ঢাকা, রবিবার ২২, মার্চ ২০২৬ ৫:২৯:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে আজ বন্ধ থাকছে মেট্রোরেল ঈদের দিন ফাঁকা রাজধানী, নিস্তব্ধতায় ভিন্ন এক ঢাকা জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘যমুনা’য় জনতার ঢল চাঁদরাতে কেনাকাটা: ভিড়ে মুখর নগর জীবন নারীদের জন্য রাজধানীর কোথায় কখন ঈদ জামাত আজ ঈদুল ফিতর, দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসব

টাইটানিকসহ ৩ জাহাজডুবি থেকে বেঁচে ফেরা নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০৪ এএম, ৬ এপ্রিল ২০২৩ বৃহস্পতিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মৃত্যু তার কাছে এসেও ফিরে গেছে বারবার! ভয়াবহ সব দুর্ঘটনার হাত থেকে শুধু নিজেই বেঁচে ফেরেননি, অন্যদেরও বাঁচিয়েছেন। নিজ কর্মগুণে আজ ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
সেই নারীর নাম হচ্ছে ভায়োলেট জোসেপ। ১৮৮৭ সালে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তারা ৬ ভাই-বোন। জন্মের পরপরই ভায়োলেট যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন। তার বেঁচে থাকার আশা খুবই ক্ষীণ ছিল। তবুও শেষ রক্ষা পান তিনি। তার যখন ১৬ বছর বয়স তখন তারা ইংল্যান্ডে চলে যান।

ভায়োলেটের মা ছিলেন একজন জাহাজের স্টুয়ার্ডেস। সেই সূত্রে ভায়োলেটও তার মায়ের মতো হতে চেয়েছিলেন। ২৩ বছর বয়সে ভায়োলেট বিখ্যাত আরএমএস অলিম্পিক জাহাজের একজন ক্রু হিসেবে কাজ শুরু করেন। অলিম্পিকে ক্যারিয়ার ছিল ১৯১১ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ২৪ বছর। ১৯১১ সালে, অলিম্পিক ছিল একটি বিলাসবহুল জাহাজ, যা তখনকার বৃহত্তম বেসামরিক লাইনার ছিল।

অলিম্পিকে যোগদানের পর জাহাজ যেদিন যাত্রা শুরু করে; সেদিনই আবহাওয়া ছিল খুবই খারাপ। ১৯১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভায়োলেট প্রথম জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হন। সেদিন অলিম্পিক সাউদাম্পটন থেকে ছেড়ে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস হকের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যদিও এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি এবং ক্ষতি সত্ত্বেও জাহাজটি ডুবে না গিয়ে বন্দরে ফিরেছিল।

এরপর ভায়োলেট যোগ দেন এমএস টাইটানিকে। আরএমএস টাইটানিকে স্টুয়ার্ডস হিসেবে আবারও নিযুক্ত হন ভায়োলেট। যাত্রা শুরুর চার দিন পর ১৪ এপ্রিল জাহাজটি উত্তর আটলান্টিকের একটি আইসবার্গে আঘাত লেগে বিধ্বস্ত হয়।

প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পরে ডুবেছিল বিশাল এ প্রমোদতরী। তিনি জাহাজের যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করতে থাকেন। লাইফবোটে একে একে যাত্রীদের নামিয়েছেন নিজ হাতে। এরপর লাইফবোটে ১৬ জনসহ বেঁচে ফেরেন।

টাইটানিক ট্র্যাজেডির চার বছর পর ভায়োলেট ব্রিটিশ রেডক্রসের নার্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। এইচএমএইচএস ব্রিটানিক নামক একটি জাহাজের ক্রু হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। জাহাজটি যাত্রীবাহী থেকে একটি ভাসমান হাসপাতালে পরিণত হয়। যেটি সাগরেই ঘুরে বেড়াত। হঠাৎ একদিন জাহাজে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ভায়োলেট পানিতে লাফিয়ে পড়ার সময় জাহাজের সঙ্গে লেগে তার মাথা ফেটে যায়। বিস্ফোরণ ঘটার ৫৫ মিনিটের মধ্যে ব্রিটানিক জাহাজটি ডুবে যায়। ১০৬৬ জন যাত্রীর মধ্যে ৩০ জন ডুবে মারা যান। ভায়োলেটের শরীরে লাইফ জ্যাকেট থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। এরপর উদ্ধারকারীরা তাকে লাইফবোটে উঠিয়ে নেন।

পরবর্তী জীবনে রেড স্টারলাইন, রয়েল মেল লাইনসহ বিভিন্ন সংস্থায় (শিপিং সংস্থা) কাজ করেছেন। ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে গিয়েছেন ভায়োলেট। ভায়োলেট ‘মিস আনসিঙ্কেবল’ নামে ইতিহাসে পরিচিত হয়ে আছেন। ১৯৭১ সালে ৮৮ বছর বয়সে কনজেসটিভ হার্ট ফেইলুরের কারণে মারা যান এ সাহসী নারী।

সূত্র : ইন্টারনেট।