ঢাকা, শুক্রবার ২০, মার্চ ২০২৬ ১৭:০৩:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ৫ বাংলাদেশি নিহত: শামা ওবায়েদ রাজধানীতে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি, ভোগান্তিতে নগরবাসী ঈদ বাজার: শেষ সময়ের কেনাকাটায় ব্যস্ত নারীরা ঈদের আগে শেষ শুক্রবারে সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংস-ডিমে চাপ আজ রমজানের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা আগামীকাল ঈদ, প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়বে কালোজিরার তেল

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৪৪ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নানা রকমের অসুস্থতা ও রোগ সারাতে বিশ্বজুড়ে শতশত বছর ধরে কালোজিরা ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণায়ও বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কালোজিরার কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। এটি বীজ হিসেবে যেমন উপকারী, তেমনি তেল হিসেবেও।

অনেকেই কিছু শারীরিক সমস্যায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করেন। এর পক্ষে গবেষকদেরও মত রয়েছে, অর্থাৎ আধুনিক বিজ্ঞানের সমর্থন আছে। এই তেল কেবল ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমায় না, উচ্চ রক্তচাপেও বেশ সহায়ক হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য চমকপ্রদ উপকার তো রয়েছেই। এখানে কালোজিরা তেলের সাতটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

* উচ্চ রক্তচাপ কমায়: চারটি গবেষণার একটি রিভিউ বলছে, কালোজিরার তেল রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।প্রাপ্তবয়স্করা অর্ধ চা-চামচ করে দিনে দু’বার কালোজিরার তেল খাওয়াতে রক্তচাপে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখেছেন। কালোজিরার তেল রক্তচাপ কমায় কেন তা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানেন না। তবে তারা ধারণা করছেন যে, এই তেলের উচ্চ থাইমোকুইনোন রক্তচাপ কমানোর নায়ক হতে পারে। অনলাইন মেডিক্যাল প্র্যাকটিস পালোমা হেলথের পুষ্টিবিদ আরিকা হোশেট বলেন, ‘থাইমোকুইনোন প্রদাহ কমাতে পারে। এটাই হয়তো রক্তচাপ ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখে।’

* কোলেস্টেরল কমায়: নিউবারি স্ট্রিট নিউট্রিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ স্কাইলার গ্রিগস বলেন, ‘কালোজিরার তেলে প্রচুর পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা আমাদের শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমায়।’ একটি গবেষণায় যেসব স্থূল নারী প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে আট থেকে ১২ সপ্তাহ কালোজিরার তেল খেয়েছেন তাদের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (এলডিএল) সেসব নারীর তুলনায় বেশি কমেছিল যারা কালোজিরার তেল সেবন করেননি। উল্লেখ্য যে, এসময় উভয় গ্রুপই লো ক্যালরি ডায়েটের ওপর ছিলেন। অন্য একটি গবেষণায়ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত কালোজিরার তেল খাওয়াতে এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লাইসেরাইড উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছিল। উচ্চ মাত্রার এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লাইসেরাইড উভয়েই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

* ওজন নিয়ন্ত্রণে আনে: কিছু গবেষণা বলছে, কালোজিরার তেল স্থূল ব্যক্তি বা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাননি। একটি গবেষণায় স্থূল নারীদের একটা গ্রুপকে প্রতিদিন ৩ গ্রাম করে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত কালো জিরার তেল সেবন করানো হয় এবং আরেকটা গ্রুপকে প্লাসেবো (যার কোনো থেরাপিউটিক ভ্যালু নেই) দেওয়া হয়। দেখা গেছে, প্রথম গ্রুপের নারীদের উল্লেখযোগ্য হারে ওজন কমেছে। গবেষণাকালে উভয় গ্রুপই লো ক্যালরি ডায়েট গ্রহণ করেছিল। আরেকটি গবেষণায়ও ওজন কমানোতে কালোজিরা তেলের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে- গড়ে ৪.৪ পাউন্ড বা ২.১ কিলোগ্রাম ওজন কমেছে।

* ব্রণ সারায়: ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে ব্রণ সারাতেও কালোজিরার তেল প্রয়োগ করতে পারেন। ব্রণের স্থানে ২০ শতাংশ কালো জিরার তেল সমৃদ্ধ ক্রিম মেখে চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় একটি গ্রুপকে ২০ শতাংশ কালোজিরা তেলের লোশন ও আরেকটি গ্রুপকে ৫ শতাংশ বেনজোয়েল পারঅক্সাইড লোশন দেওয়া হয়েছে। উভয়েই ব্রণ কমাতে ও সারাতে সমান কার্যকর ছিল। উভয়ের মধ্যে কালোজিরা তেলের লোশনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন- জ্বালাপোড়া ও চুলকানি) কম ছিল।

* ত্বককে আর্দ্র করে: কালোজিরার তেল মাখলে ত্বকে আর্দ্রতা আসে ও কিছু চর্মরোগ (যেমন- একজিমা) প্রশমিত হয়। তবে এই বিষয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। একটি গবেষণায় দিনে দু’বার করে চার সপ্তাহ কালোজিরার তেল প্রয়োগে হাতের একজিমা কমে এসেছে। এটা ওভার-দ্য-কাউন্টার ইউসেরিন লোশন ও প্রেসক্রিপশন টপিক্যাল স্টেরয়েড বিটামিথাসোনের মতোই কার্যকর ছিল।

* চুল গজাতে সাহায্য করে: অনেকেই জানান যে, কালোজিরার তেল ব্যবহারে চুল আরো ঘন হয়েছে ও চুল পড়া কমেছে।তবে এই দাবিকে সত্যায়নের জন্য এখনো পর্যন্ত বলিষ্ঠ গবেষণা নেই। গবেষকদের মতে, কালোজিরার তেলে বিদ্যমান প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড রক্ত চলাচল বাড়িয়ে চুল গজাতে বা বিকাশসাধনে উদ্দীপনা যোগায়। একটি গবেষণায় শেভ করা মাথার চার স্থানে নারকেল তেল ও কালোজিরা তেলের মিশ্রণ এবং নারকেল তেল ও অন্যান্য তেলের মিশ্রণ দেওয়া হয়েছে।দেখা গেছে, যেখানে নারকেল তেল ও কালোজিরা তেলের মিশ্রণ দেওয়া হয়েছে সেখানে চুলের ঘনত্ব অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি।