ঢাকা, রবিবার ০৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭:৫৮:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
কাল থেকে হজের ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব বাংলাদেশকে ছাড়াই প্রথমবার শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পোস্টাল ভোট: ১২ ফেব্রুয়ারি কখন-কীভাবে গণনা হবে শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টালে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা দুই দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব মার্কেট ও শপিংমল দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৭৬৪০ টাকা

সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৬ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সোমবার

ইউনুস আলী রিপন। বয়স মাত্র ছাব্বিশের পড়ল। সবসময় হাসিমাখা মুখ। বিপদে আপদে তিনি যেন সবার সঙ্গী। সেই প্রাণবন্ত রিপন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন অসুখ যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। এভাবে এক এক করে সাত মাস কেটে যায়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানালেন তার দুটি কিডনি বিকল। 

একমাত্র ছেলের এ অবস্থায় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন পুরো পরিবার। রিপনের জন্য বোন, স্ত্রী, এমনকি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী কারো কাছ থেকে কিডনি পাওয়া যায় না। অবশেষে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের শেষ সম্বল ভিটেবাড়িটুকু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তার বাবা আব্দুর রশিদ। জমিজমা কিনতে আগ্রহী কয়েকজনের সঙ্গে কথাবার্তাও হয়। ভিটেবাড়ি বিক্রির  টাকা দিয়ে সন্তানকে বাঁচাতে কিডনি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাধ সাধেন রিপনের গর্ভধারিনী মা রীনা বেগম।

মায়ের ব্যাকুল মন যেন কিছুতেই ভরসা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাই গর্ভধারিণী মা ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে সেই মায়ের কিডনি মৃত্যশয্যায় থাকা ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এখন চোখ মেলে ছেলে দেখছেন মা তার পাশে। আর মা দেখছেন তার ছেলে এখন হাসে। ছেলের হাসিমাখা মুখের জন্য মায়ের অগাধ এ ভালোবাসার কথা এখন নেটদুনিয়ায় ভাসছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের উত্তর তাম্বুলপুর গ্রামে। সেখানকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ও রীনা বেগম দম্পতির ছেলে ইউনুস আলী রিপন। তিনি পেশায় পুলিশ সদস্য। সম্প্রতি দুই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুশয্যায় থাকা অসুস্থ ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দিয়েছেন তার মা।

জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঢাকার সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে মায়ের কিডনি ছেলের শরীর প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। বর্তমানে মা ও ছেলে সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে তাদের স্বজনেরা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রসংশায় ভাসতে থাকেন মা রীনা বেগম। এমন মাকে নিয়ে গর্ভবোধ করছেন সবাই। গ্রাম থেকে শহরে সবার মুখে মুখে ছেলের জন্য মায়ের এ অগাধ ভালোবাসার কথা।  

রিপনের চাচা আহসান হাবিব জানান, ছয় সাত মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রিপন। পরে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হয়। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যায় তার দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করে কোথাও কিডনি পাওয়া যায়নি। পরে রিপনের মা নিজেই ছেলেকে কিডনি দিয়ে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। বর্তমানে মা ও ছেলে দুজনই ঢাকায় হাসপাতালে আছে। পুরোপুরি সুস্থ হলে তারা গ্রামে ফিরবেন।