যাশিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এ বছরের ‘বিশ্বের কন্যাশিশুদের অবস্থা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পাঁচ হাজার কিশোরী ও তরুণীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কীভাবে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যৌন সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকির সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে।


আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালনের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব নারী সম্মেলন। ওই সম্মেলনে গৃহীত বেইজিং ঘোষণা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। পরে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ঘোষণা করে।


জাতিসংঘের আহ্বান, কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকর আইন, নীতিমালা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কন্যাশিশুদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে। কন্যাশিশুরা নিরাপদে বেড়ে উঠতে, শিক্ষা পেতে ও নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারলে পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।


সূত্র: জাতিসংঘ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল