ঢাকা, সোমবার ১৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১০:০৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পাকিস্তানের মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারতের মেয়েরাও চীনে চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা কানাডায় আজীবন সম্মাননা পেলেন অভিনেত্রী শান্তা ইসলাম ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমছে না গরম তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে ব্যাংক ফরিদা পারভীনের প্রয়াণ দিবস:যে স্বপ্ন রেখে গেছেন ‘লালনসম্রাজ্ঞী’

ফরিদা পারভীনের প্রয়াণ দিবস:যে স্বপ্ন রেখে গেছেন ‘লালনসম্রাজ্ঞী’

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৮ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

শত শত বছর ধরে লালনসংগীতের চর্চা হয়ে আসছে। তবে যার কণ্ঠ হয়ে লালনগীতি ছড়িয়ে গেছে দেশের আনাচে-কানাচে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, তিনি ফরিদা পারভীন। গত বছরের আজকের দিনেই তিনি চলে গেছেন অনন্তলোকে। আজ তার প্রথম প্রয়াণ দিবস।

দিনটিতে ফরিদা পারভীনকে নিয়ে নানা আয়োজন রয়েছে। সকাল ৭টায় চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়েছিল ‘গান দিয়ে শুরু’। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বংশীবাদক ও ফরিদা পারভীনের জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিম। এছাড়া বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে দেখানো হবে বিশেষ সাময়িকী; পরিচালনা ও উপস্থাপনায় আবদুর রহমান।

বাংলাদেশ বেতারেও ফরিদা পারভীনকে নিয়ে থাকছে বিশেষ আয়োজন। দুপুরে সম্প্রচারিত হবে সেটি; এতে গাইবেন নাসরিন আক্তার বিউটি ও সাজিয়া সুলতানা পুতুল। বাঁশি বাজাবেন গাজী আবদুল হাকিম।

গাওয়ার পাশাপাশি গানের সুর নতুন প্রজন্মের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ফরিদা পারভীন। সেই লক্ষে প্রতিষ্ঠা করেন ‘অচিন পাখি’। এই সংগীত একাডেমিতেও সন্ধ্যায় থাকছে স্মরণ আয়োজন। এতে একাডেমির কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ফরিদা পারভীনের জীবন ও সংগীতে তার অবদান নিয়ে কথা বলবেন।


শেষ জীবনে ফরিদা পারভীনের স্বপ্ন ছিল এই ‘অচিন পাখি’ ঘিরেই। প্রায় ১৭ বছর আগে গাজী আবদুল হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। হাকিম জানান, ফরিদা পারভীন চাইতেন, বাংলা লোকগান পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ুক। সুরের সৌন্দর্যে বেড়ে উঠুক প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সেই স্বপ্ন দেখে এবং রেখে চলে গেছেন তিনি না ফেরার দেশে।

উল্লেখ্য, ফরিদা পারভীনের জন্ম নাটোরের সিংড়ায় ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর। গানের হাতেখড়ি হয়েছিল ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। দীক্ষা নিয়েছিলেন নজরুলগীতি ও ধ্রুপদী সংগীতে। ১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী হন। স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় থাকার সময় লালনসংগীতের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। ১৯৭৩ সালে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মধ্য দিয়ে লালনগীতির যাত্রা শুরু হয়। পরে খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছেও তালিম নিয়েছিলেন তিনি।


১৯৭৬ সালে ‘অচিন পাখি’ শিরোনামে প্রথম লং প্লে রেকর্ড প্রকাশ করেন ফরিদা পারভীন। এরপর থেকে অবিরাম গেয়ে গেছেন তিনি। অ্যালবাম, সিনেমা থেকে সরাসরি মঞ্চে, জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই লালনসংগীতে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি খ্যাতি পান ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ গায়িকার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।