ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১:২১:৩৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

পান্তা-আলুতে দুনিয়া মাত করলেন কিশোয়ার চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৪৯ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলার আবহমানকালের খাবার পান্তাভাত আর আলুভর্তা পরিবেশন করে রান্না বিষয়ক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় ফাইনালে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী। তার রেসিপি মুগ্ধ করেছে বিচারকদের।

এবারের আসরের মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতেছেন জাস্টিন নারায়ণ। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন পিট ক্যাম্পবেল। বিজয়ী বাড়ি ফিরছেন প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা পুরস্কার এবং মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ২০২১ সালের খেতাব নিয়ে। তৃতীয় হয়ে কিশোয়ার পেয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পিট ক্যামবেল জিতেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা।

দুদিনের গ্র্যান্ড ফিনালের প্রথম দিনে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন কিশোয়ার। অন্যদিকে ৫৩ পয়েন্টে শীর্ষে ছিলেন পিট আর ৫০ পয়েন্টে তৃতীয় ছিলেন জাস্টিন। দ্বিতীয় দিন শেষে ১১৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় কিশোয়ারকে। অন্যদিকে পিটও শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি। তিনি ১২৪ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। তাঁর চয়ে মাত্র এক পয়েন্ট বেশি পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হন জাস্টিন।

প্রথম দিন ফাইনাল ডিশে কিশোয়ার রান্না করেন 'স্মোকড ওয়াটার রাইস, আলু ভর্তা ও সার্ডিন'। অর্থাৎ বাঙালির কাছে চিরচেনা পান্তা-ভাত, আলু ভর্তা আর সার্ডিন মাছ ভাজি।

ফাইনাল ডিশ রান্না নিয়ে কিশোয়ার বিচারকদের বলেন ‘প্রতিযোগিতায় এমন রান্না সত্যিই চ্যালেঞ্জের। সাধারণ রেস্টুরেন্টে এমন রান্না হয় না। কিন্তু বাঙালির কাছে এটা পরিচিত রান্না।’

ফাইনাল ডিশ হিসেবে এটা রেঁধে নিজের তৃপ্তির কথাও জানান কিশোয়ার।

কিশোয়ার বিচারকদের বলেন, ‘এটি এমন এক ধরনের খাবার, যা আপনি কোনও রেস্টুরেন্টে পাবেন না।’ এর আগে খিচুড়ি আর বেগুন ভর্তা- দিয়ে মন জয় করেছিলেন সবার। তবে ফাইনালে পা রাখলেন পান্তা ভাত দিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার মাস্টারশেপ বিচারকরা কিশোয়ারের রান্নার গুণমুগ্ধ। সম্প্রতি সেমিফাইনাল রাউন্ডে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই করে টপ থ্রি-তে জায়গা করে নেন কিশোয়ার। প্রথমে কালা ভুনার রেসিপি দিয়ে কিশোয়ার মাতোয়ারা করেন মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার বিচারকদের। তারপর বিশ্বজয় করে তার রান্না মাছের ঝোল। তারপর একে একে ফুচকা, চটপটি- একের পর এক বাঙালির প্রতিদিনের সাধারণ খাবারেই মাস্টারশেফের মঞ্চ মাতাতে থাকেন তিনি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বছর ৩৮-এর কিশোয়ার চৌধুরী একজন বিজনেস ডেভেলপার, পারিবারিক প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায় হলেও তার পারিবারিক আবহটা সবসময়ই ছিল বাঙালিয়ানা। যদিও অস্ট্রেলিয়াতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। হাই স্কুলের প্রেম বিয়েতে পরিণত হয়। বর্তমানে কিশোয়ারের একটি ১১ বছরের ছেলে ও ৪ বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে।

কিশোয়ার জানালেন, তার বাবার বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরের আর মা কলকাতার বর্ধমানের। তারা দুজনে প্রায় ৫০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। তবে বিদেশে বসবাস করলেও নিজের দেশের ভাষা, সংস্কৃতি চর্চা সবকিছুই বজায় রেখেছেন কিশোয়ারের বাবা-মা, আর সেটা তারা নিজের সন্তানদেরও ধারণ করতে উৎসাহিত করেছেন।

দেশের সংস্কৃতি এভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য দুই বাংলার মানুষ কিশ্বরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাবার ও রন্ধনপ্রণালি নিয়ে একটি বই লেখার ইচ্ছে রয়েছে কিশোয়ারের।

-জেডসি