ঢাকা, শুক্রবার ০৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১২:৪৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন এ বছর হতে পারে: মাচাদো দেশে পৌঁছেছে চার লাখ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি, সরকারি কর্মচারীরা যমুনার দিকে সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও অনুভূত একজনের সংস্থা ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক

চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৩২ এএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

শীতের শেষ ভাগে এসে সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে স্বস্তি ফিরেনি। সব পণ্যেই যেন লেগেছে আগুন। চাল, ডাল, তেল ও মাছের দামে এখনও ঊর্ধ্বগতি থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, কর্ণফুলী বাজার, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও কয়েকটি পণ্যে নতুন করে দাম বেড়েছে।

বাজারগুলোতে মাঝারি মানের চাল কেজিপ্রতি ৬৮ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চালের দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। মোটা চাল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে রয়েছে। আতপ চালের দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

ডালের বাজারেও চড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং ছোলার ডাল ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেলের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং খোলা তেল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরিষার তেল লিটারপ্রতি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাজারে তুলনামূলক সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম আরও বেশি। রুই ও কাতলা মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি কৈ মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার ওপরে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী আবদুল কাদের বলেন,
“চট্টগ্রামে বাজার করতে গেলে এখন হিসাব করেই নামতে হয়। আগে যেখানে এক হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজার হতো, এখন সেখানে দেড় হাজার টাকাও কম পড়ে যাচ্ছে।”

একই বাজারের গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন,
“মাছ কিনতে পারছি না নিয়মিত। সবজি দিয়েই সংসার চালাতে হচ্ছে। কিন্তু সবজির দামও কম না। মাসের শেষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে কমানো সম্ভব হচ্ছে না। কর্ণফুলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সালাম বলেন,
“আড়ত থেকে যে দামে সবজি কিনে আনছি, তার চেয়ে কমে বিক্রি করার সুযোগ নেই। পরিবহন খরচও বেড়েছে। লাভ খুব বেশি না হলেও ক্রেতাদের অসন্তোষ আমাদেরই শুনতে হয়।”

মাছ বিক্রেতা আবু তাহের জানান,
“ঘাট থেকে মাছ আনতে বরফ, জ্বালানি ও শ্রমিক খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। নদী থেকে মাছও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দাম কমানো যাচ্ছে না।”

ভোক্তারা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকি জোরদার না হলে দামের এই ঊর্ধ্বগতি থামবে না। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং পাইকারি বাজারে নজরদারি বাড়ানো হলে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অসাধু সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্থিতিশীলতা আসছে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।