ঢাকা, শুক্রবার ০১, মার্চ ২০২৪ ১৯:২০:৪২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বেইলি রোডে ভবনের আগুনে দগ্ধ কেউই শঙ্কামুক্ত নন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে স্বামীকে ফোন করে বাঁচার আর্তনাদ, পরে সন্তানসহ মিলল লাশ বেইলি রোডের আগুনে ভিকারুননিসার শিক্ষক ও তার মেয়ের মৃত্যু বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত বেড়ে ৪৫ বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক বেইলি রোডে আগুন : ২৫ মরদেহ হস্তান্তর

সারা দেশে গত বছর ৫১৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ শনিবার

আঁচল ফাউন্ডেশন।  ফাইল ছবি

আঁচল ফাউন্ডেশন। ফাইল ছবি

২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ৫১৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার করেছে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী ২২৭, কলেজ শিক্ষার্থী ১৪০, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৯৮ ও মাদরাসা শিক্ষার্থী রয়েছেন ৪৮ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ৩০৯ জন। আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ অভিমান ও প্রেমঘটিত সমস্যা।

আজ শনিবার আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‌‘২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এতথ্য জানানো হয়। 

১০৫টি জাতীয়, স্থানীয় সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার তথ্য সংগ্রহ করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, গত বছর সর্বমোট ৫১৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী ২২৭ জন (এই হার ৪৪ দশমিক ২), কলেজ শিক্ষার্থী ১৪০ জন (এই হার ২৭ দশমিক ২), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৯৮ জন (এই হার ১৯ দশমিক ১) ও মাদরাসা শিক্ষার্থী ৪৮ জন (এই হার ৯ দশমিক ৪)। ৫১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থী ছিল ২০৪ জন (এই হার ৩৯ দশমিক ৮)। অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থী ছিল ৩০৯ জন (এই হার ৬০ দশমিক ২)। 

এর আগে ২০২২ সালে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থী ছিল ৫৩২ জন। ২০২৩ সালে কিছুটা কমলেও ততটা আশানুরূপ নয়।

সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে যে বিভাগে: গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে আত্মহত্যা করেছে ১৪৯ শিক্ষার্থী। এরপরই চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৯, রাজশাহী বিভাগে ৭৭, খুলনা বিভাগে ৬৪, সিলেটে ১২, বরিশাল ও রংপুর উভয় বিভাগেই ৪৩ জন করে এবং ময়মনসিংহে ৩৬ জন আত্মহত্যা করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার সহায়ক পরিবেশ না থাকায় এখানে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি।

আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি: বলা হয়েছে, আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নারী শিক্ষার্থী। ৫১৩ শিক্ষার্থীর ৬০ দশমিক ২ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী গত এক বছরে আত্মহত্যা করেছে। শুধু নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ বিবেচনায় দেখা যায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী অভিমানে, প্রেমঘটিত কারণে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, পারিবারিক বিবাদের কারণে ৭ দশমিক ১ শতাংশ, যৌন হয়রানির কারণে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ও পড়াশোনার চাপে ৪ দশমিক ২ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একই হারে  আত্মহত্যার পথ বেছে নেন শিক্ষার্থীরা।

আত্মহত্যার কারণ: জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল অভিমান যা সংখ্যায় ১৬৫ জন বা ৩২ দশমিক ২ শতাংশ। এরপরেই প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী, পারিবারিক কলহজনিত কারণে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।

আরও দেখা গেছে, গত বছর পড়াশোনার চাপে আত্মহত্যার দিকে পা বাড়ান ৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বেঁচে থাকার পথ রুদ্ধ করেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও অপমানবোধ করে আত্মহত্যা করেন শূন্য দশমিক ৮।

পারিবারিক নির্যাতনে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, অপমানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ ও পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার কারণে ২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক পর্যালোচনা: আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্তর বিবেচনায় দেখা যায় সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করেছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। মোট আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের ২২৭ জনই অর্থাৎ ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ ছিল স্কুলগামী। এছাড়া আত্মহত্যাকারীদের মাঝে কলেজগামী শিক্ষার্থী ছিল ১৪০ জন যা ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছিল ৯৮ জন যা ১৯ দশমিক ১ শতাংশ ও আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে মাদরাসার শিক্ষার্থী রয়েছে ৪৮ জন (এই হার ৯ দশমিক ৫)।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কিশোর বয়সে হরমোনজনিত কারণে শিক্ষার্থীরা বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। যে কারণে তারা আত্মহত্যার মতো অতি আবেগীয় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকে।

কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকি বেশি: বয়ঃসন্ধিকালে নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আবার এই সময়টাতে বেশি রাগ অভিমান করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়।

আত্মহত্যাকারীদের বয়সভিত্তিক বিবেচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করেছেন ১৩-১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা যা সংখ্যায় ৩৪১ জন যা ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ২২২ জন নারী শিক্ষার্থী ও এর বিপরীতে পুরুষ শিক্ষার্থী ১১৯ জন। ২০-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২৬-৩০ বছরের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার ২ দশমিক ৩। ১-১২ বছরের শিক্ষার্থী ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আত্মহত্যা: উঠে এসেছে, ২০২৩ সালে মোট আত্মহত্যাকারী ৫১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৯৮ জন, যা মোট সংখ্যার ১৯ দশমিক ১ শতাংশ । এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ জন, সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন, মেডিকেল কলেজের ৬ জন, নার্সিং ইনস্টিটিউটের ৫ জন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, এবং অন্যান্য ১৫ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন করে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ব্যাপকহারে আত্মহত্যার পেছনে যে কারণটি দায়ী সেটি হলো প্রেমঘটিত কারণ যা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হয়েও ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

পূর্ববর্তী তথ্যানুসারে ২০২১ সালে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১০১ জন ও ২০২২ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৩২ জন।