ঢাকা, শনিবার ২০, জুন ২০২৬ ১:১৬:৩৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইতালি, বাতিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদলাচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম: শার্ট নীল-প্যান্ট খাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান শিক্ষার্থীদের ইংরেজির মান নিয়ে প্রশ্ন রুমিন ফারহানার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: সবার আগে নক-আউট পর্বে মেক্সিকো এবার দেশেও স্বর্ণের দামে বড় ধস বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতা

সায়েন্টিফিক আমেরিকানের স্বীকৃতি পেলেন ড. তনিমা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩০ পিএম, ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে নতুন এক গৌরবের নাম। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান তাঁকে ‘বিজ্ঞানের উদীয়মান তারকা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কৃষ্ণগহ্বর ও গ্যালাক্সির রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি সাময়িকীটির প্রথম ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্র থেকে নির্বাচিত মাত্র ২৮ জন সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানীর মধ্যে জায়গা করে নেওয়া ড. তনিমার জন্য যেমন বড় অর্জন, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও এটি গর্বের বিষয়। বিজ্ঞান ও গবেষণার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধার উজ্জ্বল উপস্থিতির আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত ড. তনিমা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের গ্যাস ও অন্যান্য পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া একটি গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা অনুসন্ধান করা।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে নতুন ধারণা পেতে কৃষ্ণগহ্বরের আচরণ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. তনিমার গবেষণা এই জটিল বিষয়ে নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যা সামনে আনছে, যা ভবিষ্যতের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শৈশবেই মহাকাশের প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা। ঢাকায় বেড়ে ওঠা তনিমা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আকাশভরা তারার দিকে তাকিয়ে মহাবিশ্বের রহস্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণার পথে নিয়ে যায়। আজ সেই স্বপ্নই তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সায়েন্টিফিক আমেরিকান বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান সাময়িকীগুলোর একটি। দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশিত হয়েছে এই সাময়িকীতে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ড. তনিমার গবেষণার গুরুত্বকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি গবেষকদের সক্ষমতারও স্বীকৃতি। তাঁর এ অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য অনুসন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এই তরুণ বিজ্ঞানীর সাফল্য নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।