ভরা মৌসুমেও মেঘনায় মিলছে না ইলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ১০:১৮ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রবিবার
সংগৃহীত ছবি
ঘাটে নেই সেই হাঁকডাক। ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে হতাশ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জেলেরা। গভীর সমুদ্রে সামান্য ইলিশ মিললেও ট্রলারের খরচই উঠছে না। অধিকাংশ ট্রলারের জেলেরা আশানুরূপ ইলিশ না পেয়ে ফিরে আসছেন ঘাটে। ঋণের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন তারা, কেউ কেউ জেলে পেশা ছাড়ছেন।
সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি করে মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে বসে আছেন জেলেরা। আড়তে অলস সময় পার করছেন শ্রমিক, বেপারী ও আড়তদাররা। দুই-এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আনা হলেও নেই হাঁকডাক। বছরের এ সময় জেলেরা আনন্দ নিয়ে ইলিশ আহরণ করেন, ট্রলারভর্তি মাছ আসে চেয়ারম্যান ঘাটে। মাছ রাখতেই শুরু হয় হাঁকডাক। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। এই সময়ে শত শত মণ ইলিশ চেয়ারম্যান ঘাটে আসার কথা থাকলেও মিলছে না ইলিশ।
হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের এমভি আলমগীর ট্রলারের মালিক মো. আলমগীর মাঝি বলেন, এবার মাছের সংখ্যা অনেক কম। মাছ নেই বললেই চলে। লসের কারণে অনেকে এই জেলে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমরাও আগামীতে ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসায় যাব। আমি এখন ৭-৮ লাখ টাকা সুদের ওপর, ধানের ওপর ঋণ আছি। এবারও ঋণ হবে কারণ বেতন দিতে হবে জেলেদের। ব্যবসা ছাড়তে হবে, অন্য কোনো উপায় নেই।
ঘাটের শ্রমিক কবির সর্দার বলেন, ভরা মৌসুমেও ঘাটে মাছ নেই তাই আমরা বসে আছি। মাছ থাকলে আমরা বসে থাকতাম না। যদি মাছ হয় তাহলে জেলেরা দুই পয়সা পাইতো, আমরা শ্রমিকরা দুই পয়সা পাইতাম এবং আড়তদাররাও দুই পয়সা পাইতো। সবাই ঋণে জর্জরিত হয়ে খুব বিপদে আছি।
মোহাম্মদ রায়হান মাঝি বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার এত দিনেও মাছ পাচ্ছি না, আবার কিছুদিন পরেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে। আমরা আসলে যাব কোথায়? যদি অক্টোবর মাসের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা পিছিয়ে দেওয়া যেত তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
মো. মিরাজ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, সমুদ্র থেকে অল্প কিছু মাছ পাওয়া যায়। ঘাটের ব্যবসায়ীদের চড়া দামে সেই মাছগুলো কিনতে হয়। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মাছ যায়। কিন্তু সেখানে দাম পাওয়া যায় না। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে আছে।
আল্লাহর দান মৎস্য আড়তের মালিক মো. আকবর হোসেন বলেন বলেন, গত বছরের তিন ভাগের এক ভাগ মাছ এবার পাওয়া গেছে। আমরা সবাই ঋণের মধ্যে আছি। এভাবে ঋণ টানতে টানতে আগামীতে যে কি হবে বলা যায় না। মেঘনা নদীতে বিভিন্ন স্থানে চর জমে গেছে। ফলে মাছ নদীতে আসছে না। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার মতো ট্রলার সবার নেই। অনেক জেলে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
মেঘনা ফিশিং এজেন্সির ম্যানেজার মো. হাবিব ভূইয়া ঢা বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষের দুই মাসেও কোনো ইলিশ মিলছে না। আবার কিছুদিন পর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে। মেঘনায় মাছ না পাওয়ায় জেলেরা খুব কষ্টে আছে। ৩ লাখ টাকা খরচ করে গভীর সমুদ্রে গিয়ে কেউ ৫০ হাজার টাকার আবার কেউ এক লাখ টাকার মাছ পাচ্ছেন। তাদের খরচের টাকাও উঠছে না। ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবীসহ সবাই লসের মধ্যে আছে।
হাতিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানস মন্ডল বলেন, ইলিশ গভীর সমুদ্রের মাছ, কেবল প্রজননের সময় নদীর দিকে আসে। প্রজনন শেষে ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ আছে। মেঘনার ডুবচরের বাধার কারণে ইলিশ সমুদ্রে চলে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশ চলাচলেও প্রভাব পড়ে। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারণেও মাছ নদীতে কম আসছে। যেমন অবৈধ জালের ব্যবহার। সামনে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান রয়েছে। এর আগে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে বলে আমরা মনে করছি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মেঘনায় ইলিশ না পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আমাদের ঋতুগুলোও এলোমেলো হয়ে গেছে, বৃষ্টির সময়ে বৃষ্টি হয় না। আবার মেঘনা মোহনায় পলি জমে অনেক ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। নদীর পানিতে দূষণও বাড়ছে। এসব কারণে এবার মেঘনায় ইলিশ কম পাচ্ছেন জেলেরা। ইলিশ পাওয়ার এখনো সময় আছে। সামনে ইলিশপ্রাপ্তির পরিমাণ বাড়লে আশা করি জেলেরাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই লাভবান হবেন।
- পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে
- ‘এখন আরও দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করছি’
- চ্যাম্পিয়ন সাবিনাদের জন্য ছাদখোলা বাস
- পুকুর পাড়ে হলুদ শাড়িতে ভাবনা
- ‘শৈশবে ফিরলেন’ নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা
- নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত
- ইরান অভিমুখে আরও মার্কিন নৌবহর
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ
- বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিলেন কনে
- রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া সেই শিশুকে মৃত ঘোষণা
- ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির, আগে টাকা দিলেই কাজ হতো’
- কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
- আমলকির তেল কি চুল পড়া বন্ধ করে?
- এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে
- হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল
- নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ
- ‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মেয়েদের হেনস্তা করা হচ্ছে’
- সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি
- ৩ দিন চলবে না মোটরসাইকেল, একদিন মাইক্রো-ট্রাক
- আয়রনের ঘাটতি, যে কারণে শুধু সাপ্লিমেন্ট যথেষ্ট নয়
- সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষা করবে মেটা
- মেয়েদের টানা জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে
- নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই: পাপিয়া
- ঋতুপর্ণার হ্যাটট্রিকে ১৩-০ গোলের জয়
- দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
- স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা
- প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ
- ১৭ বছর বড় বড় গল্প শুনেছি: তারেক রহমান
- গণভোট নিয়ে কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৮ উদ্যোগ
- ৪০ হাজার কোটির রাজস্ব হলেও ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি


