ঢাকা, রবিবার ০৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২১:৫১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সুদানে চলমান সংঘাতে এক মাসে ২০ শিশু নিহত আজ থেকে নির্বাচনের মাঠে থাকছেন ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন: চায়ের কাপে ভোটের উত্তাপ ২০২৬ সালের হজের ভিসা দেওয়া শুরু আজ

মা দিবস আজ: মাগো তোমার জন্য কাঁদে প্রাণ

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০২ এএম, ১৪ মে ২০২৩ রবিবার

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে/মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পরে/...সেই যে আমার মা/বিশ্ব ভুবন মাঝে যে তার নেইকো তুলনা/ ...প্রদীপ হয়ে মোর শিয়রে কে জেগে রয় দু:খের রাতে/সেই যে আমার মা..../বিশ্ব ভুবন মাঝে যে তার নেইকো তুলনা.../মাগো, ওগো দরদিনী মা…।

মায়ের প্রতি সম্মান দেখাতেই আজ ১৪ মে রোববার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে পালিত হবে 'মা দিবস'। বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হবে। বাঙালি সন্তানদের হৃদয়ে দিবসটি আজ উৎসবে পরিণত হবে। 

পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘মা’। ‘মা’ সেতো অনন্ত বিশ্বস্ততার জায়গা। মার কোনো তুলনা হয় না। মার তুলনা ‘মা’ নিজেই। একজন সন্তানের জীবনে সবচেয়ে ভালোবাসা ও বড় আশ্রয়ের জায়গা ‘মা’। মা তার সব শক্তি দিয়ে আগলে রাখেন সন্তানকে। তার স্নেহধারায় স্নাত হয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যান সন্তান। মায়ের আশীর্বাদই সন্তানকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে সহযোগীতা করে।

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ কবির এই ভাবনাটি প্রতিটি মায়েরই মনের কথা। একজন সন্তানের কাছে একমাত্র মা-ই চির আপন। মা শ্বাশত, মা চিরন্তন। সন্তানের সব কথা, সব আবদার-অভিযোগ মা ছাড়া আর কারোর কাছেই করা যায় না। মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নানা আয়োজনে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালিত হয় ‘মা দিবস’।

হাজার কষ্ট করে তিলে তিলে যে সন্তানকে বড় করেছেন একজন মা তাকে ঘিরেই মা দিবসে চলে ব্যতিক্রমী উৎসব উদযাপন। এ দিন একটি ফুল অথবা একটি কার্ড নিয়ে শুভেচ্ছা জানালে মা যেন তাতেই খুশি। মায়ের চাহিদাতো এতটুকুই! ছোট-বড়, অখ্যাত-বিখ্যাত সকলের কাছেই মা অসাধারণ, মা সর্বজনীন। মায়ের স্নেহ-ভালবাসা সকলেরই প্রথম চাওয়া ও পাওয়া।

মা দিবসের ইতিহাস: জানা গেছে সভ্যতার প্রথম পর্যায় থেকেই ‘মা’কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আঙ্গিকে এধরনের উৎসবমুখর অনুষ্ঠান উদযাপন হয়ে আসছে। মা দিবসের আদি উৎপত্তি প্রাচীন গ্রিসে। আদি পর্বে গ্রিক সভ্যতায় ধর্মীয় উৎসব হিসেবে প্রতি বসন্তে নানা আয়োজনের মাধ্যমে ‘মাদার অব গড’ রিয়ার উদ্দেশে বিশেষ একটি দিন উদযাপন করা হতো।

তবে ধর্মীয় উৎসব থেকে বেড়িয়ে এসে মা দিবস সামাজিক উৎসবে পরিণত হয় ১৬ শ শতাব্দীতে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে মায়েদের প্রতি সন্মান জানিয়ে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো। প্রথম দিকে দিবসটি শুধু শহুরে বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু পরে সাধারণ মানুষ বিশেষত কাজের সন্ধানে শহরে ছুটে আসা মানুষের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠে মা দিবস। ফলে এ বিশেষ দিবসের আবেদন ছড়িয়ে পড়ে শহর ছেড়ে গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলে।

পরবর্তিতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মা দিবসকে আরো সার্বজনীন করে তুলেছিলেন আমেরিকার নাগরিক জুলিয়া ওয়ার্ড। মা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালে তিনি ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। তবে দিবসটিকে একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের অপর এক নারী অ্যানা জার্ভিস।

১৯০৭ সালে মা দিবসকে স্বীকৃতি দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালান তিনি। এ কাজে তাকে ব্যাপকভাবে সহযোগীতা করে তার বন্ধুরা। ওই বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ছিলো অ্যানার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। অ্যানা সেই দিবসটিতেই ‘মা দিবস’ পালন করেন। পরের বছর পুরো ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যেই বিশাল আয়োজনে পালিত হয় ‘মা দিবস’। সেই সময় থেকেই অ্যানা ও তার সমর্থকরা ‘জাতীয় মা দিবস’ ঘোষনা করার জন্য দেশের মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের চিঠি লিখতে শুরু করেন।

অবশেষে ১৯১১ সালে অ্যানা জার্ভিস সফলতা লাভ করেন। সে বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার সারা আমেরিকাজুড়ে একই সঙ্গে পালিত হয় ‘মা দিবস’।এর তিন বছরপর ১৯১৪ সালে তৎকালিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের দেশে দেশে মা দিবস পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পরে।

নানা দেশে নানা দিনে মা দিবস: বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালিত হলেও পৃথিবীর সব দেশে কিন্তু একই দিনে দিবসটি পালন করা হয় না। বছরের বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন দেশে পালন করা হয় মা দিবস। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, মাদারিং সানডে-এর ব্রিটিশ প্রথা অনুযায়ী লেন্ট-এর চতুর্থ রোববার এবং মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয় সাধারণত।

যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছুটির দিনটিকেই অনান্য দেশ এবং সংস্কৃতি গ্রহণ করে সেহেতু যুক্তরাজ্যে মাদারিং সানডে বা গ্রিসের মন্দিরে যিশুর প্রাচীনপন্থী পুজা-অর্চনার মত মাতৃত্বের সম্মানে পালন করা অনুষ্ঠানগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার জন্যই মূলত তারিখটিকে সুবিধামত পাল্টে নেওয়া হয়। 

ক্যাথলিক দেশগুলোতে ভার্জিন মেরি ডে বা মুসলিম দেশগুলোতে নবী মুহাম্মাদ (সা)-এর কন্যা বিবি ফাতেমার (রা:) জন্মদিনের মত, কিছু দেশে সেখানকার প্রধান ধর্ম অনুযায়ী তারিখটি পাল্টে দেওয়া হয়। 

বহু দেশে একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিনকে মা দিবস হিসেবে বেছে নেয়া হয়। যেমন, বলিভিয়া মা দিবস হিসেবে যে তারিখটি ব্যবহার করে একসময় ওই তারিখে দেশটির নারীরা একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। আসলে বিশেষ কোনো দিন নয়, জীবনের প্রতিটি দিনই মায়ের জন্য। 

বাংলাদেশে মা দিবস: আমেরিকাকে অনুসরণ করে গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নানা আয়োজনে মা দিবস পালন করা হয়। বাঙালী সন্তানদের হৃদয়ে বর্তমানে এ দিবসটি যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বায়নের এই যুগে শুধু শহুরে সংস্কৃতিই নয় গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই দিবসের বার্তা।

বাংলাদেশে এই বিশেষ দিনে মা-কে শুভেচ্ছা জানানো এখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দিবসটিকে সামনে রেখেই শাড়ির দোকান, কার্ডের দোকান, ফুলের দোকানটিতে ভিড় জমাচ্ছে সবাই। মাকে এই দিবসে শ্রেষ্ঠ উপহারটি দেওয়া নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। সব বয়সীরাই এই দিনটিতে তার মাকে একটি সুন্দর উপহার কিংবা একটু সঙ্গ দেয়ার জন্য আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। মাকে ঘিরে চলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পূর্বপ্রস্তুতি। খাবারের দোকানগুলো এই বিশেষ দিবসে ভরে ওঠে মা ও সন্তানদের আগমনে।

এ প্রসঙ্গে উত্তরা বাসিন্দা গৃহিনী সালমা আখতার বলেন, প্রতি বছরই আমার ছেলে-মেয়েরা আমাকে শুভেচ্ছা জানায়। একই সাথে আমরা ছয় ভাইবোনও আগের দিন রাত বারোটায় শুভেচ্ছা জানাই মাকে। 

তিনি আরও বলেন, যেখানেই থাকি মা দিবসে আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা সব ভাইবোন ছুটে যাই মায়ের কাছে। মা-ই আমাদের নির্ভরতার একমাত্র স্থান। মায়ের কাছে এখনো শিশু আমরা। বিশেষ কোনো দিন নয়, আসলে প্রতিটি দিনই মায়েদের জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতমত: বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাকসুদা জীবন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, সমাজ,রাষ্ট্র কিংবা দেশ সব ক্ষেত্রেই মায়ের অবস্থান দৃঢ়। কারণ সন্তানের অস্থিত্ব মায়ের অস্থিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যদিও মায়ের কথা সন্তানের মনে সব সময়ই থাকে তারপরও এ দিবসটি সন্তানকে বিশেষভাবে মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, একজন মা-নিজের সুখ-শান্তি-জীবন উৎসর্গ করে সন্তানকে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে চান। পুরুতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বাবার পাশাপাশি মায়ের অবদানও যে সন্তানের জীবনে অনেক বেশি ও বড় তা স্মরণ করতেই ‘মা দিবস’ পালন করা অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা এ দিবসটি চিরদিন পালন করতে চাই।