ঢাকা, রবিবার ০১, মার্চ ২০২৬ ২:১৯:২৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
অভিনয়েই নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই: তানজিন তিশা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল আজও জমে ওঠেনি বইমেলা, লোক আছে, ক্রেতা নেই ইরানে মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ হামলা, ৪০ শিক্ষার্থী নিহত আইসিসির মাস সেরা ক্রিকেটার সোবহানা মোস্তারি ঈদযাত্রায় ভাড়া বৃদ্ধি করলে কঠোর ব্যবস্থা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত দূষিত বাতাসে লাহোর প্রথম, দিল্লি দ্বিতীয় ও ঢাকা তৃতীয়

ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ, দৈনিক চাহিদা ৫ কোটি পিস

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:২৩ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশে ডিমের উৎপাদন ও চাহিদা নিয়ে নানা তথ্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ডিম উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকারি হিসাবে দৈনিক ডিমের চাহিদা প্রায় ৫ কোটি পিস, আর উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি পিসের কাছাকাছি। ফলে স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় উৎপাদন দিয়েই বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

খামার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় লেয়ার মুরগির খামার থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজশাহী ও বরিশাল অঞ্চল ডিম উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকা থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে ডিম।

চাহিদা–উৎপাদনের ব্যবধান
তবে সব সময় উৎপাদন ও চাহিদার হিসাব সমান থাকে না। কোনো কোনো সময়ে বন্যা, তাপদাহ, রোগব্যাধি বা খামার পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে আসে। তখন বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় এবং ডিমের দাম বেড়ে যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম তুলনামূলক সহনীয় দামে বিক্রি হয়। কিন্তু সরবরাহ কমে গেলে বা পরিবহন ব্যয় বাড়লে দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

আমদানির প্রয়োজন পড়ে কখন
যদিও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে সাধারণত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব, তবুও বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার বিদেশ থেকে ডিম আমদানির অনুমতি দিয়ে থাকে। মূলত বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিলে সাময়িকভাবে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক দফা সীমিত পরিসরে ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি নিয়মিত নয়, বরং বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়।

দাম বাড়ার কারণ
খামারিরা বলছেন, ডিম উৎপাদনের ব্যয় বাড়ায় বাজারে দামের চাপ পড়ছে। মুরগির খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিম উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। ফলে খামার পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।

একজন খামারি বলেন, “ফিডের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আমরা কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হয়।”

অন্যদিকে আড়তদার ও পাইকারদের মতে, পরিবহন ব্যয় ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকার কারণেও বাজারে দামের তারতম্য দেখা দেয়।

সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে দেশে ডিম উৎপাদন মোটামুটি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় সরকার মাঝে মাঝে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে উৎপাদন খরচ কমানো, খামারিদের সহায়তা বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এতে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং দেশীয় উৎপাদন দিয়েই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।