ঢাকা, শনিবার ৩১, জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৮:২৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট রিমাইন্ডার: ব্যালট ফেরত দেয়ার সময় শিগগিরই শেষ অন্তর্বর্তী সরকার: প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বিশেষ মনোযোগ ভোট ছাড়াই ফেরত এসেছে ১১ হাজার পোস্টাল ব্যালট আজ সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন তারেক রহমান দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আ.লীগ নেতাদের সাক্ষাৎ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

অন্তর্বর্তী সরকার: প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বিশেষ মনোযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২৮ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও নির্বাচন– এই তিন গুরুদায়িত্ব পালনের ঘোষণা দিলেও গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে প্রতিরক্ষা খাতের কেনাকাটায়। এর মধ্যে ভূরাজনৈতিকভাবে কৌশলগত নানা সমঝোতা, চুক্তি এবং আলোচনা উল্লেখযোগ্য।   

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার পাকিস্তান থেকে ১২টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান, চীন থেকে ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান, ইউরোপের কয়েকটি দেশের তৈরি ১০টি ইউরো ফাইটার টাইফুন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট দুই আসনের ছয়টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, তুরস্ক অথবা তার মনোনীত কোনো সংস্থা থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ খালিদ বিন ওয়ালিদের উন্নয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক হেলিকপ্টার ও বিমান কেনা নিয়ে আলোচনা করেছে, আগ্রহ দেখিয়েছে বা আগ্রহপত্র সই করেছে। সর্বশেষ সামরিক ড্রোন নির্মাণে চীনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

বাংলাদেশ ফোর্সেস গোল ২০৩০-এ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা আছে। এই উদ্যোগ প্রতিরক্ষা ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক ঘরানা নির্ধারণের মতো বিষয় সব সময় সম্পৃক্ত। ফলে ধাপে ধাপে এসব সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাস্তবায়নের কথা। 

দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তৃতীয় ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বলেছিলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুবচনবাদী গণতন্ত্র রূপান্তর নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেছিলেন, নির্বাচন, বিচার, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম কাজ। 

তবে অর্থনৈতিকভাবে বহুমাত্রিক চাপে থাকা অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার নানা বাড়তি ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ একাধিক টার্মিনাল ২২ থেকে ৩৩ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার মতো নানা ব্যবসায়িক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর কোনো কোনোটি নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কথাও উঠেছে।    

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের বহুমুখী ক্রয় উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। বড় অঙ্কের ব্যয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়– সবকিছুই সতর্কভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সর্বোপরি অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এ তিনটি বিষয়েই বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন ছিল। 

ড্রোন নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি

ড্রোন নির্মাণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। গত মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের বিমানবাহিনী সদরদপ্তরে জিটুজির (সরকার থেকে সরকার) আওতায় মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) বা ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং, অ্যাসেম্বলি প্লান্ট স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে এ চুক্তি সই করা হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি আট লাখ টাকা।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের মাঝারি উচ্চতার নিম্ন সহনশীল এবং উল্লম্ব টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের মনুষ্যবিহীন আকাশযান উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। এ ছাড়া নিজস্ব ইউএভি উৎপাদন করবে। 

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ, সম্ভাব্য খরচ ৯ হাজার কোটি টাকা 

সরকার পাকিস্তান থেকে ১২টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৭২০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় আট হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা।
 
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এ-সংক্রান্ত এক নথি থেকে জানা গেছে, এটি ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান শক্তিশালী রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত। এসব যুদ্ধবিমানের প্রতিটির দাম ৪০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

এসব বিমানের পরীক্ষা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ, বিদেশে ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ এবং আরও কিছু যন্ত্রাংশ বাবদ প্রাথমিক অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৭ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াবে আট হাজার ৮১ কোটি টাকা। বীমা, ভ্যাট ও অন্যান্য বাবদ ৭৭৪ কোটি ব্যয় ধরা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ পাকিস্তান সফরের সময় জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে কথা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। এই যুদ্ধবিমানটি জেএফ-১৭ থান্ডার নামেও পরিচিত।

বৈঠকে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবের সিধু বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার বিষয়ে আশ্বাস দেন। 

বৈঠকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আর বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানায়, ‘বিষয়টি মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’   

চীন থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান, সম্ভাব্য ব্যয় ২৭ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীন থেকে ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সরকার। মাল্টিরোল কমবেট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ) বা বহুমাত্রিক অভিযানে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান কেনা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা। জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব যুদ্ধবিমান প্রয়োজন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়। 

এ-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নথিতে দেখা যায়, বিমানবাহিনীর ২১ নম্বর স্কোয়াড্রনের এ-৫ আইআইআইএ বিমানের অনুকূলে ১০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল কমবেট যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ১০টি যুদ্ধবিমান দিয়ে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর আলোকে নতুন স্কোয়াড্রন গড়ে তোলা হবে।

চীনের কাছ থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান কিনতে সম্ভাব্য খরচের একটি হিসাব তৈরি করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এতে প্রতিটি মাল্টিরোল কমবেট এয়ারক্রাফটের মূল্য প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে ২০টি বিমানের মূল্য ১২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

স্থানীয় পর্যায়ে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি কেনা, পরিবহন খরচ বাবদ যোগ হবে আরও ১০ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বীমা ও ভ্যাট, এজেন্সি কমিশন, পূর্ত কাজসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এসব যুদ্ধবিমানের মূল্য পরিশোধের জন্য ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে থোক বরাদ্দ দিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে।

চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদ ও বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য ওয়ার জোনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের তৈরি জঙ্গিবিমান জে-১০সি ‘ভিগোরাস ড্রাগন’ নামেও পরিচিত। চতুর্থ প্রজন্মের এই জঙ্গিবিমানের বহুমাত্রিক অভিযানের সামর্থ্য রয়েছে।

সুপারসনিক গতিতে (শব্দের চেয়ে বেশি গতি) উড্ডয়ন সক্ষম জে-১০সি শত্রুপক্ষের জঙ্গিবিমান শনাক্তকরণে সুদক্ষ। আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার সক্ষমতা রয়েছে এর। এটি ২০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এটি অন্যান্য জঙ্গিবিমান এবং ড্রোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে অভিযানে যুক্ত হতে পারে। যুদ্ধবিমানটি প্রযুক্তি, গতি এবং শত্রুর নজর এড়িয়ে আক্রমণ পরিচালনা ও নজরদারিতে সক্ষম। 

১০টি ইউরো ফাইটার টাইফুন কেনার আগ্রহপত্র সই

ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে কেনা হচ্ছে ১০টি ইউরো ফাইটার টাইফুন। এর উৎপাদনকারী দেশগুলো হলো– যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেন। ইউরো ফাইটার টাইফুন সংগ্রহে গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দোর সঙ্গে একটি আগ্রহপত্র সই করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। 

ওইদিন বিমানবাহিনীর ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, বিমানবাহিনীর সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এলওআই সই অনুষ্ঠানের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সম্মুখসারিতে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অত্যাধুনিক এমআরসিএর অংশ হিসেবে এই সম্মতিপত্রের আওতায় ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে লিওনার্দো এসপিএ।

দুই ইঞ্জিনের ইউরো ফাইটার টাইফুন সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। বর্তমানে ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সৌদি আরব ও ওমানের বিমানবাহিনীর বহরে এ সুপারসনিক যুদ্ধবিমান আছে।

তুরস্কের তৈরি টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ছয়টি

তুরস্কের তৈরি টি-১২৯ দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট দুই আসনের ছয়টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে চায় বাংলাদেশ। সরকারের এ-সংক্রান্ত কার্যপত্র থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

এ অ্যাটাক হেলিকপ্টার উষ্ণ ও উচ্চ পরিবেশ, দিনে বা রাতে যে কোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় আক্রমণ ও গোয়েন্দা মিশন পরিচালনায় সক্ষম। এই হেলিকপ্টারে একটি ২০ মিলিমিটারের তিন ব্যারেল ঘূর্ণনশীল কামান, এল-ইউএমটিএএস ও সিআইআরআইটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের রকেট নিক্ষেপ করা যায় হেলিকপ্টারটি থেকে। এর দাম বা খরচের বিষয়ে নথিতে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।    

যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৬৫০ কোটি টাকা 

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি পদ্ধতি) তুরস্ক সরকার অথবা দেশেটির মনোনীত কোনো সংস্থা এর আপগ্রেডেশন করবে। 

এ-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখা এবং শান্তি ও যুদ্ধকালীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সমুদ্র এলাকায় সর্বদা উপস্থিতি বজায় রাখা ও সার্বক্ষণিক সার্ভিলেন্স করা অপরিহার্য। বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে নৌবাহিনীর কলেবর ও কর্মপরিধি বহুলাংশে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিগত দশকে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ ও সরঞ্জাম নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। 

তবে ওইসব জাহাজের অধিকাংশই ২৫-৩০ বছরের পুরোনো হওয়ায় এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও হুমকি প্রশমনের জন্য বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ জাহাজের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আপগ্রেডেশন করা খুব জরুরি।  

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন সংগ্রহ 

নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উন্নত সাবমেরিন সংগ্রহের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। গত নভেম্বরে ঢাকার দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাস আয়োজিত ‘নেভিগেটিং জিওপলিটিক্যাল ডাইনামিকস: টুওয়ার্ডস এ কোরিয়া-বাংলাদেশ ফিউচার পার্টনারশিপ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে বাংলাদেশের এ আগ্রহের তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে অংশ নেওয়া দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ কোরিয়ার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সং কিয়ংজিন সেখানে এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সং কিয়ংজিন জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-কোরিয়া নৌবাহিনীর মধ্যে আলোচনা হয়। যার লক্ষ্য ছিল সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা। সে সময় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তবে গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সত্য নয়। তবে ঢাকা ও সিউলের কূটনৈতিক সূত্রগুলো ডুবোজাহাজ সংগ্রহের আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও বিমান কেনার আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত চারটি ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল সামরিক হেলিকপ্টার কেনার আলোচনা হচ্ছে। এটি প্রধানত সৈন্য পরিবহন, আহত সেনাদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান (মেডিকেল ইভাকুয়েশন), বিশেষ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা, যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। বহুমাত্রিক ব্যবহারের কারণে হেলিকপ্টারটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

একই সঙ্গে দেশটি থেকে দুটি স্থির-পাখা যুদ্ধবিমান বা ফিক্সড উইং এয়ারক্রাফট কেনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আরও দুটি ট্রেনিং এয়ারক্রাফট কেনারও উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে এ ধরনের সামরিক কেনাকাটার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। তার জন্য প্রতিনিয়ত প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনা হয়। তবে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধবিমান কেনায় সরকারের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়গুলো আমার জানা নেই।’