ঢাকা, শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ ১২:১৮:৫০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা নেপাল-চীনে বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৫০০ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু নেপালে বন্যা: মৃত্যু বেড়ে ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার নেপালের বন্যা: হিমালয় যখন সতর্কবার্তা দেয় নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন

ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, ডজন ১৬০ টাকা পর্যন্ত

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪০ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিমের বাজারে সেই স্বস্তির ছোঁয়া নেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাড়া-মহল্লার কিছু দোকানে একই ডিমের দাম উঠেছে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। চারটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

অর্থাৎ খুচরা বাজারে একটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা এখন বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদরেও ফার্মের লাল ডিমের দাম ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা হালি দেখানো হয়েছে। সে হিসাবে সরকারি বাজারদরের সঙ্গে রাজধানীর খুচরা বাজারের দামে ব্যবধান রয়েছে।

বাড়ছে খাদ্য ব্যয়ের চাপ

ডিম সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস। মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডিমকে বিকল্প হিসেবে রাখে। ফলে ডিমের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবারের খাদ্যব্যয়ে।

বর্তমানে ব্রয়লার মুরগিও ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি ডিমের দামও বাড়তি থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আমিষের জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দামের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন

খামার থেকে পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা দোকানে পৌঁছাতে ডিমের দাম কয়েক দফা বাড়ে। পরিবহন, ভাঙার ঝুঁকি, শ্রমিকের মজুরি ও দোকানের খরচের কারণে কিছু মূল্য সংযোজন স্বাভাবিক। কিন্তু উৎপাদক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের ব্যবধান কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন ওঠে।

এর আগে বাজারে ডিমের দামে বড় ধরনের ওঠানামার ঘটনাও দেখা গেছে। এক পর্যায়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় নেমে এলেও পাড়া-মহল্লার বাজারে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।

নজরদারি জরুরি

ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না—উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নজরদারি প্রয়োজন। খামারির উৎপাদন খরচ, পাইকারি দর, পরিবহন ব্যয় এবং খুচরা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত মুনাফা বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

কারণ ডিম কোনো বিলাসী পণ্য নয়। এটি সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ডিমের বাজারে অস্থিরতা মানে শুধু একটি পণ্যের দাম বাড়া নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের পুষ্টি ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব।

বর্তমান বাজারচিত্রে তাই ডিমের দাম কমানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত বাজার নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।