ক্ষুদ্র পার্লার ব্যবসায়ি জহুরা আজ উইমেন চেম্বারের সদস্য
ফিচার ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৩:৪৬ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার
ফাইল ছবি।
নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার বাগবের গ্রামের কিশোরী জহুরা। পারিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মাত্র ১২ বছর বয়সেই যাকে বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। তবে সেটা তার নিজের ইচ্ছেতে নয়, বাবা-মা বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেন জহুরাকে।
বাবা-মা এক প্রকার জোর করেই বিয়ে দেন তার চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি বয়সী এক লোকের সাথে। ঘটনাটি ২০০৩ সালের শুরুতে। বিয়ের পর কিছুদিন হাসি-খুশি দিন কাটে তার। নতুন হলেও সকলের সাথে মিলিয়ে নিয়েছিলেন জহুরা। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণএকটাই। জহুরার স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা তাকে চাপ দিতে থাকে যৌতুকের জন্য। আস্তে আস্তে শুরু হয় শারিরীক নির্যাতন।
এই নির্যাতনের মধ্যেই ২০০৩ সালের শেষের দিকে জহুরার কোল জুড়ে আসে একটি কন্যা সন্তান। তারপরও পাল্টেনি জহুরার ভাগ্য। বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা। এতকিছুর পরও সব মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছিলেন জহুরা শুধুমাত্র তার সন্তানের মুখ দেখে। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা যেন দিন দিন বেড়েই চলে।
এমন অবস্থায় জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার ভাবনা পেয়ে বসে জহুরাকে। সন্তানের বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখন জীবনের কঠিন এক সিদ্ধান্ত নেন জহুরা। স্বামীকে তালাক দেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ফিরে আসেন বাবার বাড়ি।
কিন্তু বাড়ি এসেও শান্তির দেখা মেলেনি জহুরার। উল্টো পরিবারের সবাই দোষ দিতে থাকে তাকে। জানিয়ে দেয়া হয়, তাকে কোনো সহযোগীতা করবে না পরিবার। কিন্তু জহুরা অনড়। শশুর বাড়ি আর ফিরে যাবেন না। বরং যে কোন ভাবেই তিনি আবার শুরু করতে চান একটি নতুন জীবন। বুঝতে পারেন তাকে নিজ পাঁয়ে দাঁড়াতে হলে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
এদিকে দিন দিন বাড়তে থাকে নিজ পরিবারের নির্যাতনও। তাদের একটাই কথা আবার ফিরে যেতে হবে আগের স্বামীর কাছে। দিন দিন বাড়তে থাকে পরিবারের মানসিক নির্যাতন।
এরই মাঝে একদিন জহুরার সাথে দেখা হয় স্থানীয় এক এনজিও কর্মকর্তার। তার বুদ্ধিতেই জহুরা প্রশিক্ষণ নেন নারীদের মেকআপ করানোর বিষয়ে। প্রশিক্ষণ শেষে নিজের জমানো মাত্র ৩,৩৫০ টাকায় নিজ বাড়িতে শুরু করেন কাজ। অল্প দিনেই স্থানীয় নারীদের মাঝে তিনি হয়ে উঠেন খুব জনপ্রিয়। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে তার সেবা গ্রহীতার সংখ্যা।
এরপর একদিন জহুরা সিদ্ধান্ত নেন এবার বাড়ির বাইরে নিয়ে যেতে হবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে। দৃঢ় প্রত্যয়ী জহুরা বাগবের বাজারে ভাড়া নেন এক রুমের একটি দোকান। শুরু করেন নতুন জীবন। শুরু করেন বিউটি পার্লারের ব্যবসা।
ব্যবসায় যখন সাফল্য আসে ঠিক তখনই আবারো তার পরিবার চাপ দিতে থাকে সংসার করার জন্য। কিন্তু জহুরা আবারো তাদের ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তারা জহুরার তের বছর বয়সী কন্যা জয়ীতাকেও নির্যাতন শুরু করে। জহুরাকে চাপ দেয় জয়ীতাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাতেও রাজি না জহুরা।
সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন জহুরা। সিদ্ধান্ত নেন আর পরিবারের সাথে থাকবেন না। বিউটি পার্লারের পাশেই এক রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকা শুরু করেন মা-মেয়ে। ২০১৫ সালে জহুরা ভর্তি হন মৌরাপুরা ডিগ্রী কলেজে। পাশাপাশি সে আরো উচ্চতর ট্রেনিং নেন মেকআপের উপর।
এরপর থেকেই আরো জমজমাট হয়ে ওঠে জহুরার বিউটি পার্লারের ব্যবসা। এখন আর তিনি একা নন, আরো নারীদের নিজেই প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যবসার পরিধি আরো বৃদ্ধি করেন।
এক সময় যার সংসার চালানোই কঠিন ছিল যার বর্তমানে সেই জহুরার মাসিক আয় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনি এখন বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারের একজন নির্বাচিত সদস্য। তার মেয়ে জয়ীতা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।
পুরানো দিনের কথা বলতে গিয়ে জহুরা বলেন, সেসব দিনের কথা আমি মনেও করতে চাই না। সে সব দিনের কথা মনে উঠলে আমার গাঁ শিউড়ে উঠে। স্বামী আর তার পরিবার যেমন নির্যাতন করেছে...আমার পরিবারও আমাকে কম নির্যাতন করেনি।
তিনি বলেন, ভেবেছিলাম আমার পরিবারের সদস্যরা অন্তত আমাকে বুঝবে। কিন্তু উল্টো তারাই আমাকে দোষ দিয়েছে।
জহুরা বলেন, আমি এখন আর পুরনো দিনের দিকে তাকাতে চাই না। আমার মেয়েকে ঘিরেই এখন আমার সব স্বপ্ন। তাকে আমি পড়ালেখা শেষ করাবো, সে যেন নিজের পাঁয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ শিক্ষিত হওয়া একটি মেয়ের জন্য খুবই জরুরী।
- ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী
- দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী
- বগুড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: আহত ২ শতাধিক
- আদালতের রায়ে আফ্রিকার নতুন চ্যাম্পিয়ন মরক্কো
- কে-শফি বেকারির ‘সারা লাচ্ছা সেমাই’, স্বাদে অনন্য, দামে কম
- ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট ‘দেশী দশ’, ভিড় ক্রেতাদের
- মেরিলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন পূজা চেরি
- বিরল সাদা বাঘের জন্ম, মিরপুর চিড়িয়াখানায় আনন্দের ছোঁয়া
- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে মিত্রদের ‘না’, হতাশ ট্রাম্প
- ইফতারে খাবেন মজাদার বাঁধাকপির পাকোড়া
- মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ, ধীরগতিতে চলছে গাড়ি
- চিকিৎসার অভাবে ৪৯ লাখ শিশুর মৃত্যু, জাতিসংঘের উদ্বেগ
- বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩
- ধর্ষণ রোধে সমন্বিত সরকারি অ্যাকশন
- আনন্দ-ভোগান্তি মিলিয়ে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ
- উইমেননিউজের প্রধান উপদেষ্টা রিজিয়া মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ
- কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ নিহত ৬
- দিলরুবা খানমের একগুচ্ছ রোমান্টিক কবিতা
- চিকিৎসার অভাবে ৪৯ লাখ শিশুর মৃত্যু, জাতিসংঘের উদ্বেগ
- বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, রণক্ষেত্র গ্রিন জোন
- কমলাপুরে ব্যাপক ভিড়, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছাড়ছে
- শেষ সময়ের ঈদ বাজার: গৃহস্থালি পণ্য কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা
- জাতির পিতার জন্মদিন আজ
- ঈদ বাজার: শেষ সময়ের কেনাকাটায় বেশি ভিড়
- ইউসুফ কনফেকশানীর ইফতার: দামে কম, স্বাদে বেশ
- রাজধানী ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’
- শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা, পাঁচদিনের পূর্বাভাস জেনে নিন
- ধর্ষণ রোধে সমন্বিত সরকারি অ্যাকশন
- ইফতারে খাবেন মজাদার বাঁধাকপির পাকোড়া



