বাড়ছে ডেঙ্গু, প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০১:৩১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
বৃষ্টি থামছে, কিন্তু থামছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন। মারা গেছেন আরও পাঁচজন। চলতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ হাজার ৪০০ জন এবং মারা গেছেন ১৭৬ জন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কোথাও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, কোথাও ফুলের টব, আবার কোথাও নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে জমে থাকা পানি পড়ে রয়েছে দিনের পর দিন।
হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর চাপ
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতিতেও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই রয়েছেন ৬২৪ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২, খুলনায় ২৫২ এবং বরিশালে ২১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত কয়েক দিন ধরেই প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১ হাজার ৭৩৩ জন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে আট ও সাতজনের।
একজন চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বর হলেই অনেকেই প্রথমে সেটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে বাড়িতে চিকিৎসা নিতে থাকেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নমুনা বক্তব্য—চিকিৎসক:
‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সতর্ক হওয়া বেশি জরুরি। জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে কি না, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।’
বাড়ির আঙিনাতেই মশার প্রজননস্থল
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এ মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই শুধু সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক পরিবারকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক বাড়ির ছাদে টবের নিচে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত বালতি, ড্রাম, ভাঙা পাত্র কিংবা প্লাস্টিকের বোতলে পানি জমে আছে। সামান্য অসচেতনতার কারণে এসব জায়গাই হয়ে উঠতে পারে এডিস মশার প্রজননস্থল।
মগবাজারের এক বাসিন্দার ভাষায়, ‘মশার ওষুধ ছিটালে কয়েক ঘণ্টা মশা কম থাকে। কিন্তু বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে আবার মশা হয়। তাই শুধু সিটি করপোরেশনকে দোষ দিলে হবে না, নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।’
ধানমন্ডির এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা হয়। বাসার ছাদে বা আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, এখন নিয়মিত দেখতে হয়।’
শুধু অভিযান নয়, দরকার নিয়মিত নজরদারি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশকনিধন কার্যক্রমকে আরও নিয়মিত ও এলাকাভিত্তিক করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় জমে থাকা পানি অপসারণে নজরদারি প্রয়োজন।
কারণ ডেঙ্গুর বিস্তার শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
নমুনা বক্তব্য—জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ:
‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। মানুষ যদি সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে, তাহলে এডিসের বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকতে হবে।’
শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শিশু, বয়স্ক এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ নজর প্রয়োজন। শিশুর জ্বর হলে তাকে স্কুলে না পাঠিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
একই সঙ্গে জ্বরের সময় নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।
সচেতনতাই বড় প্রতিরোধ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার, সিটি করপোরেশন, হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবারকে এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পানির ট্যাংক এবং আশপাশের জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে পরিষ্কার করা দরকার।
ডেঙ্গুর মশা ছোট, কিন্তু এর ঝুঁকি বড়। একটি সামান্য পানির পাত্র থেকেও তৈরি হতে পারে শত শত মশা। তাই মশা দেখার অপেক্ষা না করে মশার জন্মানোর জায়গা নষ্ট করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন আতঙ্ক নয়—প্রয়োজন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটি যদি সবাই নিজের বলে মনে করেন, তাহলেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই আরও কার্যকর হবে।
- তুলির রঙে এবার নতুন ঠিকানা—নিপুস ক্রিয়েশন
- আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেবে প্রাইম ব্যাংক
- এশিয়ান গেমস:বাংলাদেশকে খেলার কথা বলে মাঠে আসেনি চীন
- ১০ দিন ধরে লাপাত্তা একই পরিবারের দুই গৃহবধূ
- ভাষা আন্দোলন: ভাষার জন্য নারীরাও নেমেছিল রাজপথে
- ভাষা আন্দোলন: ভাষার জন্য নারীরাও নেমেছিল রাজপথে
- দুশ্চিন্তায় অস্থির? মস্তিষ্ক শান্ত রাখতে প্রতিদিন করুন এই অভ্যাস
- ফিজিতে প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত
- ২০২৭ সালের হজে যেতে পারবেন না যারা
- গ্রিন কার্ড পেতে নতুন নিয়ম জানালো ট্রাম্প প্রশাসন
- দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ল
- প্রথমবার জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়াল
- সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
- ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস
- সুনামগঞ্জে বাবার হাতে বিষপানে ৩ শিশুর প্রাণহানী
- এআই-এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেবে সরকার
- বাড়ছে ডেঙ্গু, প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা
- ডিমে কিছুটা স্বস্তি, আটা-ময়দায় বাড়তি চাপ
- রেসিপি: শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় ‘জর্জের ডাল’
- মোদি ও তার শাসকদল ‘স্বৈরাচারী’: শ্রীলেখা
- সাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস, রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে
- শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা
- ছুটির দিনেও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস
- রাজধানীতে রাস্তা সংস্কারের নামে জনদুর্ভোগ, চলছে ১২ মাস
- চড়ুই আমাদের ঘরের পাখি, আঙ্গিনার বন্ধু
- এ স প্তা হে র ছ ড়া : জী ব ন ও প্র কৃ তি
- উ. কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়বে ভাবা মূর্খদের কাজ: কিম
- প্রথমবার জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়াল
- দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ল
- গ্রিন কার্ড পেতে নতুন নিয়ম জানালো ট্রাম্প প্রশাসন


