ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৭:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

শান্তি ফেরাতে সংলাপের বিকল্প নেই: চেং লি-ওয়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৬ পিএম, ১১ মে ২০২৬ সোমবার

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারওম্যান চেং লি-ওয়েন

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারওম্যান চেং লি-ওয়েন

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারওম্যান চেং লি-ওয়েন চীন-তাইওয়ান সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে নতুন সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চেং লি-ওয়েন বলেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুধু দুই পক্ষের জনগণের ওপর নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার মতে, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পুরোনো অবস্থান থেকে সরে এসে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, গত এপ্রিলে চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকে মূল গুরুত্ব পেয়েছে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি। চেংের ভাষায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে উত্তেজনা কমানো সম্ভব।

চেং লি-ওয়েন মনে করেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও তাইওয়ানের বর্তমান সরকার বেইজিংয়ের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে, তবু বিরোধী দল কেএমটি বরাবরই তুলনামূলকভাবে সংলাপনির্ভর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। চেং জানান, তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ওয়াশিংটনের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে স্থায়ী উত্তেজনা এড়িয়ে চলাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানকে এমন একটি অবস্থানে থাকতে হবে, যেখানে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দ্বীপটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাইওয়ান একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

আগামী জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন চেং লি-ওয়েন। ওই সফরে তিনি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই সফর তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালনা করছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে চেং লি-ওয়েনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। 
 

তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট