ঢাকা, শনিবার ২০, জুন ২০২৬ ৩:০৪:০৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইতালি, বাতিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদলাচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম: শার্ট নীল-প্যান্ট খাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান শিক্ষার্থীদের ইংরেজির মান নিয়ে প্রশ্ন রুমিন ফারহানার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: সবার আগে নক-আউট পর্বে মেক্সিকো এবার দেশেও স্বর্ণের দামে বড় ধস বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতা

বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতা

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০০ পিএম, ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার

বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম ক্রেতারা

বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম ক্রেতারা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে এখনো স্বস্তি ফিরছে না। ঈদ-পরবর্তী সময়েও বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে সবজি, মুরগি, মাছ ও মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে অনেক পরিবারকেই খাদ্যতালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মালিবাগ ও খিলগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি পণ্যের দাম কমছে না।

সবজির বাজারে চড়া দাম

গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমলেও এখনো প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, আর দেশি রসুনের দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি।

মাছ-মাংসের বাজারে চাপ

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের বাজারে আকারভেদে দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংসের দাম ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

চালের বাজার স্থিতিশীল

চালের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। মোটা চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা এবং উন্নত মানের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৮০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আটা প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ময়দা ৫৫ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেল ও ডালের বাজার

বোতলজাত সয়াবিন তেল পাঁচ লিটারের বোতল ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং ছোলা ৯০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

চিনি প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফলের বাজারে মৌসুমি আমের দাপট

ফলের বাজারে এখন আমের মৌসুম। বিভিন্ন জাতের আম ৬০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লিচুর মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। বাজারে প্রতি শত লিচু ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তরমুজ, আনারস ও কলার চাহিদাও বেশ রয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হান্নান বলেন, "বেতন বাড়েনি, কিন্তু বাজারের খরচ দিন দিন বাড়ছে। দুই-তিনটি ব্যাগ ভর্তি বাজার করতে এখন কয়েক হাজার টাকা লাগছে।"

গৃহিণী সুলতানা আক্তার বলেন, "আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার হতো, এখন সেই টাকায় চার-পাঁচ দিনের বেশি চলে না।"

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, পরিবহন ব্যয় এবং কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন ফসল ও সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

বিশ্লেষকদের মত

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

সার্বিকভাবে, দেশের বাজারে এখনো স্বস্তির দেখা নেই। চাল ও কিছু খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সবজি, মাছ, মাংস ও মসলাজাতীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।