ঢাকা, বুধবার ১৭, জুন ২০২৬ ০:৩৭:০৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ রাতে লড়াকু সেনেগালের সামনে শক্তিধর ফ্রান্স আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল ভুল নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের ইতিহাস ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, দূষণে শীর্ষে দিল্লি তোষামোদ নয়, সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রামিসা হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৭ পিএম, ১৬ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

রামিসা হত্যা: আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ

রামিসা হত্যা: আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে রোববার তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

গত ৭ জুন এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

এ ছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দিতে বলা হয়েছে।

জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ থেকে আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওই দিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে এক দিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১ নম্বর আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

রামিসার বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন এবং বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিকটিম রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।