কেঁচো সার বিক্রি করে স্বাবলম্বী উত্তরের কৃষাণীরা
ফিচার ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৯:৪১ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২২ মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
কেঁচো সার উৎপাদন করে বেকারত্ব দূর করছেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষাণীরা। বাড়ছে নারীদের কাজের পরিধি ও আয়। এতে তারা একদিকে স্বাবলম্বী হচ্ছে আবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।
কৃষাণীদের কেঁচো সারের গুণগত মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে জেলার কৃষকদের চাহিদা পূরণ করছেন। সার বিক্রি করে তারা প্রতিমাসে আয় করছেন লাখ টাকা। মাত্র এক বছরের মধ্যে নিজেদের সফল খামারি হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন অনেকে। কৃষিণীরা আর্থিকভাবে যেমন স্বাবলম্বী হতে দেখে এখন জেলার অনেক যুবক ও নারীরা বিষমুক্ত এ জৈব সার উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছেন।
জানা যায়, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সিডিএ) দিনাজপুরের আর্থিক সহায়তায় রাণীশংকৈল উপজেলার গাংগুয়া গ্রামে জৈব কৃষি চর্চা নারী উন্নয়ন জনসংগঠনের ৩৬ জন নারীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গত বছর এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ সংগঠনের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে কেঁচো সার তৈরির শেড।
ফসলের ক্ষেতে রাসায়নিক সার ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয় কৃষকদের। আর এই ব্যয় কমিয়ে আনতে কেঁচো দিয়ে তৈরি করা সার উৎপাদন শুরু করেন তারা। হাতের নাগালে ভালো মানের সার পাওয়ায় এখন কৃষকরা তা কম দামে কিনে জমিতে প্রয়োগ করছেন। ফলে ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি হচ্ছে।
কৃষক আশরাফ আলী ও রহিমউদ্দিন বলেন, এ বছর কেঁচো সার দিয়ে ধান ও মরিচের আবাদ করেছি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে।
লুতফর হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, কৃষাণীদের উৎপাদিত সার দিয়ে ধান, ভুট্টা, মরিচ ও মুগডাল আবাদ করেছি। অন্য সারের তুলনায় অর্ধেক খরচ হয়েছে।
সংগঠনের সদস্য কুলসুম আক্তার জানান, সিডিএর সহযোগিতায় গত বছর আমরা ২০টি হাউস তৈরি করি। এ শেড থেকে যে সার উৎপাদন হয় সেগুলো আমরা ১৫-১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। এপর্যন্ত আমরা এই শেড থেকে লক্ষাধিক টাকার অধিক কেঁচো সার বিক্রি করেছি।
আফসানা পারভীন নামের আরেক সদস্য জানান, কেঁচো, গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছ, খড়কুটা দিয়ে মাত্র ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে কেঁচো বা জৈব সার। এলাকার বেশিরভাগ কৃষক এখন অন্য সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন এই সার। রিং, কারেন্ট ও হাউজ পদ্ধতিতে এ সার উৎপাদন করছি আমরা। বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কেঁচো সারের কোন বিকল্প নেই।
রহমত আলী নামের এক সদস্য জানান, শেডের ভিতরে অর্থাৎ বাড়িতে কেঁচো সার উৎপাদন যেমন সহজ তেমনি এর চাহিদাও বেশি। এ কাজ থেকে বিনা ঝামেলায় অতিরিক্ত আয় হয়, পাশাপাশি নিজেদের জমিতেও ব্যবহার করছি এ সার। এর সারের ব্যবহারের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সিডিএর মহলবাড়ি ইউনিট ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বলেন, গোবর, তরকারির খোসাসহ আবর্জনা দিয়ে কেঁচোর মাধ্যমে প্রক্রিয়া করে আদর্শ ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করা হয়। এগুলো ফসলের জন্য খুবই উপকারী।
তিনি বলেন, গত বছর আমরা আমাদের এনজিও থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে এই জনসংগঠনের সদস্যদের টিনের শেডে ২০টি হাউস তৈরি করে দিই। এখন তারা সার উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে আর্থিকভাবে ভালোই স্বাবলম্বী হয়েছে।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কেঁচো সারটি ফসল উৎপাদনের জন্য অনেক ভালো। এ সার ব্যবহারের খরচও অনেক কম। এছাড়া সারটি দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমরা কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে এবং কৃষকদের রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে কম্পোস্ট সারের ব্যবহার বাড়াতে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে নারীরা একদিকে স্বাবলম্বী হচ্ছে আর অন্যদিকে তাদের কর্মসংস্থান বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে এ এলাকার নারীরা এখন আত্নমর্যাদায় বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। এ এলাকার নারীরা কেঁচো সার বিক্রিতে আরো ভালো করবে এবং এ ব্যবসায় নারীদের অগ্রগতির পথকে প্রসারিত করবে।
- পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে
- ‘এখন আরও দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করছি’
- চ্যাম্পিয়ন সাবিনাদের জন্য ছাদখোলা বাস
- পুকুর পাড়ে হলুদ শাড়িতে ভাবনা
- ‘শৈশবে ফিরলেন’ নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা
- নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত
- ইরান অভিমুখে আরও মার্কিন নৌবহর
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ
- বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিলেন কনে
- রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া সেই শিশুকে মৃত ঘোষণা
- ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির, আগে টাকা দিলেই কাজ হতো’
- কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
- আমলকির তেল কি চুল পড়া বন্ধ করে?
- এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে
- হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল
- নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ
- ‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মেয়েদের হেনস্তা করা হচ্ছে’
- সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি
- ৩ দিন চলবে না মোটরসাইকেল, একদিন মাইক্রো-ট্রাক
- আয়রনের ঘাটতি, যে কারণে শুধু সাপ্লিমেন্ট যথেষ্ট নয়
- সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষা করবে মেটা
- মেয়েদের টানা জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে
- নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই: পাপিয়া
- ঋতুপর্ণার হ্যাটট্রিকে ১৩-০ গোলের জয়
- দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
- স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা
- প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ
- ১৭ বছর বড় বড় গল্প শুনেছি: তারেক রহমান
- গণভোট নিয়ে কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৮ উদ্যোগ
- ৪০ হাজার কোটির রাজস্ব হলেও ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি


