ঢাকা, রবিবার ০৫, জুলাই ২০২০ ৩:১৭:৪৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দেশে করোনায় মোট মৃত্যু প্রায় ২ হাজার করোনা: ২১ দিনের লকডাউনে গেল ওয়ারী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিমানের সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ফ্লাইট স্থগিত ১৪ দিনের লকডাউনে গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএমএমইউতে আজ চালু হচ্ছে করোনা সেন্টার

বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা, পানিবন্দি লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫১ পিএম, ২৯ জুন ২০২০ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নয়টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কমপক্ষে ১৮টি জেলায় মধ্যমেয়াদী এই বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র রবিবার জানিয়েছে, দেশের নয়টি জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এই জেলাগুলো হলো, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোণা এবং সুনামগঞ্জ। এছাড়া দেশের সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টের বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপদসীমার উপরে অবস্থান করতে পারে। অপরদিকে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১০১ টিপানি স্টেশনের মধ্যে ৮২টি স্টেশনের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে হ্রাস পেয়েছে ১৩ টিপানি স্টেশনের। অপরিবর্তিত আছে দুটি স্টেশন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের লরের গড়ে ৩৬০ মিলিমিটার, মহেশখোলা ২৪০ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জ ২১৩ মিলিমিটার, ছাতক ১৩০ মিলিমিটার, লালাখাল ১৭৫ মিলিমিটার, জারিয়ানজাইল এ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। রবিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গত কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। একইভাবে বৃষ্টি হচ্ছে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে। চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৯৫ মিলিমিটার। আর সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা ১৯০ মিলিমিটার।

এদিকে রবিবার বিকাল ৩টা থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত তিনদিন ধরেই ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্তত পাঁচটি নদীর পানি পাশের জেলাগুলোয় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, পদ্মা, আত্রাই ও হাওর এলাকার নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে যেতে পারে। এক সপ্তাহ ধরে এসব নদীর পানি বাড়তে পারে। এক সপ্তাহ লাগবে নামতে। সব মিলিয়ে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৮ জেলায় আগামী দুই সপ্তাহ বন্যার পানি থাকতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মৌসুমি বায়ু এবার শক্তিশালী ও সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের উজানে ভারতীয় অংশে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। সামনের দিনে এই বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় বন্যার আশঙ্কা আছে। তাই এই পুরো সময়ের জন্য সরকারকে বন্যা মোকাবিলা এবং ব্যবস্থাপনার কাজের প্রস্তুতি নিতে হবে।

এদিকে, বর্ষার শুরুর আকস্মিক এই বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। অনেকের বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। ডুবে গেছে ফসলের জমি। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের লাখ মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

-জেডসি