ঢাকা, শুক্রবার ২৭, মার্চ ২০২৬ ১৮:০৫:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সবাক সিনেমার প্রথম কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর, অল্পের জন্য রক্ষা মমতার বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে ২৮ দিনে ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল রাজধানীতে সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রকোপ দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম

রাজধানীতে সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রকোপ

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:০৯ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

রাজধানীর ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর, আক্রান্ত পুরো পরিবার

রাজধানীর ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর, আক্রান্ত পুরো পরিবার

রাজধানীজুড়ে হঠাৎ করেই সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবারেই একাধিক সদস্য এই উপসর্গে ভুগছেন। কোথাও শিশু, কোথাও আবার কর্মজীবী মানুষ বা বয়স্করা—একই ঘরে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এখন সাধারণ চিত্র হয়ে উঠেছে।

মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক পরিবারেই প্রথমে একজন সদস্য জ্বর বা সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছেন, এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে তা ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মধ্যেও। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত পরিবারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চেম্বারগুলোতে রোগীর চাপও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বহির্বিভাগে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে আসা রোগীদের বড় একটি অংশই সর্দি-কাশি-জ্বর, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে আসছেন। অনেকের ক্ষেত্রে হালকা জ্বর থাকলেও কয়েক দিন ধরে দুর্বলতা ও কাশি স্থায়ী হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি মূলত মৌসুমি ভাইরাল সংক্রমণ, যা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় বেশি দেখা যায়। দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ এবং জনসমাগম—সব মিলিয়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, “এখন যেসব রোগী আসছেন, তাদের অধিকাংশই ভাইরাল ফ্লু জাতীয় সংক্রমণে ভুগছেন। এটি খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। তাই একসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক।”

তিনি আরও বলেন, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই জ্বর ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে কমে যায়। তবে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করছেন অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন নিয়ে। তাদের মতে, ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই, বরং ভুলভাবে সেবন করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে সর্দি-কাশি ও জ্বরের ওষুধের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, স্বল্প উপসর্গে ঘরেই বিশ্রাম, গরম পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসকরা। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীতে সর্দি-কাশি-জ্বরের এই বাড়তি প্রকোপ কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও চিকিৎসকরা বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিলেই এই মৌসুমি অসুখ থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।