ঢাকা, রবিবার ২০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৩৭:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এশিয়ান গেমস:সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারলো বাংলাদেশ আজ থেকে একাদশে ভর্তিযুদ্ধ শুরু, যেভাবে আবেদন করবেন সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম আজ প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন এশিয়ান গেমস: সেমিফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আটক ৩ পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নারীসহ ৪ জনের প্রাণহানী

ডায়ানাকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত ব্রিটিশ রাজপরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:১৩ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও তাঁকে ঘিরে পুরোনো ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি। ডায়ানার বড় ভাই আর্ল স্পেন্সারের নতুন স্মৃতিকথা প্রকাশের আগেই তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। বইটিতে রাজা তৃতীয় চার্লসকে ঘিরে করা একাধিক অভিযোগের জবাবে বিরলভাবে সরব হয়েছে বাকিংহাম প্যালেস।

‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ নামে স্মৃতিকথাটি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার কথা। বইটিতে ডায়ানার জীবন, রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পরের ঘটনাগুলো নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন স্পেন্সার।

বইটির প্রকাশের আগে প্রকাশিত অংশে স্পেন্সার দাবি করেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তাঁর একটি উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছিল। সেখানে চার্লস নাকি বলেছিলেন, ডায়ানাকে খুব শিগগিরই সবাই ভুলে যাবে। স্পেন্সারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই কথোপকথনের সময় চার্লসের কণ্ঠস্বরও তাঁর কাছে অস্বাভাবিকভাবে উচ্ছ্বসিত মনে হয়েছিল।

স্পেন্সারের আরও দাবি, ডায়ানার শেষকৃত্যে তাঁর দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারিকে মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তাঁর সঙ্গে চার্লসের মতবিরোধ হয়েছিল। তখন উইলিয়ামের বয়স ছিল ১৫ এবং হ্যারির ১২ বছর। স্পেন্সার মনে করেছিলেন, এত অল্প বয়সী দুই ছেলের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা হবে।

তবে স্পেন্সারের এসব বর্ণনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বাকিংহাম প্যালেস। এক বিরল প্রতিক্রিয়ায় প্রাসাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গভীর শোক মানুষের বিচারবোধ, স্মৃতি ও ঘটনার উপলব্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ স্পেন্সারের স্মৃতিচারণের নির্ভুলতা নিয়ে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

স্পেন্সার অবশ্য নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় তিন দশক আগের ওই কথোপকথনের কথা তিনি সে সময়ই ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছিলেন এবং এখনো তাঁর স্মৃতি নিয়ে তিনি নিশ্চিত।

১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সে মারা যান ডায়ানা। তাঁর মৃত্যু ব্রিটেনসহ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করে। ওই সময় রাজপরিবারের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্ক, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ এবং মৃত্যুর পর রাজপরিবারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। ডায়ানার শেষকৃত্যে স্পেন্সারের দেওয়া বক্তব্যও সে সময় বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

ডায়ানার মৃত্যুর ৩০তম বার্ষিকী সামনে রেখে প্রকাশিত হতে যাওয়া বইটিকে তাই ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে আগেই। স্পেন্সার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ডায়ানাকে নিয়ে নানা বক্তব্য ও ব্যাখ্যা শুনে এবার তিনি নিজের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বোনের জীবন তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি ডায়ানাকে তাঁর ভাইয়ের চোখে দেখার একটি সুযোগ তৈরি করবে।

নতুন বইয়ের প্রকাশের আগেই রাজপরিবারের সঙ্গে স্পেন্সারের প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে আসায় ডায়ানাকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বইয়ে থাকা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে স্পেন্সারের বক্তব্যের পাশাপাশি বাকিংহাম প্যালেসের অস্বীকৃতিকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ফলে ডায়ানার মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তাঁর স্মৃতিকথা ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই এখন নজর।