জাতিসংঘে যৌন হয়রানি: বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৪:৩৫ পিএম, ২২ জুন ২০২২ বুধবার
ফাইল ছবি
জাতিসংঘ বিশ্বের জাতিসমূহের একটি সংগঠন, যার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। ১৯৪৫ সালে ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ব জুড়ে মানবাধিকার এবং শান্তির পক্ষে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ।
কিন্তু বিশ্বের সব সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব যাদের, সেই জাতিসংঘের বিরুদ্ধেই যখন অন্যায় বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে, তখন কী হয়?
বিশ্বের এই শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে কয়েক দশক ধরে কাজ করেছেন এমন কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এ সংক্রান্ত দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করেছেন এই সংবাদমাধ্যম।
দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রামাণ্য চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে জাতিসংঘের ভেতরেই একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এমন এক কাজের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে অন্যায় বা দুর্নীতি ফাঁস করার পরও কেউ কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
বিবিসির অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারিতে যারা কথা বলেছেন, তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নানা ধরনের ব্যাপক যৌন হয়রানি এবং দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল, ইউনাইটেড নেশন্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনডিপি), ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডাব্লিউএফপি) এবং ইউএনএইডস এর মতো সংস্থাও আছে।
নিজেদের বিরাট ব্যক্তিগত ক্ষতির ঝুঁকি নিয়েও বিবিসির এই ডকুমেন্টারিতে যারা কথা বলেন, তারা জানিয়েছেন যে যখন জাতিসংঘের একেবারে শীর্ষ স্তরের বিরুদ্ধে তারা মুখ খুলেছেন বা এই সংস্থার ভেতরে যে নীরবতার সংস্কৃতি, সেটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তখন কী ঘটেছিল।
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএনএইডসে দশ বছর ধরে কাজ করেছেন মার্টিনা। তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন।
তিনি বলেন, এই অভিযোগ করার পর, যা ঘটেছে, তা হলো, ইউএন-এইডস খুবই নীচতার সঙ্গে এবং বাজে-ভাবে আমার বিরুদ্ধে এমন পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল, যা আমাকে প্রায় শেষ করে দিয়েছিল।
এদিকে জন নামের একজন ইউএনডিপিতে তিন বছর কাজ করার পর সেখানে দুর্নীতির বিষয়ে তার উদ্বেগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। এসব বিষয় উত্থাপনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানালেও কিন্তু পরবর্তীকালে তার বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু করে জাতিসংঘ।
জন বলেন, ইউএনডিপিতে আমার ব্যবহৃত ল্যাপটপটি এখনো তাদের কাছে- অনেক বছর ধরে। কাজেই আমি জানি না তারা ঠিক কি তদন্ত করছে, কিন্তু ওরা এটা বছরের পর বছর ধরে রেখে দিয়েছে। দুর্নীতির তদন্তে তাদের যত চেষ্টা, সময় বা সম্পদ খরচ করার কথা, তার চাইতে অনেক বেশি করে তারা তদন্ত করছে দুর্নীতির তথ্য ফাঁসকারীর বিরুদ্ধে।
বিবিসির কাছে জাতিসংঘের ভেতরে দুর্নীতি এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ যারা করেছেন, তারা সবাই বহু বছর এই সংস্থায় কাজ করেছেন। তারা ভেবেছিলেন পুরো কর্মজীবন তাদের হয়তো জাতিসংঘেই কাটবে এবং তারা মানুষের জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারবেন।
জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে দশ বছর কাজ করেছেন এমএমএ।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের ভেতরে অন্যায় বা দুর্নীতি যারা ফাঁস করেন, তাদেরকে এমনভাবে চিত্রিত করা হয়, যেন এরা জাতিসংঘকে ঘৃণা করে, যারা এটা বিলুপ্ত করে দিতে চায়। কিন্তু সত্যের এরচেয়ে বড় অপলাপ আর হতে পারে না। আমরা বরং চাই এই সংস্থাটি যেন আরও ভালোভাবে কাজ করে।
পূর্ণা সেন ছিলেন যৌন হয়রানির বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক এক মুখপাত্র। ২০১৮ সালে তিনি এই পদে যোগ দিয়েছিলেন।
সেন বলেন, জাতিসংঘে কাজ করেছেন এমন অনেক নারীকে যৌন হয়রানি, পীড়াপীড়ি এমনকি ধর্ষণ করা হয়েছে। পুরুষরা এই কাজ করে যত বেশি পার পেয়ে যাবে, তারা এই কাজ তত বেশি করতে থাকবে।
তিনি বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে বলেন, এই ডকুমেন্টারিতে যেসব মানুষের সাক্ষ্য তিনি শুনেছেন, তা গভীরভাবে বিচলিত হওয়ার মতো। এ থেকে যে মনে হয়, প্রত্যেকটি সংস্থায় উচ্চপদের কর্মকর্তাদের রক্ষা করা যেন ক্ষমতাহীনদের সুরক্ষার চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে হচ্ছে, যে সংস্থাটি মানবাধিকারকে রক্ষা করার জন্য সোচ্চার, যেখান থেকেই কীনা বেশিরভাগ মানবাধিকারের ধারণার জন্ম হয়েছে, সেখানে এক ধরনের সত্যিকারের টানাপোড়ন আছে। নিজেদের সংস্থার ভেতরেই তো তারা এই মানবাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আসতে পারেনি।
পূর্ণা সেন বলেন, জাতিসংঘের ভেতর থেকে দুর্নীতি বা অন্যায়ের তথ্য ফাঁস করার পর তাদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণের অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি চান, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস যেন সংস্থার বাইরের লোকজনকে দিয়ে এসব অভিযোগের তদন্ত করেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিৎ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা জোরালো করা এবং বাইরের প্যানেল থেকে দেয়া পরামর্শ গ্রহণ করা।
এদিকে এক বিবৃতিতে মি. গুতেরেসের দপ্তর বলেছে, যে কোন ধরনের অসদাচরণের ঘটনা মোকাবেলায় জাতিসংঘের প্রচেষ্টা সংস্থার বাইরে থেকে তদন্ত করে দেখার প্রস্তাবকে তারা স্বাগত জানান।
জাতিসংঘ আরও বলেছে, যারা সত্যিকারের হুইসেলব্লোয়ার, অর্থাৎ অন্যায়-দুর্নীতির ঘটনা ফাঁসকারী, তাদের সুরক্ষা দিতে সংস্থা অঙ্গীকারবদ্ধ।
জাতিসংঘের বার্ষিক বাজেট ৫০ বিলিয়ন ডলার, বা ৫,০০০ কোটি ডলার। সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। এদের বেশিরভাগই সব দেশের জাতীয় আইন থেকে একধরনের কূটনৈতিক সুরক্ষা পান, যার ফলে স্থানীয় আইনে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা যায় না। এটি করা হয়েছিল যাতে জাতিসংঘ কাজ করতে গিয়ে কোন ধরনের স্থানীয় হস্তক্ষেপের মুখে না পড়ে।
এর মানে হচ্ছে, জাতিসংঘের কোন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে সেটি সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ-ভাবেই তদন্ত করা হয়।
তবে জাতিসংঘ বলছে, এই কূটনৈতিক সুরক্ষা কর্মীদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য দেয়া হয়নি। কাজেই কেউ যদি যৌন হামলার মতো কোন অপরাধ করে, সেক্ষেত্রে তারা কোন কূটনৈতিক সুরক্ষা পাবেন না।
জাতিসংঘের কোন কর্মীর বিরুদ্ধে যখন কোন গুরুতর অভিযোগ উঠে, তখন সেটি দেখার দায়িত্ব দেয়া হয় অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাল ওভারসাইট সার্ভিসেস (ওআইওএস) বলে একটি বিভাগকে। ফৌজদারি অভিযোগও এরা তদন্ত করে, তবে এই বিভাগের কোন আইনি কর্তৃত্ব নেই।
বিবিসির হাতে একটি গোপন রেকর্ডিং এসেছে, যা থেকে মনে হয় ওআইওএস সবসময় খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারে না। এই রেকর্ডিং এ ওআইওএসের তদন্ত বিভাগের ডিরেক্টর বেন সোয়ানসনকে সংস্থার কর্মকর্তাদের এক সভায় কথা বলতে শোনা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের এক নারী কর্মকর্তা কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে এসেছিলেন। এই নারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্থার একজন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল তার প্যান্টের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন।
এই রেকর্ডিং-এ মিস্টার সোয়ানসনকে বলতে শোনা যায়, এই যৌন নির্যাতনের ঘটনা তিনি জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাথে সাথে তাকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়। ‘আমি এই কাহিনীটা বলার চেষ্টা করেছিলাম, তখন আমাকে...থামিয়ে দেয়া হলো’।
তিনি আরও বলেন, এই নারীকে এরপর তার অভিযোগ দাখিলে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং বলা হয়, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি যেহেতু একজন ‘আর্শীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি’, কাজেই এরকম অভিযোগের ফল ভালো হবে না।
বিবিসির কাছে এই গোপন অডিও রেকর্ডটি দিয়েছেন জাতিসংঘের একজন হুইসেলব্লোয়ার পিটার গ্যালো।
তিনি ডকুমেন্টারিতে বলেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে আমি চার বছর তদন্তকারী হিসেবে সময় কাটিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, আমার বিশ্বাস এই সংস্থাটি নীচতলা থেকে একদম উপরে পর্যন্ত দুর্নীতিতে ভরা।
পিটার গ্যালোর কথা শুনে পূর্ণা সেন বলেন, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল কেন বলছেন না, এটা সাংঘাতিক আপত্তিকর, আমরা এখন কী করতে পারি? আমাদের জিরো-টলারেন্সের নীতির মানে হচ্ছে, আমাদের কিছু করতেই হবে।'কিন্তু এরপর পরিবর্তে আমরা শুনলাম, না, আমরা এখানে কিছু করছি না।
তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের দফতর বলছে, সংস্থার যে কোন কর্মী, জুনিয়র হোক বা সিনিয়র, যৌন হয়রানির ঘটনায় লিপ্ত বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
মার্টিনা বোসট্রম ইউএনএইডসের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা।
তিনি বিবিসিকে জানান, জাতিসংঘে কাজ করতে গিয়ে তিনিও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। যৌন নির্যাতন, হয়রানি, বা শোষণের ঘটনা জাতিসংঘের সদর দফতরেই ঘটে, এটা সোমবার হতে শুক্রবার, সবদিন চলে। এটা নিয়মিত কাজের সময়ে ঘটে, সর্বত্রই ঘটে।
তিনি বলেন, ইউএনএইডসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর লুইজ লুরেজ এবং একজন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেলের টার্গেট হয়েছিলেন তিনি। মার্টিনা বোসট্রম এই এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেলকে একজন নোংরা চরিত্রের লোক বলে বর্ণনা করেন, এবং তার বাজে আচরণের কথা সবাই জানে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ব্যাংককে অফিসের এক অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে লিফটে উঠার পর, সেখানে এই ব্যক্তি তাকে জোর করে চুমু খায়, এবং গায়ে হাত দেয়। এরপর লোকটি এমনকি তাকে অফিস কক্ষের দিকে জোর করে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। আমি তাকে থামার জন্য অনুনয় করছিলাম, আমাকে ছেড়ে দিতে বলছিলাম। ভেতর থেকে লিফটের দরোজা বন্ধ করে আমি নিজেকে আটকাই, কারণ আমি সেই লম্বা করিডোরটা দেখতে পাচ্ছিলাম। ‘আমার মাথা খুব দ্রুত কাজ করছিল, এবং কী ঘটতে পারে, তা ভেবে আমি ভয় পাচ্ছিলাম।’
মার্টিনা এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন এবং জাতিসংঘের তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিনি বলছেন, এরপর জাতিসংঘ এবং ইউএনএইডস খুব নিচতার সঙ্গে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে। এটা ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক। কারণ মনে হচ্ছিল, কেউ আবার আমার লাঞ্ছনা করেছে। ব্যাপারটা এমন, যেন ওরা আপনাকে নিঃশ্বাস নেয়ারও সুযোগ দিতে চায় না।
লুইজ লোরেজ ২০১৮ সালে জাতিসংঘ থেকে অবসরে গেছেন। জাতিসংঘ তাকে তার ২২ বছরের নিবেদিতপ্রাণ সেবার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছিল। লুইজ লোরেজ বিবিসিকে বলেছেন, তিনি কখনো কাউকে হয়রানি করেননি, কারও ওপর যৌন হামলাও চালাননি। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।
জাতিসংঘ বলেছে, ডঃ লোরেজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কথা বলার সময় এখন নয়।
২০২১ সালের অগাস্ট মাসে মার্টিনা জাতিসংঘ থেকে একটি চিঠি পান যেটাতে স্বীকার করা হয় যে মার্টিনা ‘একটা প্র।লম্বিত সময় ধরে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।’ তবে ২০১৫ সালে যে যৌন হামলার অভিযোগ তিনি করেছিলেন, সে বিষয়ে এই চিঠিতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতির যে বিবরণ আপনি দিয়েছেন, তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেদনাদায়ক কিছু ঘটনা ঘটেছিল, তবে তদন্তে সেরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
পূর্ণা সেন বলেন, মার্টিনার ঘটনাটি আসলে জাতিসংঘে আরও যে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে, তারই লক্ষণ।
বিবিসির ডকুমেন্টারিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রায় এক তৃতীয়াংশ কর্মী বলেছে, কাজের সময় তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার ব্যাপারে কোন অভিযোগ করা হয়নি। আমরা যতগুলো ঘটনার কথা জানি, সেগুলো আসলে মোট ঘটনার অতি সামান্য অংশ মাত্র, এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, লোকে মনে করে অভিযোগ করলে বরং খারাপ ফল হবে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার ওপর যদি হামলা হয়, যদি আমাকে যৌন লাঞ্ছনা করা হয়, আমি হয়তো এটা নিয়ে অভিযোগ করবো না। আমি নিজেকে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলবো না।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের অফিস বলেছে, যৌন হয়রানির ঘটনা থেকে জাতিসংঘও একেবারে সুরক্ষিত নয়, এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এর বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে আছে অভিযোগ তদন্তের জন্য নারী তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, অসদাচরণ নিয়ে কর্মীরা যাতে অভিযোগ করতে পারেন, সেজন্য হটলাইন স্থাপন, এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের জন্য আরও ভালো প্রশিক্ষণ।
তবে বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানকে পূর্ণা সেন বলেন, ডকুমেন্টারিতে যাদের বিবরণ পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয় জাতিসংঘ তাদের 'জিরো টলারেন্সের' অঙ্গীকার রক্ষা করেনি এবং 'তাদের আরও অনেক বেশি কিছু করার আছে।
‘এটা দুর্নীতি, প্রতারণা, যৌন হয়রানি- যেটাই হোক, জাতিসংঘের কর্মীরা মনে করে তারা অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারে না, তাদের অভিযোগ অনেক আগে-ভাগেই নাকচ করে দেয়া হয়। তাদের বিকল্প কোন প্রক্রিয়ার সুযোগ দেয়া হয় না, আপিলের সুযোগ দেয়া হয় না।’
‘জাতিসংঘ নিশ্চিতভাবেই তাদের আগের অনেক ব্যর্থতার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে সেটা যথেষ্ট হয়নি। আমি এমন অনেক বিষয় দেখেছি, যা আসলে অনেক বেশি পীড়াদায়ক- এগুলোর ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া যায়, এবং নেয়া উচিৎ, শুধু কথায় নয়, কাজে।’
- ঈদের আমেজ, রাজধানী আজও বেশ ফাঁকা
- ইরানে বাড়ি ও পার্কে হামলা, ৬ জন নিহতের দাবি
- নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে গাড়ির সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ
- আজও ঢাকা চিড়িয়াখানায় মানুষের ব্যাপক ভিড়
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল
- ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ
- যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সব পেট্রোল পাম্প
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশীবাজারেও
- সাত দিন ছুটির পরে কাল খুলছে অফিস-আদালত
- ইরানসহ চার দেশের সঙ্গে ইইউর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
- একাত্তরে গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
- সড়ক দুর্ঘটনা: ১৮ ঘণ্টায় ঝরে গেল ২৩ প্রাণ
- ট্রাম্পের আলটিমেটামে কড়া প্রতিক্রিয়া ইরানের
- আজ সকালে লন্ডন গেলেন ডা. জোবাইদা রহমান
- এই ঈদে দর্শক চাহিদায় বাড়ল ‘দম’-এর শো
- অনেক নারী এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত: এড. দিলশাদ
- একাত্তরে গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
- কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা: ২ গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে ৩ কমিটি
- আজ সকালে লন্ডন গেলেন ডা. জোবাইদা রহমান
- বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৩ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস
- ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা রাজধানী
- এই ঈদে দর্শক চাহিদায় বাড়ল ‘দম’-এর শো
- ট্রাম্পের আলটিমেটামে কড়া প্রতিক্রিয়া ইরানের
- ১০ দিনে নেপাল-তিব্বত: পাহাড় ও বিস্ময়ের এক ভ্রমণকাহিনি
- আজও ঢাকা চিড়িয়াখানায় মানুষের ব্যাপক ভিড়
- নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সিদ্ধান্ত ফিফার
- দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন
- দেশের যেসব অঞ্চলে চার দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা
- পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশীবাজারেও











