ঢাকা, শনিবার ১২, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৫০:৩৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের আশঙ্কা ‘ছিনতাই মামলায়’ আইনের কঠোর প্রয়োগে তৎপর সংশ্লিষ্টরা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে : প্রধানমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে সবার আগে জাপানে ঋতুপর্ণারা

মিনারকুটের বিলে ফুটে আছে শত শত পদ্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১২ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আখাউড়ার সীমানা ঘেঁষা ঘাঘুটিয়া ও মিনারকুটের  এই জলাভূমি এখন আর কেবল জলের আধার নয়, রূপসী বাংলার এক প্রাণবন্ত কাব্যগ্রন্থ।

প্রতি শরতেই প্রাকৃতিকভাবেই এই বিলে ফুটে ওঠে শত শত পদ্ম। সাম্প্রতিককালে রূপপিপাসু পথিক ও আলোকচিত্রীদের কল্যাণে এ যেন এক জনাকীর্ণ স্বর্গে পরিণত হয়েছে। ভোর হতে না হতেই বিলের শান্ত জলরাশি জেগে ওঠে গুঞ্জন আর মুগ্ধতার গুঞ্জরণে। পলিমাটির সুবাস, জলজ উদ্ভিদের তীব্র আকুলতা আর পদ্মের মৌ মৌ গন্ধ মিলেমিশে বাতাসকে করে তোলে সুবাসিত। সুদূর দিগন্ত থেকে ভেসে আসা বালিহাঁস, পানকৌড়ি আর গাঙচিলের কিচিরমিচির সেই সৌন্দর্যকে দেয় এক অনন্য ছন্দ ও সুর।

​ভোরের প্রথম আলো থেকে গৌধুলী লগ্ন পর্যন্ত ফুটতেই বিলের ঘাটে বাঁধা ডিঙ্গি নৌকাগুলো রূপসী কূলের পানে ছুটে চলে। মেহগনি বা সাল কাঠের নৌকায় বসে যখন কেউ বিলের বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন তিনি ভেসে যাচ্ছেন সময়ের কোনো অচিন মায়াপুরে। জলের সমতলে মাথা তুলে থাকা এক একটি পদ্মফুল যেন এক একটি রহস্যময় রোমাঞ্চ। কোনোটি সবেমাত্র কলি মেলে হাসছে, কোনোটি আবার পূর্ণাঙ্গ পাপড়ি মেলে সূর্যের প্রথম রশ্মিকে আলিঙ্গন করছে। কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলে তরুণ পদ্মের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হয়, আকাশের মেঘ আর মাটির জল একাকার হয়ে গেছে এক অলৌকিক মায়াজালে।


শহরের যান্ত্রিক কোলাহল, ইট-কাঠের নির্জীব চার দেওয়াল আর ব্যস্ততার আত্মাহুতি থেকে মুক্তি পেতে হাজারো গৃহকাতর মানুষ ছুটে আসেন এই নিভৃত স্বর্গে। তারা জলের ছোঁয়া নেন, পদ্মের পাপড়ির কোমলতায় খুঁজে পান আত্মিক শান্তি। কেউবা নিঃশব্দে অনুভূতির ছবি আঁকেন মনের ক্যানভাসে, কেউবা ক্যামেরার লেন্সে বন্দী করেন ক্ষণিকের অমরত্ব। তরুণদের কোলাহল, প্রবীণদের মুগ্ধ নিঃশ্বাস আর শিশুদের কলকাকলিতে শান্ত জলধি হয়ে ওঠে মুখরিত।

ঢাকার গুলশান থেকে আসা মো. নুরুজ্জামান নামে একজন বলেন, এখানকার পরিবেশটি খুব কোমল। আমার পরিবারের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করি সেখানে এক ধরনের চিড়িয়াখানার মতো থাকি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে, পদ্মবিলে নৌকা নিয়ে গিয়েছি মনে শান্তি লাগছে। 

ঢাকার বনস্রী থেকে আসা শাহিদা বেগম বলেন, এই পরিবেশে এত মুগ্ধ যা বলে বুঝানো যাবে না৷ তিনি আরও এই পদ্মবিলে জীবনে প্রথমবার আসলাম ঘুরে দেখলাম অনেক ভালো লেগেছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা তাসমিয়া আক্তার বলেন, এখানে এত ভালো লেগেছে, বাড়িতে যাওয়ার মন মানছে না। পরিবেশটা মুগ্ধ ছড়িয়ে রেখেছে। 

​প্রকৃতির এই রূপবদল শুধু যে কাব্যিক তৃষ্ণা মেটায় তা নয়, স্থানীয় জনজীবনের ক্যানভাসেও এঁকে দেয় এক টুকরো সচ্ছলতার হাসি। যে মাঝিরা বর্ষার জল নেমে গেলে কর্মহীনতায় ভোগেন, এই পদ্ম-মৌসুমে তাদের হাতে ওঠে বৈঠা। মৃদু ঢেউয়ের তালে তালে দর্শনার্থীদের বিলের গহীনে নিয়ে গিয়ে তারা উপার্জন করেন দু-মুঠো অন্ন। 

পদ্মবিলের মাঝি মো. শাহআলম মিয়া বলেন এই পদ্মবিলের কারণে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো উপার্জন হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। আমি দৈণিক ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারি।

আরেক মাঝি বিল্লাল হোসেন বলেন, পর্যটক এখন প্রতিদিন আসতেছে নৌকা নিয়ে তাদের পদ্ম ফুলের মাঝে নিয়ে যায় তারা অনেক আনন্দ করে। তাদের এই আনন্দ দেখে অনেক ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, এই পদ্মবিলের কারণে বর্ষার মৌসুমে আমরা বেকার অবস্থায় থাকতাম। এখন আর অবসর থাকতে হচ্ছে না এই বিলের কারণে। 

তবে এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে এক আকুল মিনতি। মানুষের অবাধ পদচারণায় অহেতুক ফুল ছিঁড়ে ফেলার উন্মাদনা বিলের স্বকীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্রকৃতির এই অবিনাশী সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা। 

পরিবেশ ও নদী সুরক্ষাবিষয়ক সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, শত শত বছর ধরে প্রকৃতি নিজের নিয়মে এই বিলকে সাজিয়েছে। অযথা ছবি তোলার জন্য বা সাময়িক আনন্দের বশে পদ্মফুল, পদ্মাকাঁট বা ফুলগাছ উপড়ে ফেলবেন না। আপনার ছেঁড়া একটি ফুল বিলের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করে। তিনি আরও বলেন পদ্মবিল অসংখ্য দেশি ও অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্র। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ বজায় রাখুন।