ঢাকা, বুধবার ০৮, জুলাই ২০২০ ৪:৩১:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
করোনায় ফেনীর সিভিল সার্জনের মৃত্যু করোনা মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বের প্রশংসা করল ঢাকা করোনা: দেশে একদিনে আরও ৫৫ জনের মৃত্যু করোনার ভুয়া রিপোর্ট: রিজেন্টের দুই হাসপাতাল সিলগালা মাশরাফির স্ত্রী সুমিও করোনা আক্রান্ত

জিডি কি, কেন জরুরি

মনজিলা সুলতানা ঝুমা | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:০৩ পিএম, ১ জুন ২০২০ সোমবার

ইংরেজি শব্দ General Diary (সাধারণ ডায়েরি)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে জিডি। জিডি হলো অপরাধ ও অন্যান্য সংবাদবিষয়ক রেজিস্টার। কেউ যদি কোনো কারণে জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বা কোনো খারাপ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন, তাহলে তিনি সেই বিষয়টি সম্পর্কে থানায় অবিহিত করে আইনিভাবে রেজিস্টার করাকে জিডি বলে।

জিডি মূলত সাধারণ বিবরণ যা থানায় বিশেষ বইয়ে লিপিবদ্ধ করতে হয়। এটি হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। 

১৮৬১ সালের পুলিশ আইন, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল ১৯৪৩ সালের আইনগুলোতে জিডি সম্পর্কে বলা হয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখনও কোনো হুমকির মুখোমুখি হলে বা কোনো কিছু হারিয়ে গেলে বা স্কুলে যাওয়ার পথে বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হলে থানায় জিডি করার কথা ভাবেন। কিন্তু কীভাবে জিডি করতে হয় তা অনেকেই জানেন না। তাই জিডি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—

কেন জিডি করা প্রয়োজন? 

জিডি হলো একটি থানার চলমান আইনি চিত্ররূপ। বিভিন্ন কারণে জিডি করা হয়। থানায় মামলাযোগ্য নয় এমন ঘটনা ঘটলে বা  কাউকে ভয়-ভীতি দেখানো হলে বা জীবন বা সম্পত্তির  নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে, কিংবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে, ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য জিডি করা হয়। এ ছাড়াও কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, চেকবই বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে গেলে, বখাটে, মাদকসেবী বা অপরাধীদের আড্ডা-সংক্রান্ত তথ্য; জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন অবৈধ সমাবেশ, গৃহকর্মী, দারোয়ান বা নৈশপ্রহরী পালিয়ে যাওয়া, নতুন বা পুরনো ভাড়াটে সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রবাসীদের সমস্যা সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে থানায় জিডি করা যায়। এই সব ঘটনার পরে দোষীকে শনাক্ত এবং হারানো জিনিস খুঁজে পেতে জিডির প্রয়োজন।

কোথায় এবং কীভাবে করবেন

যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, সেই এলাকার থানাতেই জিডি করতে হয়। অন্যথায় আইনি সহায়তা নিতে ঝামেলা পোহাতে হয়। জিডিতে নিজের নাম এবং থানার নাম উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে হয়। 
জিডির জন্য কি কি প্রয়োজন? 

যে বিষয়টি সম্পর্কে জিডি করা প্রয়োজন, সে বিষয়টি সম্পর্কে বিবরণ অংশে বিস্তারিত লিখতে হবে। হুমকি দাতার নাম, ঠিকানা, হুমকির স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কিছু হারিয়ে গেলে তার বিস্তারিত বিবরণ এবং পারলে তার কোনো নমুনা। যেমন—ছবি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। সব শেষে নিচে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখতে হবে।

জিডি করার পরে করণীয়

থানার ডিউটি অফিসার জিডি নথিভুক্ত করার পরে তিনি ডায়েরিতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন। জিডির দুটি কপি করা হয়। একটি থানায় সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যটি জিডির নম্বর, তারিখ এবং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিলসহ আবেদনকারীকে দেওয়া হয়। এটি আবেদনকারী নিজের কাছে সংরক্ষণ করবে।
অনলাইনে কি জিডি করা যায়?

হ্যাঁ, অনলাইনে জিডি করা যায়। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে Citizen Help Request নামে একটি লিংক পাওয়া যাবে। লিংকটিতে ক্লিক করে অনলাইনে জিডি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করার তালিকা আসবে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জিডির ঘরটি পূরণ করতে হবে। তথ্যাবলী যথাযথভাবে পূরণ করে সাবমিট করলে সংশ্লিষ্ট থানায় আপনার তথ্যটি পৌঁছে যাবে। আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি শনাক্তকরণ নাম্বার পাবেন। যে নম্বারটি সংগ্রহ করে নিজের কাছে রাখতে হবে।
জিডি করতে টাকা লাগে কি? 

না, জিডি করতে কোনো ধরনের টাকা পয়সা লাগে না। এটি একজন নাগরিকের আইনি অধিকার, যা রাষ্ট্র তাকে প্রদান করেছে।

জিডির আইনগত গুরুত্ব

আইনগত সহায়তা লাভের জন্য জিডি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেবল একটি জিডির ভিত্তিতেই একটি মামলার শুরু হতে পারে বা অপরাধের আশঙ্কা থেকে একটি জিডি করে রাখলে, পরবর্তীতে সেই অপরাধটি সংঘটিত হলে আদালতে ওই জিডি সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয়ে থাকে। তাই জিডির আইনগত গুরুত্ব অনেক। সুতরাং থানায় জিডি করার পর জিডির নম্বরটি নিজের সংগ্রহে রাখতে হবে। প্রয়োজনে জিডির রিসিভ কপি সংগ্রহে রাখতে হবে।

জিডির তদন্ত 

থানায় জিডি করার পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জিডিটি ওসির এর কাছে পাঠাবেন এবং যদি এটি কোনো আমলযোগ্য অপরাধ হয় বা সম্ভাবনা থাকে তবে থানা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবেন এবং গৃহীত আইনি ব্যবস্থার কথা আবেদনকারীকে জানাবেন।

লেখক : মনজিলা সুলতানা ঝুমা, আইনজীবী। জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা ও খাগড়াছড়ি।