ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ৪:৩৫:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মোমবাতি জ্বেলে কালরাতের শহীদদের স্মরণ সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা আজ ২৫ মার্চের কাল রাত: রক্তে লেখা এক ইতিহাস ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় দিন: প্রধানমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন বাস নদীতে, নারী ও শিশুসহ ১৫ লাশ উদ্ধার মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

তেরেসা সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়নি: ভারত সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৮ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ভারতে মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকার মিশনারি পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করেনি। কলকাতাভিত্তিক সংস্থাটি নিজেই স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে তার অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিত করার জন্য বলেছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়।

এদিকে, মিশনারির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের খবরে প্রথমে কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি। পরে মাদার হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্র মিশনারিজ অব চ্যারিটির কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেনি। বরং সংস্থার পক্ষ থেকেই সব শাখাকে বিদেশি মূদ্রা সংক্রান্ত লেনদেন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে এটি ঠিক যে বিদেশি মূদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত যে কেন্দ্রীয় ছাড়পত্র প্রয়োজন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। গত ২৫ ডিসেম্বর সেই ছাড়পত্রের পুনর্নবীকরণ স্থগিত করা হয়। সেই কারণে আপাতত কোনো বিদেশি মূদ্রার লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত সংস্থার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ ডিসেম্বর একটি ‘অ্যাডভারস ইনপুট’ সম্পর্কে জানার পর সংস্থার এফসিআরএ বা ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট, লাইসেন্স নবায়ন করতে অস্বীকার করা হয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রেকর্ডে থাকা ওই ইনপুটগুলো বিবেচনায়, মিশনারিজ অব চ্যারিটির লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের আবেদন অনুমোদিত হয়নি। মিশনারিজ অব চ্যারিটির এফসিআরএ নিবন্ধন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ ছিল। চ্যারিটির কোনো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মিশনারি নিজেই এসবিআইকে তার অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করার জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছে।’

আজ সোমবার দুপুরে জানা যায়, মিশনারিজ অব চ্যারিটির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংস্থা কোনোরকম আর্থিক লেনদেন করতে পারছে না। যদিও প্রথম থেকেই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মাদার হাউজ কর্তৃপক্ষ। তবে এই খবর সামনে আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ময় প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি টুইটারে লেখেন, ‘বড়দিনের উৎসবের মধ্যে মাদার টেরিজার মিশনারিজ অব চ্যারিটির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে শুনে আমি বিস্মিত।’ মমতার পাশাপাশি সূর্যকান্তও টুইটারে লিখেছেন, ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটির ২২ হাজার রোগী এবং কর্মীরা খাবার, ওষুধ ছাড়া রয়েছে।’

মমতা লেখেন, ‘আইন সবার উপরে হলেও মানবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠিক নয়।’ কেন্দ্রের নিন্দা করে টুইট করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এসবের শেষে কেন্দ্রের তরফে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তার দাবি, এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত যে, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করছে তৃণমূল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দ বাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি গুজরাটে বিতর্কে জড়ায় মাদার তেরেসার সংস্থা। ধর্মান্তকরণের অভিযোগে মোদির রাজ্যে মিশনারিজ অব চ্যারিটির বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়। গুজরাটের বডোদরা শহরে ওই সংগঠনের যে হোম রয়েছে, তার বিরুদ্ধে ধর্মান্তকরণ ছাড়াও হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করা হয় এমন কাজের অভিযোগ ওঠে। তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করা হয় সংগঠনের তরফে। তাদের দাবি, ওই হোমে কোনোভাবেই জোর করে কাউকে ধর্মান্তকরণ করা হয়নি।

পাঞ্জাবের এক তরুণীকে জোর করে এক খ্রিস্টান যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বডোদরার ওই হোমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার সমশের সিংহ জানিয়েছেন, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আলাদা করে তদন্ত চলছে। আর জেলা সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা ময়ঙ্ক ত্রিবেদীর অভিযোগ, ওই হোমে হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। তার দাবি, হোমের অল্প বয়সী মেয়েদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা হয়।

গুজরাটের ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন, ২০০৩-এর আওতায় মকরপুরা থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন ময়ঙ্ক। তার বক্তব্য, গত ৯ ডিসেম্বর জেলার শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে ওই হোমে গিয়েছিলেন তিনি। এফআইআরে তিনি বলেছেন, সেখানে তিনি দেখেছেন, হোমের মেয়েদের জোর করে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পড়ানো হয়। তাদের গলায় ক্রস পরতে বলা হয় এবং তাদের খ্রিস্টানদের প্রার্থনায় অংশ নিতেও বলা হয়।

ময়ঙ্কের আরও অভিযোগ, হিন্দু মেয়েদের আমিষ খাবারও খেতে দেওয়া হয় ওই হোমে। এভাবেই প্রকারান্তরে মিশনারিজ অব চ্যারিটি কর্তৃপক্ষ হোমের মেয়েদের জোর করে ধর্মান্তকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ওই সংগঠন নিয়মিত হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। পুলিশ ময়ঙ্কের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ কি-না, তা অবশ্য নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

১৯৫০ সালে কলকাতায় মাদার তেরেসা মিশনারিজ অব চ্যারিটি স্থাপন করেন। ভারতে ২৪৩টি হোম রয়েছে সংস্থার। কলকাতায় প্রধান কার্যালয় সরকারিভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হয়ে যাওয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও সংস্থার একজন সদস্য বলেন, ‘গোটা দেশে ও বিদেশে অনেক সেবামূলক কাজের সঙ্গে আমরা যুক্ত। হাজার হাজার অসুস্থ মানুষের সেবা চলে। কিন্তু এর ফলে সেই রোগীদের খাবার থেকে ওষুধ সরবরাহ সমস্যার মুখে পড়বে।’