ঢাকা, শুক্রবার ২১, জুন ২০২৪ ১৪:৩৩:২২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মোদির আমন্ত্রণে আজ ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ধস, স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঈদের আমেজ শেষে ঢাকামুখী মানুষের চাপ সিলেটে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন আনারকন্যা ডরিনকে ডাকল ভারতের সিআইডি সিলেট ও ​​সুনামগঞ্জে অবনতি, আরও ৩ জেলায় বন্যার শঙ্কা

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় মিলছে না ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১৮ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ঘাটে নেই সেই হাঁকডাক। ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে হতাশ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জেলেরা। গভীর সমুদ্রে সামান্য ইলিশ মিললেও ট্রলারের খরচই উঠছে না। অধিকাংশ ট্রলারের জেলেরা আশানুরূপ ইলিশ না পেয়ে ফিরে আসছেন ঘাটে। ঋণের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন তারা, কেউ কেউ জেলে পেশা ছাড়ছেন। 

সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি করে মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে বসে আছেন জেলেরা। আড়তে অলস সময় পার করছেন শ্রমিক, বেপারী ও আড়তদাররা। দুই-এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আনা হলেও নেই হাঁকডাক। বছরের এ সময় জেলেরা আনন্দ নিয়ে ইলিশ আহরণ করেন, ট্রলারভর্তি মাছ আসে চেয়ারম্যান ঘাটে। মাছ রাখতেই শুরু হয় হাঁকডাক। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। এই সময়ে শত শত মণ ইলিশ চেয়ারম্যান ঘাটে আসার কথা থাকলেও মিলছে না ইলিশ। 


হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের এমভি আলমগীর ট্রলারের মালিক মো. আলমগীর মাঝি বলেন, এবার মাছের সংখ্যা অনেক কম। মাছ নেই বললেই চলে। লসের কারণে অনেকে এই জেলে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমরাও আগামীতে ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসায় যাব। আমি এখন ৭-৮ লাখ টাকা সুদের ওপর, ধানের ওপর ঋণ আছি। এবারও ঋণ হবে কারণ বেতন দিতে হবে জেলেদের। ব্যবসা ছাড়তে হবে, অন্য কোনো উপায় নেই।

ঘাটের শ্রমিক কবির সর্দার বলেন, ভরা মৌসুমেও ঘাটে মাছ নেই তাই আমরা বসে আছি। মাছ থাকলে আমরা বসে থাকতাম না। যদি মাছ হয় তাহলে জেলেরা দুই পয়সা পাইতো, আমরা শ্রমিকরা দুই পয়সা পাইতাম এবং আড়তদাররাও দুই পয়সা পাইতো। সবাই ঋণে জর্জরিত হয়ে খুব বিপদে আছি।

মোহাম্মদ রায়হান মাঝি বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার এত দিনেও মাছ পাচ্ছি না, আবার কিছুদিন পরেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে। আমরা আসলে যাব কোথায়? যদি অক্টোবর মাসের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা পিছিয়ে দেওয়া যেত তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।


মো. মিরাজ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, সমুদ্র থেকে অল্প কিছু মাছ পাওয়া যায়। ঘাটের ব্যবসায়ীদের চড়া দামে সেই মাছগুলো কিনতে হয়। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মাছ  যায়। কিন্তু সেখানে দাম পাওয়া যায় না। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে আছে।

আল্লাহর দান মৎস্য আড়তের মালিক মো. আকবর হোসেন বলেন বলেন, গত বছরের তিন ভাগের এক ভাগ মাছ এবার পাওয়া গেছে। আমরা সবাই ঋণের মধ্যে আছি। এভাবে ঋণ টানতে টানতে আগামীতে যে কি হবে বলা যায় না। মেঘনা নদীতে বিভিন্ন স্থানে চর জমে গেছে। ফলে মাছ নদীতে আসছে না। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার মতো ট্রলার সবার নেই। অনেক জেলে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। 


মেঘনা ফিশিং এজেন্সির ম্যানেজার মো. হাবিব ভূইয়া ঢা বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষের দুই মাসেও কোনো ইলিশ মিলছে না। আবার কিছুদিন পর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে। মেঘনায় মাছ না পাওয়ায় জেলেরা খুব কষ্টে আছে। ৩ লাখ টাকা খরচ করে গভীর সমুদ্রে গিয়ে কেউ ৫০ হাজার টাকার আবার কেউ এক লাখ টাকার মাছ পাচ্ছেন। তাদের খরচের টাকাও উঠছে না। ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবীসহ সবাই লসের মধ্যে আছে।

হাতিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানস মন্ডল বলেন, ইলিশ গভীর সমুদ্রের মাছ, কেবল প্রজননের সময় নদীর দিকে আসে। প্রজনন শেষে ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ আছে। মেঘনার ডুবচরের বাধার কারণে ইলিশ সমুদ্রে চলে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশ চলাচলেও প্রভাব পড়ে। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারণেও মাছ নদীতে কম আসছে। যেমন অবৈধ জালের ব্যবহার। সামনে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান রয়েছে। এর আগে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে বলে আমরা মনে করছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মেঘনায় ইলিশ না পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আমাদের ঋতুগুলোও এলোমেলো হয়ে গেছে, বৃষ্টির সময়ে বৃষ্টি হয় না। আবার মেঘনা মোহনায় পলি জমে অনেক ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। নদীর পানিতে দূষণও বাড়ছে। এসব কারণে এবার মেঘনায় ইলিশ কম পাচ্ছেন জেলেরা। ইলিশ পাওয়ার এখনো সময় আছে। সামনে ইলিশপ্রাপ্তির পরিমাণ বাড়লে আশা করি জেলেরাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই লাভবান হবেন।