ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৯, মার্চ ২০২৬ ১০:৪৮:১৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী বগুড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: আহত ২ শতাধিক হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে মিত্রদের ‘না’, হতাশ ট্রাম্প মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ, ধীরগতিতে চলছে গাড়ি চিকিৎসার অভাবে ৪৯ লাখ শিশুর মৃত্যু, জাতিসংঘের উদ্বেগ ধর্ষণ রোধে সমন্বিত সরকারি অ্যাকশন

মাকে আমার সব সময় মনে পড়ে: তপতী বসু

তপতী বসু | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২১ বুধবার

লেখক তপতী বসুর মা।  ছবি: লেখক।

লেখক তপতী বসুর মা। ছবি: লেখক।

ইংরেজী ১৯৪০ সালের প্রথম দিকে আমার মা লেখাপড়া করেছিলেন ফকিরহাটের মূলঘর বালিকা বিদ্যালয়ে৷ কল্পনা করতে ভালো লাগে মা দু'বেনী দুলিয়ে বান্ধবীদের সাথে গল্প করতে করতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আর মার পিছনে উড়ছে ধূলো মাখা ঝরাপাতা৷

তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে মা আসেন আমাদের বাড়ি পারমধুদিয়া গ্রামে৷ একটু একটু করে মা সংসারী হয়ে ওঠেন৷ যে রাজনীতি মা বুঝতেন না, সেই রাজনীতির কালো বাষ্প প্রতিনিয়ত মায়ের জীবনকে বিধ্বস্ত করেছে, আর বিনিময়ে মা দেশের প্রতি নিরন্তর এক গভীর টান অনুভব করেছেন৷ 

ভালোবেসেছেন-মানুষকেও, তবে খুব বেশি বেশি জড়িয়ে থাকতে চাইতেন আমাদের পুরানো গাছগুলোর সাথে৷ সকালে কাজের ফাঁকে সময় পেতেন না৷ বিকেল হলে ঠিক কোনো একটা গাছ স্পর্শ করে দাঁড়িয়ে থাকতেন! এক মায়াময় স্বরে অপূর্ব শব্দ বন্ধনে মা একসাথে দুটো গাছকে পরিচিত করতেন—‘চালতে তলার আমগাছ, কদম গাছের পাশে কাঁঠালগাছ বা পলাশ ফুলের ঘাটের তালগাছ’৷ 

বাইরের পৃথিবীর অন্যায়-অসত্য-হিংসার যে কষ্ট তাঁকে  সহ্য করতে হয়েছে, গাছপালা  হয়ত তার ভাগ কিছুটা নিয়ে নিত৷ একই সাথে আশেপাশের সবার জন্যেই ছিল গভীর ভালোবাসা৷ আকাশের পাখি, পুকুরের মাছ, উঠানের কুকুর..কেউ তাঁর সংসারে অভূক্ত থাকত না!

মা কোনো অতি বা মহামানবী ছিলেন না! নিতান্তই সাধারণ একজন-কিন্তু তাঁর জীবনের পবিত্র পাতাগুলো ছিল অসাধারণ অক্ষরে লেখা৷ সেখানে মায়া-মমতা-ক্ষমার এক অনন্য মাধুর্যে পাশের মানুষগুলোকে লাইট হাউজের মত তাঁর দিকে আকৃষ্ট করে রাখত, দিশা দিত! 

হতাশা ছিল না তাঁর অভিধানে-কর্মষ্পৃহার আনন্দ মা তাঁর সন্তানদের সব না পাওয়ার বেদনাকে ভুলিয়ে রাখতে চাইতেন৷ এই ভাবে মা একদিন অসাধারণ হয়ে উঠলেন আমাদের কাছে! প্রতিটি সন্তান মনে মনে ভাবে -‘মা মনে হয় তাকেই সব থেকে ভালোবাসেন’! 

মায়ের সাথে যখন শেষ দেখা হয়, আমরা সবাই দাঁড়িয়ে ছিলাম ক্লিনিকের করিডোরে৷ অপারেশনের পরে তাঁকে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটু এগিয়ে গিয়েছিলাম-যদি একবার মা আমাদের দিকে তাকান৷ মা কারো দিকে একবারও তাকানোর অবস্থায় ছিলেন না-পক্ষপাতহীন ভাবেই একা চলে গেছেন অনন্তের পথে৷ ঈশ্বরই কোনো পিছুটান নিয়ে তাঁর শেষ যাত্রা পথকে আর ভারী করে তুলতে চাননি!  

এমন একটা ১৬ নভেম্বর; তারপর চলে গেলো সাতটা বছর৷ মাঝে মাঝে এক ফালি আকাশের দিকে তাকাই৷ কত প্রিয় মুখ সেখানে আলোর তারা হয়ে গেছে৷ সমুদ্রের অসীম জলরাশির  মতন মায়ের হাসিময় মুখখানাই সব সময় মনে রাখি৷ ঈশ্বর নিশ্চয়ই প্রাপ্য জায়গায় মাকে স্থান দিয়েছেন৷ তবু মাকে আমার সব সময় মনে পড়ে....!!

# তপতী বসু, প্রবাসী লেখক। দিল্লি৷ গৌতম নগর৷