ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৮:৪০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

চীনে ভুয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৪৮ পিএম, ১০ মে ২০২৬ রবিবার

চীনে ভুয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ডিগ্রি ছাড়া দেওয়া যাবে না পরামর্শ

চীনে ভুয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ডিগ্রি ছাড়া দেওয়া যাবে না পরামর্শ

এবার ভুয়া বিশেষজ্ঞ এবং বিভ্রান্তিকর অনলাইন কন্টেন্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। এখন থেকে চিকিৎসা, অর্থনীতি, আইন বা শিক্ষা বিষয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরামর্শমূলক কন্টেন্ট প্রকাশ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত ডিগ্রি বা পেশাদার সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএসি) নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডুইন, বিলিবিলি এবং ওয়েইবোর মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন কন্টেন্ট নির্মাতাদের পেশাগত পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, আইনি পরামর্শ বা শিক্ষাসংক্রান্ত কন্টেন্টে ভুল তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথাকথিত ‘গুরু’ বা স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। অনেকেই কোনো স্বীকৃত যোগ্যতা ছাড়াই চিকিৎসা পরামর্শ, বিনিয়োগ কৌশল বা আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এতে আর্থিক ক্ষতি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক বিভ্রান্তি বাড়ছে বলে মনে করছে বেইজিং।

নতুন নীতিমালায় তথ্যসূত্র উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ভিডিও বা পোস্টে গবেষণা, পরিসংখ্যান বা বিশেষজ্ঞ মতামত ব্যবহার করলে তার উৎস পরিষ্কারভাবে দেখাতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা কন্টেন্টে নির্দিষ্ট লেবেল যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারেন কোন কন্টেন্ট বাস্তব এবং কোনটি এআই-নির্ভর।

নিয়ম ভঙ্গ করলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে কন্টেন্ট নির্মাতাদের। চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মগুলোর হাতে।

এই আইন শুধু পেশাগত পরামর্শের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষামূলক বা তথ্যমূলক কন্টেন্টের আড়ালে গোপনে ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট বা স্বাস্থ্যপণ্যের প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক ইনফ্লুয়েন্সার সাধারণ টিপস দেওয়ার ভান করে পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। নতুন নীতিমালায় সেই সুযোগও কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল নীতিবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনলাইন তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে চীনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও সমালোচকদের একাংশ একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, দ্রুত বিস্তৃত হওয়া ডিজিটাল জগতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

বিশ্বজুড়ে এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর কন্টেন্টের বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য যাচাই এবং পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনের এই সিদ্ধান্ত সেই বৈশ্বিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি