জেলহত্যা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ১২:৪০ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার
ছবি: সংগৃহীত
আজ জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শোকাবহ দিনটিকে স্মরণ করে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান হোক জেল হত্যা দিবসের অঙ্গীকার। সোমবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান বন্দি অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন।
গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জাতীয় চার নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দু’দশকের অধিককাল ধরে জাতিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার আহ্বানে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।”
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তার অবর্তমানে ১৯৭১ সালে জাতীয় চার নেতা মুজিবনগর সরকার গঠন, রণ নীতি ও রণ কৌশল প্রণয়ন, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, কূটনৈতিক তৎপরতা, শরণার্থীদের তদারকিসহ মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে পরিণত করতে অসামান্য অবদান রাখেন। জাতি তাদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ঘাতক চক্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা। কিন্তু ঘাতক চক্রের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার আদর্শ চির অম্লান থাকবে।
“বঙ্গবন্ধু সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবেন- এটাই হোক জেল হত্যা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার”, বলেন রাষ্ট্রপতি।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
এক বাণীতে চার নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, দেশ বিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।
‘৩ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জমানকে ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের অভ্যন্তরে এ ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের সেই ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতারা পরবর্তী ২১ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। শাসক গোষ্ঠী কখনো সামরিক লেবাসে, কখনো গণতন্ত্রের মুখোশ পরে, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা ধরে রাখে। আত্মস্বীকৃত খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অরডিন্যান্স জারি করে। হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার বদলে বিদেশে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে এবং অনেককে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। অবৈধ শাসকেরা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়।
‘আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনে’ উল্লেখ করে বলেন, “আমরা জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারও সম্পন্ন হয়েছে। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করছি, বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।”
আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি সব সময়ই দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করতে ও স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে বারবার হামলা চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। এই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আদালত কর্তৃক ভয়াবহ ২১-এ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্র-বিরোধীদের যেকোনো অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দেশবাসী মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ধারা সমুন্নত রাখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
-জেডসি
- আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ২৬ কারখানা বন্ধ ঘোষণা
- তাপপ্রবাহের নীরব শিকার অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভের শিশু
- রানীর দিঘির পাড়: জমে আছে কত ইতিহাস, কত স্মৃতি
- ব্রেন টিউমার জয় করে অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি
- মোচার ঘণ্ট: নারকেল ও ছোলা দিয়ে বাঙালি রান্না
- বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহে ঝুঁকিতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশু
- মুখ খুললেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক
- দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পতন
- পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা
- এইচএসসির ফল প্রকাশ: কোন বোর্ডে পাসের হার কত
- এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
- এইচএসসির ফল: জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন
- এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
- অনলাইনে দ্রুত এইএসসির ফল জানবেন যেভাবে
- ঢাকার ছয় রুটে কাল থেকে চলবে ছয় কোম্পানির বাস
- তবলা বাজিয়ে রেকর্ড গড়ল আড়াই বছরের স্বরশ্রী
- দেশের ছয় বিভাগে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
- মেঘ সরলেই পঞ্চগড়ের আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা
- তাপপ্রবাহের নীরব শিকার অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভের শিশু
- এইচএসসির ফল: জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন
- হামে প্রাণ গেল ২ শিশুর, মোট মৃত্যু সাড়ে ১২০০ ছাড়ালো
- জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
- দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?
- বাবার স্মৃতির পথে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রাঙ্গণে
- বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহে ঝুঁকিতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশু
- বাজারে শীতের সবজির আগমন, স্বস্তি নেই সব পণ্যে
- ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, দূষণে ১২তম
- প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি
- দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পতন
- এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ











