ঢাকা, সোমবার ০২, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৩:৫৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিলছে টানা ছুটি জামায়াত আমিরের মন্তব্যে নারীদের প্রতিবাদে তোলপাড় ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম: ১,৮০০ বিদেশি এজেন্সির চুক্তি স্থগিত নারী প্রার্থীদের প্রচারণায় নতুন জোর এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে আজ

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট: বাস্তবতা, যুক্তি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

আলম জাহান তালুকদার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৭ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯,০০০ রোহিঙ্গা মানুষকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এটি একটি জটিল এবং বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ও হিসেব বোঝা জরুরি, কারণ সাধারণ নাগরিকেরা এ বিষয়ে বিভ্রান্তি এবং প্রশ্নে ভুগছেন।

প্রথমত, মনে রাখতে হবে—এই পাসপোর্ট প্রদান বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রদান করে না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায়, তবে এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে না। 

তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান প্রেক্ষাপট হলো: বহু রোহিঙ্গা বহু বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছে; তাদের হাতে ১৯৭০‑৮০ এর দশকে দেওয়া পাসপোর্টগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে; আর সেই অস্পষ্ট আইনি অবস্থার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রবাসী হিসেবে তাদের আইনি থাকার ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়নের মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা করা হচ্ছে যাতে অবস্থান আরও বৈধভাবে নিশ্চিত করা যায়।

এই কাজটি সরকারের কাছে কোনো সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। পাসপোর্ট দিয়ে দেয়ায় আইনগত এবং নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন—কেন রাষ্ট্র এমন একটা পদক্ষেপ নিল, যেটা অনেকের কাছে “পররাষ্ট্রী সমঝোতা” থেকে কম, ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছু বলে মনে হয়।

এখানে কিছু যুক্তিগত দিক বিবেচনা করা জরুরি:

১) আইনি বাস্তবতা ও নাগরিকত্ব
পাসপোর্ট দেওয়ার মানে নাগরিকত্ব দেওয়া নয়—এটি কূটনৈতিকভাবে সরকার কর্তৃক স্থিতিকে সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের ভবিষ্যত হলো সেখানে পুনর্বাসন—এটাই আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী নয়।

২) আন্তর্জাতিক চাপ ও বাস্তবতা
সৌদি আরবের মতো দেশে দীর্ঘদিন অবস্থানরত মানুষের আইনি পরিস্থিতি যদি ঠিকঠাক না করা হয়, তাহলে বাস্তবে তারা অনিশ্চিত আইনি জায়গায় পড়ে যাবে—এটি শুধু প্রবাসী মানুষের জন্য সমস্যা নয়, বাংলাদেশের সম্পর্কে কূটনৈতিক ও শ্রম রপ্তানির ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৩) নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ঝুঁকি
একই সময়ে নজির রয়েছে এমন সমস্যার যেখানে ফেক তথ্য, জাল জন্মসনদ ও ন্যাশনাল আইডি‑পাসপোর্টের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা জালিভাবে নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেতে চেষ্টা করেছে—এটি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের হুমকি বলে বিচার করা হয়। সরকার ও নির্বাচন কমিশন এমন কারণে জাতিসংঘের ডাটাবেস ব্যবহারের মতো উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আইডেনটিটি যাচাই করা যায় এবং জালিয়াতি রোধ করা যায়।

৪) নীতিগত ও মানবিক বিবেচনা
মানবিক দিক দিয়ে, বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকা একজন মানুষের আইনি মর্যাদা নির্ধারণ করা সহজ নয়। বাংলাদেশই তাদের আশ্রয় দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসন—এটাই আন্তর্জাতিকভাবে লক্ষ্য হওয়া উচিত। নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট দেয়ার মতো সিদ্ধান্তের বদলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিকল্পনা দরকার।

শেষ কথা হিসেবে বলা যায়, এই ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু অভ্যন্তরীণ নয়—এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবাধিকার, আইনি বাস্তবতা এবং নিরাপত্তা‑নীতি সবকিছুকে স্পর্শ করে। সরকারের ভাবনা যেখানে ‘বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা’—সেটি বোঝা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসলে বড় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় নিশ্চিত করা।

এই নিয়মানুযায়ী কেবল সময়পত্রে পাসপোর্ট বিতরণ নয়—বরং স্থায়ী সমাধানের পথে দেশকে যেতে হবে। 

আলম জাহান তালুকদার: লেখক ও বিশ্লেষক।