ঢাকা, শনিবার ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৮:৪৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দ্বিতীয় দিনে বইমেলায় ভিড় নেই, কাজ চলছে স্টলে স্টলে ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিল, মহিলা আ. লীগের সাত নেতাকর্মী গ্রেফতার ছুটির দিনে জমজমাট রাজধানীর ঈদের বাজার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধ রাজধানীসহ দেশের নানা স্থানে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

ছুটির দিনে জমজমাট রাজধানীর ঈদের বাজার

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৫৪ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদ সামনে রেখে আজ শুক্রবার রাজধানীর বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পরিবার নিয়ে কেনাকাটায় বের হন অনেকেই। ঢাকার শপিংমল, বড় বাজার ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। শপিংমল থেকে ফুটপাত—সবখানেই ক্রেতার ভিড়, বাড়তি দামে কেনাকাটার চাপ বেড়েছে।

সকাল থেকেই নিউ মার্কেট, গুলিস্তান, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও বসুন্ধরা সিটি এলাকায় কেনাকাটার চাপ বেশি দেখা গেছে। দুপুরের পর থেকে শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

পোশাকের দোকানে ভিড় বেশি

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ছেলেদের পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট-প্যান্ট এবং নারীদের থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ির দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড়। শিশুদের রঙিন জামাকাপড়ের স্টলেও অভিভাবকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

দোকানিরা বলছেন, এবার ঈদকে সামনে রেখে নতুন ডিজাইন ও হালকা কাপড়ের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে সুতি ও লিনেন কাপড়ের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ক্রেতারা বলছেন, ঈদের কেনাকাটায় এবার বাজেট সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাঞ্জাবি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, শাড়ি ৩ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের পোশাকের দামও ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শিরিন আক্তার বলেন, “বাচ্চাদের জন্য দুই সেট জামা আর নিজের জন্য একটা থ্রি-পিস কিনতেই ৮-৯ হাজার টাকা চলে গেল। আগের তুলনায় দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে।”

আরেক ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঈদে সবাই নতুন কাপড় কিনবে—এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দরদাম না করলে কেনাই যায় না।”

বিক্রেতাদের বক্তব্য

বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ার পেছনে পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচকে দায়ী করছেন। গুলিস্তানের এক পোশাক বিক্রেতা বলেন, “আমরাও বেশি দামে মাল কিনে এনেছি। কাপড়ের দাম, ভাড়া—সবকিছু বেড়েছে। তাই বিক্রির দাম একটু বেশি হচ্ছে।”

এক শপিংমলের দোকান ব্যবস্থাপক জানান, “ছুটির দিন হওয়ায় আজ বিক্রি ভালো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

ফুটপাতের দোকানেও জমে উঠেছে ঈদের বাজার

শুধু বড় মার্কেট নয়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতেও ঈদের বাজার জমে উঠেছে। জুতা, বেল্ট, পারফিউম, ঘড়ি ও কসমেটিকসের অস্থায়ী দোকানে ভিড় দেখা গেছে। কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় অনেক ক্রেতা ফুটপাতের দোকানেও ভিড় করছেন।

ফুটপাত থেকে জুতা কিনতে আসা রিকশাচালক সেলিম বলেন, “মলে গেলে দাম বেশি। ফুটপাত থেকে নিলে কমে পাওয়া যায়। ঈদে ছেলেমেয়ের জন্য কিছু কিনতেই হবে।”

যানজট ও নিরাপত্তা

বাজারকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে দুপুরের পর থেকে যানজট বেড়ে যায়। নিউ মার্কেট ও গুলিস্তান এলাকায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোড়ে মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

মার্কেট কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি ও পকেটমারের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শপিংমলগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সার্বিক চিত্র

সব মিলিয়ে শুক্রবারের ঈদের বাজারে রাজধানীজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ক্রেতাদের ভিড় যেমন ছিল, তেমনি দামের কারণে অসন্তোষও ছিল। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বাজারে ভিড় ও কেনাবেচা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।